ঢাকা শহরের একটি হোটেলে শনিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা উল্লেখ করেছেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপ্রিয় এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করবে এবং এই সমর্থন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
প্রণয় ভার্মা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ের যৌথ ত্যাগের স্মৃতি তুলে ধরে বললেন, দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধন গড়ে উঠেছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বন্ধন আরও মজবুত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগের পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা উভয় দেশের সমাজ, জনগণ এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে কাছাকাছি এনেছে।
শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য। ভারতীয় শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহের জন্য আন্তসীমান্ত পাইপলাইন চালু হয়েছে এবং ভারত ও নেপাল উভয় দেশের গ্রিড থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ প্রবাহের জন্য আন্তসীমান্ত লাইন স্থাপিত হয়েছে। এই প্রকল্পগুলো জ্বালানি সংযুক্তির ভিত্তি গড়ে তুলেছে এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতিকে ত্বরান্বিত করছে।
ভারতীয় হাইকমিশনার জোর দিয়ে বলেন, এই জ্বালানি অবকাঠামো বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল তৈরি পোশাক ও ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পকে শক্তিশালী করছে, যা পারস্পরিক নির্ভরশীলতার বাস্তব উদাহরণ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দুই দেশের ব্যবসায়িক সংযোগের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমে এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ছে।
প্রণয় ভার্মা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে গার্মেন্টস ও ফার্মা সেক্টরের উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক নয়, কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, এই সাফল্যগুলো ভবিষ্যতে আরও দূরদর্শী সহযোগিতা অনুসন্ধানের প্রেরণা দেবে এবং নতুন প্রকল্পের সূচনার জন্য ভিত্তি তৈরি করবে।
ভারতীয় প্রতিনিধি দল ভবিষ্যতে জ্বালানি, অবকাঠামো, বাণিজ্য এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। তিনি শেষ কথা বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সাফল্যের কামনা করছি এবং গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত রাখব।” এই বক্তব্যে ভারতীয় পার্টনারশিপের দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়েছে।
অনুষ্ঠানে রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়িক প্রতিনিধি, কূটনীতিক, শিল্পী, সাংবাদিক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন, যা দুই দেশের সম্পর্কের বহুমুখিতা এবং জনমত গঠনে এই ইভেন্টের গুরুত্বকে তুলে ধরে।



