28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধযৌবেল হাসান দাসসাম জশোর কারাগারে স্ত্রীর ও শিশুর দেহ দেখেন, শেষ বিদায়

যৌবেল হাসান দাসসাম জশোর কারাগারে স্ত্রীর ও শিশুর দেহ দেখেন, শেষ বিদায়

যৌবেল হাসান দাসসাম, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের (বিসিএল) নেতা, গতকাল জশোর সেন্ট্রাল জেল থেকে তার স্ত্রী ও নবজাতক পুত্রের দেহ দেখার সুযোগ পান। ২২ বছর বয়সী কনিজ সুভর্ণা স্বর্ণালী এবং তাদের নয় মাসের শিশুকে বাগেরহাটের সাবেকডাঙ্গা এলাকায় পাওয়া মৃতদেহ থেকে সন্ধ্যায় জেলায় নিয়ে আসা হয়। দাসসামকে শেষবারের মতো তাদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়, যা উপস্থিত সবাইকে গভীর শোকের মধ্যে ফেলেছে।

দাসসাম বর্তমানে জশোর সেন্ট্রাল জেলেতে বহু মামলার কারণে আটক আছেন। তার স্ত্রী ও শিশুর মৃত্যু ঘটেছে ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার, যখন স্বর্ণালী তার বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিলেন। পরিবারের কথামতো, স্বর্ণালী প্রথমে শিশুকে হত্যা করেন এবং পরে আত্মহত্যা করেন। এই ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দেহ উদ্ধার করে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠায়।

পরিবারের সূত্রে জানা যায়, দাসসামের মা, বোন, স্ত্রী ও শিশুরা একসাথে তার বাড়িতে বাস করতেন। দাসসাম জেল থেকে মাঝে মাঝে তার স্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠাতেন, যেখানে তিনি শীঘ্রই মুক্তি পাবেন বলে আশ্বাস দিতেন। এই ধরনের বার্তা স্বর্ণালীর মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিয়েছিল বলে পরিবার দাবি করে।

স্বর্ণালীকে জানানো হয়, দাসসাম দীর্ঘ সময় জেলে থাকায় তার মানসিক অবস্থা দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। তিনি বহুবার স্বামীর মুক্তি চাওয়ার চেষ্টা করলেও কোনো সাফল্য পাননি, ফলে হতাশা ও নিঃসঙ্গতা বাড়ে। পরিবার জানায়, স্বর্ণালী স্বামীর প্রতি গভীর স্নেহ পোষণ করতেন, তবে অবিরাম অনিশ্চয়তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়।

জশোর কারাগার সুপারিনটেন্ডেন্ট আবিদ আহমেদ জানান, দাসসামকে ১৫ ডিসেম্বর থেকে এই কারাগারে স্থানান্তর করা হয় এবং আজ সন্ধ্যায় দেহগুলো যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জেলায় আনা হয়। দাসসামকে দেহ দেখার পর আবার তার ওয়ার্ডে ফেরত পাঠানো হয়। তিনি উল্লেখ করেন, দেহ দেখার সময় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়।

স্থানীয় পুলিশ তদন্তের অধীনে রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে স্বর্ণালীর আত্মহত্যা ও শিশুর হত্যার কারণ নির্ণয়ের জন্য ফরেনসিক রিপোর্ট, মৃতদেহের টক্সিকোলজি এবং বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরা রেকর্ড পরীক্ষা করা হবে। এছাড়া, দাসসামের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর সাথে যুক্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে তা আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

দাসসামের আইনজীবী ইতিমধ্যে পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং আদালতে দাসসামকে মানসিক চাপের শিকার হিসেবে বিবেচনা করার দাবি জানাবেন বলে জানিয়েছেন। তবে, বর্তমানে কোনো আনুষ্ঠানিক আদালতিক সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি।

এই ঘটনার পর জশোর জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে এবং দাসসামের পরিবারের জন্য মানসিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কথা। ভবিষ্যতে এই মামলায় কীভাবে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে, তা তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল।

সামগ্রিকভাবে, এই দুঃখজনক ঘটনা জশোর ও বাগেরহাটের স্থানীয় সমাজে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। দাসসামের দীর্ঘকালীন কারাবাস, তার পরিবারের মানসিক অবস্থা এবং ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments