স্টেফানি আহনের পরিচালনায় তৈরি ‘বেডফোর্ড পার্ক’ সানডান্স চলচ্চিত্র উৎসবে যুক্তরাষ্ট্রের নাট্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে। ১ ঘণ্টা ৫৯ মিনিটের এই ড্রামা, কোরিয়ান‑আমেরিকান মিলেনিয়ালদের পরিচয় ও পারিবারিক দায়িত্বের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। প্রধান চরিত্র অড্রি (মুন চোই), ৩৬ বছর বয়সী শারীরিক থেরাপিস্ট, ব্রুকলিনের ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টে একা বসবাস করেন এবং কাজের পাশাপাশি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে সক্রিয় যৌন জীবন উপভোগ করেন।
অড্রির পেশাগত জীবন স্থিতিশীল হলেও তার অভ্যন্তরীণ অবস্থা অস্থির। তিনি নিজের লক্ষ্য হারিয়ে ফেলেছেন বলে মনে করেন, এমনকি তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী ছিল তা স্মরণ করতে পারছেন না। এই অস্থিরতা তাকে এক ধরনের মানসিক অন্ধকারে টেনে নিয়ে যায়, যেখানে তিনি নিজের পরিচয় ও জীবনের দিকনির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন।
একদিন অড্রির মা (ওন মি-ক্যুং) গাড়ি দুর্ঘটনায় কাঁধে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। দুর্ঘটনায় অড্রির সঙ্গে একই সময়ে জড়িত ছিলেন ইলি (সন সুক্কু), যিনি প্রাক্তন রেসলিং খেলোয়াড় এবং স্বভাবতই কঠোর স্বভাবের অধিকারী। এই ঘটনার ফলে অড্রি নিউ জার্সির উপশহরে অবস্থিত তার পারিবারিক বাড়িতে ফিরে আসতে বাধ্য হন, যেখানে তাকে মা ও ইলির বীমা ও মেরামত সংক্রান্ত কাজগুলো সামলাতে হয়।
অড্রি ও ইলির প্রথম সাক্ষাৎ উত্তেজনাপূর্ণ হয়; দুজনের মধ্যে তীব্র কথোপকথন, অভিযোগ এবং রুক্ষ শব্দের আদানপ্রদান হয়। তর্কের মাঝখানে ফলের টুকরো ছুঁড়ে ফেলা পর্যন্ত যায়, যা তাদের সম্পর্কের সূচনা হিসেবে কাজ করে। যদিও প্রথমে তারা একে অপরকে বিরোধী হিসেবে দেখেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুজনের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া গড়ে ওঠে।
ফিল্মটি কোরিয়ান‑আমেরিকান পরিচয়ের জটিলতা ও পারিবারিক দায়িত্বের ভারকে সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরে। অড্রি ও ইলির সম্পর্কের মাধ্যমে দুইজনই নিজেদের অতীতের ছায়া ও বর্তমানের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন, যা তাদের আত্ম-অন্বেষণের পথে ধাবিত করে। এই প্রক্রিয়ায় অড্রি নিজের পরিচয়, তার মা ও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলেন।
স্টেফানি আহনের প্রথম পরিচালনায় দৃশ্যমান শৈলী সরল ও অতিরিক্ত অলংকরণহীন। ক্যামেরা কাজ সূক্ষ্ম বিবরণে মনোযোগ দেয়, যা চরিত্রের অভ্যন্তরীণ অনুভূতিকে দৃশ্যমান করে। সাউন্ডট্র্যাক ও রঙের ব্যবহার মৃদু তবে গভীর, যা গল্পের মধুর-তিক্ত স্বরকে সমর্থন করে।
চিত্রে গ্যারি ফোস্টার, ক্রিস এস. লি, নিনা ইয়াং বংগিওভি, থেরেসা কাং এবং সন সুক্কু সহ একাধিক অভিনেতা অংশগ্রহণ করেছেন। স্টেফানি আহন, যিনি স্ক্রিপ্টও লিখেছেন, তার প্রথম পরিচালনায় এই কাস্টের পারফরম্যান্সকে সমন্বিতভাবে উপস্থাপন করেছেন। চলচ্চিত্রের গতি মাঝারি, তবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে ধীর গতি ব্যবহার করে চরিত্রের মানসিক অবস্থা গভীরভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
সানডান্সে প্রদর্শনের পর দর্শক ও সমালোচকরা ফিল্মের সূক্ষ্ম বর্ণনা ও বাস্তবধর্মী চরিত্রচিত্রণকে প্রশংসা করেছেন। যদিও গল্পের গতি কখনও কখনও ধীর মনে হতে পারে, তবে তা চরিত্রের অভ্যন্তরীণ যাত্রাকে স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করতে সহায়তা করে। ফিল্মের টোন কোমল, তবে অতিরিক্ত রোমান্টিক নয়; এটি বাস্তব জীবনের জটিলতা ও মানবিক দুর্বলতাকে সৎভাবে উপস্থাপন করে।
সামগ্রিকভাবে ‘বেডফোর্ড পার্ক’ কোরিয়ান‑আমেরিকান সম্প্রদায়ের অভিজ্ঞতা ও আধুনিক একক জীবনের চ্যালেঞ্জকে সংবেদনশীলভাবে চিত্রিত করেছে। স্টেফানি আহনের সূক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গি ও চরিত্রের গভীর বিশ্লেষণ চলচ্চিত্রকে একটি মূল্যবান শিল্পকর্মে রূপান্তরিত করেছে। যারা মানবিক সম্পর্কের সূক্ষ্মতা ও আত্ম-অন্বেষণের গল্পে আগ্রহী, তাদের জন্য এই ফিল্মটি অবশ্যই দেখার যোগ্য।



