লন্ডনে কাজ করা কসমেটিক সার্জন ডা. জয়ন খালিদ মজিদ অস্ট্রেলিয়ায় ট্রয় সিভান নামের পপ গায়কের সাম্প্রতিক উপস্থিতি নিয়ে দুই মিনিটের একটি টিকটক ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তিনি গায়কের মুখের কিছু অংশকে “সমস্যা” হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং তা নিয়ে বিশ্লেষণ করেন।
ভিডিওটি টিকটকে প্রকাশের পর দ্রুতই ২৫ লক্ষেরও বেশি দর্শকের নজরে আসে। মজিদ গায়কের রেড কার্পেট সাক্ষাৎকারের ফুটেজ ও স্টুডিও ছবির তুলনা করে মুখের ছায়া ও আয়তনের হ্রাসের কথা উল্লেখ করেন। তিনি সম্ভাব্য কসমেটিক প্রক্রিয়ার উদাহরণও তুলে ধরেন। ভিডিওটি দুই মিনিটের হলেও শেয়ার ও মন্তব্যের পরিমাণে বিশাল সাড়া পায়।
অনেক ফ্যান এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যবহারকারী মজিদের এই “অনুরোধবিহীন” পরামর্শকে আক্রমণাত্মক বলে সমালোচনা করেন। গায়কের চেহারা নিয়ে মন্তব্য করা তার ব্যক্তিগত সীমা লঙ্ঘন করেছে বলে তারা অভিযোগ করেন। মন্তব্যে গায়কের স্ব-ইমেজের প্রতি আঘাতের ইঙ্গিতও উঠে আসে। কিছু ফ্যান মজিদের পেশাদারী দায়িত্ব ও নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
ট্রয় সিভান নিজে সাবস্ট্যাকের মাধ্যমে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করে জানান যে ভিডিওটি তার দীর্ঘদিনের শারীরিক অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি লিখে বলেন যে এই ধরনের অপ্রত্যাশিত সমালোচনা তাকে কসমেটিক সার্জারির কথা ভাবতে বাধ্য করেছে। তার বক্তব্যে আত্মমর্যাদা ও দেহগত উদ্বেগের গভীরতা প্রকাশ পায়। সিভান তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে তিনি থেরাপি ও সমর্থন গ্রুপের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছেন।
সিভান তার ক্যারিয়ার শুরু থেকেই “টুইঙ্ক” চিত্রের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। “টুইঙ্ক” শব্দটি তরুণ, স্লিম গে পুরুষদের বয়সী ও ছেলেবেলায় দৃষ্টিকোণকে নির্দেশ করে, এবং গায়কের ছবি গুগল ও উইকিপিডিয়ার সংজ্ঞা পৃষ্ঠায় প্রায়শই দেখা যায়। এই চিত্রই তার জনপ্রিয়তার একটি মূল ভিত্তি।
মজিদের ভিডিওতে তিনি গায়কের মুখের ছায়া, আয়তনের হ্রাস এবং ত্বকের টেক্সচারের পরিবর্তনকে “সমস্যা” হিসেবে তুলে ধরেন। এরপর তিনি কল্পনা করেন যে সিভান তার রোগী হলে কী ধরনের ত্বক বুস্টার, ডার্মাল ফিলার ইত্যাদি প্রয়োগ করা যেতে পারে। এসব প্রস্তাবনা বেশিরভাগই কসমেটিক প্রক্রিয়ার উপর ভিত্তি করে। তিনি ত্বকের টোন সমন্বয় ও মুখের গঠন ঠিক করার জন্য লেজার থেরাপি উল্লেখ করেন।
সামাজিক মাধ্যমে মজিদের অনুসারী সংখ্যা ২.৫ লক্ষেরও বেশি, যা তাকে তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রভাবশালী করে তুলেছে। তার ভিডিওগুলো প্রায়শই সৌন্দর্য ও শারীরিক রূপান্তরের টিপস হিসেবে প্রচারিত হয়। এই প্রভাবের কারণে তার মন্তব্যগুলোকে অধিক সংবেদনশীলতা সহকারে গ্রহণ করা হয়।
ভিডিওটি মুছে ফেলা এবং সরাসরি সিভানের কাছে ক্ষমা চাওয়ার পর মজিদ বিবিসি নিউজবিটকে জানান যে তিনি ভবিষ্যতে আরও ইতিবাচক বিষয়বস্তু তৈরি করার চেষ্টা করবেন। তিনি স্বীকার করেন যে তার মন্তব্য গায়কের আত্মবিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই প্রকাশে তিনি দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি দায়িত্ববোধের ইঙ্গিত দেন।
মজিদের মতে, কসমেটিক ক্ষেত্রের তথ্য শেয়ার করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা ব্যক্তিগত সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়। তিনি উল্লেখ করেন যে এখন থেকে তিনি কেবল শিক্ষামূলক ও স্বাস্থ্যকর দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়বস্তু তৈরি করবেন। তার এই প্রতিশ্রুতি অনুসারীদের কাছেও ইতিবাচক সাড়া পায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ভবিষ্যতে তিনি শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক ভিত্তিক তথ্য শেয়ার করবেন।
এই ঘটনা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অপ্রত্যাশিত শারীরিক সমালোচনার সীমা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে সেলিব্রিটি ও পাবলিক ফিগারদের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত দেহের বিষয়কে জনসাধারণের আলোচনার বিষয় বানানো কতটা নৈতিক, তা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। সামাজিক মিডিয়ার নিয়মাবলী ও নৈতিকতা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে। কিছু প্ল্যাটফর্ম এখন এই ধরনের বিষয়ের জন্য স্পষ্ট গাইডলাইন তৈরি করার প্রস্তাব দিচ্ছে।
ট্রয় সিভান তার গায়ন ও অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি অর্জন করেছে এবং তরুণ গে সম্প্রদায়ের জন্য একটি আইডল হিসেবে বিবেচিত। তার স্ব-ইমেজের প্রতি আঘাত তার মানসিক স্বাস্থ্যের



