23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যগ্লাসগো হসপিটালের পানির সিস্টেমে সংক্রমণ, বাবা-মা শেষমেশ স্বীকারে

গ্লাসগো হসপিটালের পানির সিস্টেমে সংক্রমণ, বাবা-মা শেষমেশ স্বীকারে

গ্লাসগোর কুইন এলিজাবেথ ইউনিভার্সিটি হসপিটালের পানির ও বায়ু চলাচল ব্যবস্থা রোগীর সংক্রমণের কারণ হতে পারে বলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ শেষমেশ স্বীকার করেছে। এই স্বীকারোক্তি দুইজন মা, ক্যারেন স্টিরাট এবং চার্মেইন ল্যাকক, যাঁদের সন্তান ক্যান্সার চিকিৎসার সময় সংক্রমণের শিকার হয়েছিল, তাদের দীর্ঘকালীন প্রচেষ্টার ফল।

কুইন এলিজাবেথ ইউনিভার্সিটি হসপিটাল, স্কটল্যান্ডের প্রধান সুপার হসপিটাল হিসেবে পরিচিত, ২০১৫ সালে উদ্বোধন হয়। তবে রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নির্মাণে ব্যবহৃত পানির ও ভেন্টিলেশন সিস্টেমের গুণগত মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ পায়। রোগী ও তাদের পরিবারগুলো জানায় যে, রোগীর ইমিউন সিস্টেম দুর্বল থাকায় এই সিস্টেমগুলোতে কোনো ত্রুটি সংক্রমণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

ক্যারেন স্টিরাট ও চার্মেইন ল্যাকক ২০১৮ সালের শেষের দিকে তাদের সন্তানদের সংক্রমণের ঘটনা লক্ষ্য করেন। তারা অন্যান্য পরিবারদের সঙ্গে মিলিত হয়ে হসপিটালের নির্মাণ গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন। তাদের দাবি ছিল যে, হসপিটালের পানির ট্যাংক ও এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেমে ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাসের উপস্থিতি রোগীর সংক্রমণের মূল কারণ হতে পারে।

সংক্রমণের ফলে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়, কিছু রোগীকে অতিরিক্ত জটিলতা ও মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়। হসপিটালের রেকর্ডে দেখা যায়, ক্যান্সার বা রক্তজনিত রোগে আক্রান্ত বহু শিশুর স্বাস্থ্য অবনতিতে এই সংক্রমণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে হসপিটাল কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এই দিকটি স্বীকার করতে অস্বীকার করে।

প্রাথমিকভাবে হসপিটাল প্রশাসন দাবি করে যে, রোগীর সংক্রমণ অন্য কোনো কারণের ফল, যেমন রোগীর নিজস্ব ইমিউন দুর্বলতা বা চিকিৎসা প্রক্রিয়ার জটিলতা। তারা পানির সিস্টেমের গুণগত মান নিয়ে কোনো ত্রুটি নেই বলে দাবি করে, এবং পরিবারগুলোর উদ্বেগকে অযৌক্তিক বলে খারিজ করে। এই অবস্থায় পরিবারগুলোকে প্রায়শই গ্যাসলিটিং এবং তথ্য গোপন করার অভিযোগ করা হয়।

বছরের পর বছর পরিবারগুলো একত্রে প্রতিবাদ চালিয়ে যায়, মিডিয়ার মাধ্যমে তাদের কণ্ঠ শোনাতে চেষ্টা করে এবং হসপিটালের গুণগত মানের উপর স্বচ্ছতা দাবি করে। তারা জানায় যে, প্রাথমিক পর্যায়ে তাদের অভিযোগ উপেক্ষা করা হয় এবং তাদেরকে কল্পনা করা হচ্ছে। এই সময়ে তারা নিজে থেকেই তথ্য সংগ্রহ করে এবং অন্যান্য রোগীর অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করে একটি যৌথ দাবি তৈরি করে।

গত সপ্তাহে NHS গ্রেটার গ্লাসগো অ্যান্ড ক্লাইড (NHS Greater Glasgow and Clyde) হসপিটালের সিদ্ধান্তে বড় পরিবর্তন আনে। তারা জানায় যে, “সম্ভাব্যতা ভিত্তিতে” হসপিটালের পরিবেশ, বিশেষ করে পানির সিস্টেম, কিছু সংক্রমণের কারণ হতে পারে। এই স্বীকারোক্তি হসপিটালের পূর্বের অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত, যেখানে তারা কোনো দায় স্বীকার করেনি।

স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হসপিটালের পানির ট্যাংক, শাওয়ার ও স্যানিটারি সুবিধার নলিকায় ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাল স্পোরের উপস্থিতি রোগীর সংক্রমণে ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া বায়ু চলাচল ব্যবস্থা যথাযথভাবে ফিল্টার না হওয়ায় রোগীর শ্বাসযন্ত্রে ক্ষতিকর উপাদান প্রবেশের সম্ভাবনা বাড়ে। এই বিশ্লেষণটি একটি পাবলিক ইনকোয়ারির সমাপনী জমায়েতের অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

ইনকোয়ারির চূড়ান্ত রিপোর্টে হসপিটালের পূর্বের অবস্থানকে বিরোধী করে এই নতুন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। যদিও এই স্বীকারোক্তি পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘ সময়ের পর এসেছে, তবু এটি হসপিটালের গুণগত মানের পুনর্মূল্যায়নের সূচনা হতে পারে। তবে পরিবারগুলো এই স্বীকারোক্তিকে “বহু দেরি হয়ে যাওয়া” এবং “অপর্যাপ্ত” বলে সমালোচনা করে।

ক্যারেন স্টিরাট বলেন, “এখনই স্বীকার করা হয়েছে, কিন্তু এতদিনের কষ্ট ও ক্ষতি ফিরিয়ে আনা যায় না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এই স্বীকারোক্তি রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সূচনা হওয়া উচিত, না যে শেষ মুহূর্তে করা একটি ক্ষতিপূরণমূলক কাজ।

চার্মেইন ল্যাককের কন্যা পেইজ ২০১৯ সালের শুরুর দিকে ক্যান্সার চিকিৎসার সময় একটি জীবন-হুমকিস্বরূপ সংক্রমণে আক্রান্ত হয়। ডাক্তারদের জানার পর তিনি তৎক্ষণাৎ শোকাহত হন, কারণ তিনি মনে করেন তার সন্তানকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে হসপিটাল বেছে নিয়েছিলেন। পেইজের সংক্রমণ দ্রুত অগ্রসর হয়ে তার শারীরিক অবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করে।

সতর্ক চিকিৎসা ও অতিরিক্ত যত্নের ফলে পেইজ শেষ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ওঠে এবং বর্তমানে ক্যান্সার মুক্ত। যদিও তার স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার হয়েছে, পরিবারটি এখনও হসপিটালের গুণগত মানের পুনর্মূল্যায়ন ও ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধের জন্য কঠোর ব্যবস্থা চায়।

এই ঘটনার পর হসপিটাল কর্তৃপক্ষ পানির সিস্টেমের সম্পূর্ণ পর্যালোচনা ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা প্রণয়ন করার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি, রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন মানদণ্ড ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রোগী ও পরিবারদের জন্য এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে: ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরায় ঘটবে কি না, এবং কীভাবে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments