মিনিয়াপলিসে ফেডারেল সীমানা রক্ষী এজেন্টের গুলিতে ২৪ জানুয়ারি রাত ৯:০৫ টায় (স্থানীয় সময়) এক নাগরিকের মৃত্যু ঘটেছে। শিকার ছিলেন ৩৭ বছর বয়সী অ্যালেক্স প্রেট্টি, যিনি শহরের এক হাসপাতালের নার্স হিসেবে কাজ করতেন এবং আইনগতভাবে অস্ত্রধারী ছিলেন।
প্রেট্টি মিনিয়াপলিসের বাসিন্দা এবং তার পূর্বের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই; পুলিশ জানায় তার একমাত্র পরিচিত আইনগত সংস্পর্শ ছিল পার্কিং টিকিটের বিষয়। ঘটনাস্থল ছিল নিকোলেট অ্যাভিনিউর একটি কফি ও ডোনাট শপ, যেখানে ক্যামেরা রেকর্ডে এজেন্টদের প্রেট্টিকে ঘিরে তাকে মাটিতে নামিয়ে গুলি করার মুহূর্ত ধরা পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায় এজেন্টরা তাকে কয়েকবার আঘাত করে নিচু করে, তারপর গুলির শব্দ শোনা যায় এবং প্রেট্টি মাটিতে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ গুলির পর প্রেট্টি যে অস্ত্র বহন করছিল তা প্রকাশ করে, যা ৯মিমি সেমি-অটোমেটিক হ্যান্ডগান হিসেবে চিহ্নিত। বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে গুলির সময় স্থানীয় সময়ে ৯:০৫ টা (গ্রীনউইচ মিডিয়ান টাইমে ১৫:০৫) ছিল এবং গুলি করা এজেন্টটি ফেডারেল সীমানা রক্ষী।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মুখপাত্র ট্রিশিয়া ম্যাকলফ্লিনের মতে, এজেন্টরা একটি “লক্ষ্যভিত্তিক অপারেশন” চালাচ্ছিলেন, যেখানে একটি “হিংসাত্মক আক্রমণের জন্য চাওয়া অবৈধ অভিবাসী”কে গ্রেফতার করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। অপারেশনের সময় সন্দেহভাজন ৯মিমি হ্যান্ডগান নিয়ে উপস্থিত হন, এবং এজেন্টরা তাকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করার সময় তিনি জোরে প্রতিরোধ করেন। এজেন্টরা নিজের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য গুলি চালায়।
প্রেট্টি হত্যার পর শহরে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। প্রতিবাদকারীরা আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এর মিনিয়াপলিসে পরিচালিত অপারেশনকে নিন্দা করে এবং ফেডারেল এজেন্টদের উপস্থিতি বিরোধিতা করে। পুলিশ টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে ভিড়কে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, যা পরিস্থিতি আরও উত্তেজিত করে।
এই উত্তেজনা মূলত ৬ জানুয়ারি ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ২,০০০ ফেডারেল এজেন্টকে মিনিয়াপলিসে মোতায়েনের পর থেকে বাড়ছে। এজেন্টদের মোতায়েনের পেছনে ছিল রাজ্যের কল্যাণভ্রষ্টতা (ওয়েলফেয়ার ফ্রড) অভিযোগ, যা ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে স্থানীয় আইন প্রয়োগে সহায়তা করার অনুমতি দেয়।
আইসিই গত বছর শেষের দিকে মিনিয়াপলিসে এমন একটি ক্যাম্পেইন চালু করেছিল, যেখানে ডিপোর্টেশন অর্ডারপ্রাপ্ত অভিবাসী, বিশেষ করে সোমালি সম্প্রদায়ের সদস্যদের লক্ষ্য করা হয়। এজেন্টদের আগমনের পর থেকে শহরে ধারাবাহিক প্রতিবাদ এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
প্রথম গুলি ঘটনাটি ৮ জানুয়ারি ঘটেছিল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক রেনি নিকোল গুড গুলিতে নিহত হন। গুডের মৃত্যু শহরের প্রতিবাদকে তীব্রতর করে এবং ফেডারেল এজেন্টের বিরুদ্ধে জনমতকে কঠোর করে তুলেছে। প্রেট্টির মৃত্যু এই ধারাকে অব্যাহত রাখে।
স্থানীয় ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষ গুলির পর দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ গুলির ভিডিও রেকর্ড, গুলি করা অস্ত্র এবং ঘটনাস্থলের সাক্ষীদের বিবরণ সংগ্রহ করছে। মিনিয়াপলিস পুলিশও নিজস্ব তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে এজেন্টদের কাজের বৈধতা এবং শিকারের প্রতিরোধের মাত্রা নির্ণয় করা যায়।
অধিক তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী ফেডারেল এজেন্টের কাজের ওপর আইনি পর্যালোচনা হবে এবং প্রয়োজন হলে আদালতে মামলাও দায়ের করা হতে পারে। বর্তমানে ফেডারেল সরকার গুলির সঠিক কারণ এবং শিকারের আচরণ সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের অপারেশন কীভাবে পরিচালিত হবে এবং কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও নীতি নির্ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে।



