স্কটল্যান্ডের পুরুষ ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) কর্তৃক ২০২৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ পেয়েছে এবং তা গ্রহণ করেছে। এই টুর্নামেন্টটি ভারত ও শ্রীলঙ্কা সহ-আয়োজক দেশ হিসেবে নির্ধারিত এবং গ্রুপ সিতে স্কটল্যান্ডের স্থান নিশ্চিত হয়েছে। গ্রুপ সিতে পূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংক দল ছিল, তবে তাদের প্রত্যাহারের পর স্কটল্যান্ডকে পরিবর্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আইসিসি কর্তৃক প্রেরিত চিঠিতে স্কটল্যান্ডের পুরুষ দলকে টি২০ বিশ্বকাপে অংশ নিতে আহ্বান জানানো হয় এবং স্কটল্যান্ডের কর্মকর্তারা তা স্বীকার করে। এই সিদ্ধান্তটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ স্কটল্যান্ডের অংশগ্রহণের মাধ্যমে গ্রুপ সিতে নতুন প্রতিযোগিতা যুক্ত হবে।
ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী ট্রুডি লিন্ডব্লেড উল্লেখ করেন, “আজ আইসিসি থেকে প্রাপ্ত আমন্ত্রণের পর আমরা তা গ্রহণ করেছি।” তিনি টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগকে স্কটল্যান্ডের খেলোয়াড়দের জন্য বৈশ্বিক মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার একটি উত্তেজনাপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেন।
লিন্ডব্লেড আরও জানান, স্কটল্যান্ডের দল কয়েক সপ্তাহ ধরে আসন্ন সফরের প্রস্তুতিতে প্রশিক্ষণ চালিয়ে আসছে এবং শীঘ্রই ভারতীয় মাটিতে পৌঁছে স্থানীয় পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে চায়। দলটি প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে এবং আইসিসি পুরুষ টি২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছে।
ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের চেয়ারম্যান উইলফ ওয়ালশও একই দিনে আইসিসি চেয়ার জে শাহের সঙ্গে ফোনে কথা বলে স্কটল্যান্ডের আমন্ত্রণ নিশ্চিত হওয়ার কথা জানেন। তিনি দলের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ গ্রহণের আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা প্রস্তুত এবং এই সুযোগের জন্য আইসিসি-কে ধন্যবাদ জানাই।”
বাংলাদেশ ব্যাংক দলটি টুর্নামেন্ট থেকে প্রত্যাহার করার পরে আইসিসি স্কটল্যান্ডকে গ্রুপ সিতে স্থান প্রদান করেছে। এই পরিবর্তনটি আইসিসি কর্তৃক দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফল, যা টুর্নামেন্টের সময়সূচি বজায় রাখতে সহায়তা করেছে। স্কটল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তি টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতামূলক গঠনকে সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গ্রুপ সিতে স্কটল্যান্ডের প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর তালিকা এখনো চূড়ান্ত না হলেও, দলটি ইতিমধ্যে ভারতীয় শর্তে অভ্যস্ত হতে প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রস্তুতি পর্যায়ে স্থানীয় পিচ ও আবহাওয়ার সাথে সামঞ্জস্য করার জন্য বিশেষ সেশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্কটল্যান্ডের খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শনের জন্য এই সুযোগকে মূল্যবান বলে বিবেচনা করছে। তারা টুর্নামেন্টের সময় ভক্তদের সমর্থন ও মনোযোগ আকর্ষণ করতে প্রস্তুত, যা দলের মনোবল বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আইসিসি এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে টি২০ বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতামূলক মান বজায় রাখতে এবং সকল অংশগ্রহণকারী দেশের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে চায়। স্কটল্যান্ডের অংশগ্রহণের ফলে টুর্নামেন্টের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পাবে এবং ক্রিকেটের গ্লোবাল আকর্ষণ আরও প্রসারিত হবে।



