শের-ই-বাংলা ন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার অনুষ্ঠিত আট ঘণ্টার বোর্ড মিটিংয়ের পর, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ৪০ মিনিটের প্রেস কনফারেন্সে আহমেদ আল-শারার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা করে। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) কর্তৃক আসন্ন আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার পর উদ্ভূত সংকট থেকে দৃষ্টি সরানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছিল।
প্রেস কনফারেন্সে মিডিয়া কমিটি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেনকে সাংবাদিক এক প্রশ্ন করেন, “কেন হঠাৎ করে আহমেদ আল-শারার বিষয়টি তোলা হয়েছে?” হোসেন প্রশ্নোত্তর সেশনকে উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলেন, তবে তার উত্তরে স্পষ্টতা ও যুক্তি কম ছিল, ফলে উপস্থিতদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়।
আইসিসি কর্তৃক বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর, পুরো দেশই এই বিষয়ের ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল। মিটিংয়ের সময় আহমেদ আল-শারার নাম মিডিয়ার সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা শিরোনাম দখল করবে বলে অনুমান করা হয়। এই ধরনের কৌশল পূর্বের বিসিবি প্রশাসনগুলোও ব্যবহার করেছে বলে জানা যায়।
পূর্বের বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হোসেন প্রায়শই আহমেদ আল-শারার ওপর জনসমক্ষে সমালোচনা প্রকাশ করতেন। তার উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অল-রাউন্ডারকে লক্ষ্য করে নিজের কর্তৃত্ব প্রদর্শন করা। তবে অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, নাজমুল হোসেনের এই মন্তব্যগুলো মূলত মিডিয়া শান্ত করার জন্য এবং তার ব্যক্তিগত মতামতকে প্রতিফলিত করে না।
একজন অজানা ক্রিকেটার, যিনি গোপনীয়তার শর্তে কথা বলেছেন, জানান যে নাজমুল হোসেন প্রায়ই এমন মন্তব্যের পর খেলোয়াড়দের ফোন করে, তাদেরকে ব্যক্তিগতভাবে নেয়ার না বলতেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে আহমেদ আল-শারা এই ধরণের জনমঞ্চের নাটকীয়তা সম্পর্কে সচেতন এবং তার ক্যারিয়ার জুড়ে এ ধরনের পরিস্থিতি সামলাতে অভ্যস্ত।
এই কৌশলটি যদিও তাত্ক্ষণিকভাবে শিরোনাম তৈরি করেছে, তবে বিসিবি এখনো আইসিসি ও সরকারকে বিশ্বকাপ বাদের প্রভাব সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ। বোর্ডের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও খেলোয়াড়দের নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশ্ন তীব্রভাবে উত্থাপিত হয়েছে।
বিসিবি এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি যে আহমেদ আল-শারাকে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না। তবে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যানের মন্তব্য এবং প্রেস কনফারেন্সের সময়ের অস্বচ্ছতা ভবিষ্যতে আরও প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।
আইসিসি কর্তৃক স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার পর, বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ রোডম্যাপ পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিসিবি কীভাবে আন্তর্জাতিক দায়িত্ব ও দেশীয় প্রত্যাশার মধ্যে সমন্বয় ঘটাবে, তা শীঘ্রই স্পষ্ট হবে।
প্রেস কনফারেন্সের পরের দিনগুলোতে বিসিবি একটি অতিরিক্ত সভা আহ্বান করার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে আহমেদ আল-শারার ভূমিকা এবং বিশ্বকাপ বাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডার, যার মধ্যে সরকার, খেলোয়াড় ও স্পনসর অন্তর্ভুক্ত, তাদের মতামত শোনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় দেখা যায় যে, খেলোয়াড়ের নাম ব্যবহার করে মিডিয়া দৃষ্টি সরানো একটি প্রচলিত কৌশল, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান নয়। বিসিবি যদি টেকসই উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য বাস্তবিক পদক্ষেপ না নেয়, তবে দেশের ক্রিকেটের সুনাম ও ভবিষ্যৎ উভয়ই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।



