মুম্বাইয়ের বান্দ্রা এলাকায় অবস্থিত তার বিশাল বাসভবন মান্নাটের জমি সংক্রান্ত হিসাবের ত্রুটির কারণে মহারাষ্ট্র সরকার শাহরুখ খানকে ৯ কোটি টাকার রিফান্ড দিতে যাচ্ছেন। ২০১৯ সালে জমির মূল্যের ২৫ শতাংশ পরিশোধের পর পর্যালোচনায় অতিরিক্ত অর্থ প্রদান প্রকাশ পেয়ে এই ফেরত নিশ্চিত হয়েছে।
শাহরুখ খান ও তার স্ত্রী গৌরী খান ২০০১ সালে নিবন্ধিত চুক্তির মাধ্যমে মান্নাটের ২,৪৪৬ বর্গমিটার জমি ভাড়া নিয়েছিলেন। সেই চুক্তি অনুসারে, মার্চ ২০১৯-এ রাজ্যের রেডি রেকনার মূল্য অনুযায়ী প্রায় ২৭.৫০ কোটি টাকা জমির ২৫ শতাংশ পরিশোধ করা হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে রাজ্য কর্তৃপক্ষের আর্থিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, জমির মূল্য নির্ধারণে গাণিতিক ভুল হয়েছে এবং প্রকৃত পরিমাণের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করা হয়েছে। এই ত্রুটি সংশোধনের অংশ হিসেবে সরকার এখন ৯ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
মহারাষ্ট্র সরকারের সূত্র অনুযায়ী, রিফান্ডের অনুমোদন শীঘ্রই হবে এবং সংশ্লিষ্ট দলিলপত্রের মাধ্যমে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তটি খান পরিবারকে আর্থিকভাবে স্বস্তি দেবে, কারণ তারা নিয়ম অনুযায়ী পরিশোধ করলেও অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করেছিল।
মান্নাটের মালিকানা ও ভাড়া চুক্তি দুজনেরই দীর্ঘকালীন সম্পত্তি পরিকল্পনার অংশ। শাহরুখ খান পূর্বে এক ডকুমেন্টারিতে উল্লেখ করেছেন, তিনি এই বাড়িটিকে তার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখেন। তিনি তার বাবা-মা মারা যাওয়ার পর বাড়ি না থাকায় বাড়ি কেনার ইচ্ছা পোষণ করতেন এবং সন্তান জন্মের পরই এই বাসস্থানটি অর্জন করেন।
তিনি আরও বলেছিলেন, মান্নাট কেবল তার নিজের নয়, পুরো পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়। ভবিষ্যতে তার নাতি-নাতনিরা এই বাড়িতে বসবাস করবে, যা একটি প্রজন্মের ঐতিহ্য হিসেবে রয়ে যাবে। এই ভাবনা তার বাড়ির প্রতি আবেগকে আরও দৃঢ় করে।
রাজ্য সরকার এই রিফান্ডকে একটি স্বচ্ছ আর্থিক সংশোধন হিসেবে উপস্থাপন করেছে। জমি সংক্রান্ত নীতি অনুসারে, যদি কোনো অতিরিক্ত পরিশোধের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তা ফেরত দেওয়া বাধ্যতামূলক। এই ক্ষেত্রে, রিফান্ডের পরিমাণ মোট জমি মূল্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সমান।
শাহরুখ খান ও গৌরী খান এই রিফান্ডের জন্য ইতিমধ্যে আবেদনপত্র দাখিল করে ছিলেন এবং এখন তাদের আবেদন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পাওয়া মাত্রই রিফান্ডের টাকা সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই আর্থিক সংশোধনটি মুম্বাইয়ের রিয়েল এস্টেট বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জমি মূল্য নির্ধারণে সঠিক হিসাব না হলে ভবিষ্যতে অনুরূপ ত্রুটি ঘটতে পারে, তাই সরকার এখন থেকে আরও কঠোর পর্যালোচনা প্রক্রিয়া গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছে।
শাহরুখ খানের ভক্ত ও মিডিয়া এই খবরকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। তারা বলেন, এই রিফান্ডের মাধ্যমে শিল্পী পরিবার আর্থিকভাবে স্বস্তি পাবে এবং মান্নাটের প্রতি তার ভালোবাসা আরও দৃঢ় হবে।
সামগ্রিকভাবে, মহারাষ্ট্র সরকারের এই পদক্ষেপটি একটি স্বচ্ছ আর্থিক নীতি বাস্তবায়নের উদাহরণ এবং শাহরুখ খান ও তার পরিবারের জন্য একটি স্বস্তির মুহূর্ত। ভবিষ্যতে এধরনের ত্রুটি এড়াতে আরও সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন প্রয়োজন হবে।
এই রিফান্ডের অনুমোদন ও পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য সরকারী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে জানানো হবে।



