ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার যুক্তরাজ্যের সৈন্যদের প্রশংসা করে, একই সময়ে ন্যাটো সৈন্যদের ভূমিকা কমিয়ে বলার পর আন্তর্জাতিক সমালোচনা তীব্র হয়েছে। তিনি তার Truth Social প্ল্যাটফর্মে যুক্তরাজ্যের সৈন্যদের “সবচেয়ে মহান যোদ্ধাদের মধ্যে” বলে উল্লেখ করেন এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীকে ফোনে কথা বলার পর এই মন্তব্য প্রকাশ করেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ন্যাটো সম্পর্কিত মন্তব্যগুলি বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ পায়। তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কখনো ন্যাটোর ওপর নির্ভর করেনি এবং ন্যাটো সৈন্যরা আফগানিস্তানে সামনের সারিতে না থেকে পেছনে থেকে কাজ করেছে। এই বক্তব্য ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি করে।
ব্রিটিশ সামরিক পরিবার, ভেটেরান এবং রাজনৈতিক নেতারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে “অবমাননাকর এবং নিন্দনীয়” বলে নিন্দা করেন। লেবার পার্টির নেতা স্যার কেয়ার স্টার্মার বিশেষভাবে এই বক্তব্যকে “অসহনীয় এবং সরাসরি আপত্তিকর” বলে উল্লেখ করেন।
প্রিন্স হ্যারি তাও এই বিতর্কে মন্তব্য করে, আফগানিস্তানে শিহরণকর ত্যাগের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার পর ন্যাটো সমষ্টিগত নিরাপত্তা ধারা একবারই সক্রিয় করা হয়েছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের বৈধতা প্রদান করেছিল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান আক্রমণ অক্টোবর ২০০১-এ তালি�বান শাসনকে উৎখাত করার জন্য শুরু হয়, কারণ তালি�বান ওসামা বিন লাদেন ও আল-কায়েদা সদস্যদের আশ্রয় দিচ্ছিল। ন্যাটো দেশগুলোও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এই যুদ্ধে সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে।
২০২১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার করার সময় পর্যন্ত, সমন্বিত মিত্র বাহিনীর মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩,৫০০ের বেশি ছিল, যার প্রায় দুই তৃতীয়াংশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য। যুক্তরাজ্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা বহন করে, মোট ২,৪৬১ জন সৈন্যের মৃত্যু রেকর্ড রয়েছে।
ডাউনিং স্ট্রিট জানায়, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ফোনে আলোচনা হয়, যেখানে উভয় দেশই আফগানিস্তানে যুক্তরাজ্যের অংশগ্রহণ এবং মিত্রশক্তির সমন্বয় নিয়ে কথা বলেন। এই কথোপকথনটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক প্রশংসা ও ন্যাটো সমালোচনার পরবর্তী প্রেক্ষাপটে হয়েছে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ন্যাটো এবং মিত্রশক্তি সম্পর্কে মন্তব্যগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার ঐতিহ্যবাহী মিত্রদের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য ন্যাটো সদস্য দেশগুলো এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পুনর্মূল্যায়ন করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুক্তরাজ্যের সৈন্যদের প্রশংসা এবং ন্যাটো সৈন্যদের ভূমিকা হ্রাসের মন্তব্য উভয়ই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনাগুলি মিত্রশক্তির মধ্যে বিশ্বাসের প্রশ্ন তুলেছে এবং ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সংলাপের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।



