২৪ জানুয়ারি শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা শহরের মগবাজারে জামায়াত-এ-ইসলামির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লেবার পার্টি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন মোড়ের ইঙ্গিত দিয়ে কথা বললেন। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ এখন জামায়াতের মধ্যে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি এবং আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার মাহাথির মোহাম্মদকে দেখতে পাচ্ছে।
সম্মেলনটি ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত জামায়াত-এ-ইসলামির কেন্দ্রীয় অফিসে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে লেবার পার্টি ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেয়। ইরান বলেন, “আমরা চাই ন্যায়বিচারপূর্ণ বাংলাদেশ” এবং জোটের সঙ্গে যুক্ত হওয়া সময়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
লেবার পার্টি বর্তমানে কোনো আসন পাওয়ার সুযোগ না থাকলেও, ইরান জোর দিয়ে বলেন, “ডা. শফিকুর রহমানের মানবিক নেতৃত্ব এবং তার কর্মকাণ্ড পুরো জাতিকে উদ্দীপিত করেছে”। তিনি যুক্তি দেন, এই উদ্দীপনা ছাড়া লেবার পার্টি পিছিয়ে থাকতে পারে না।
ইরান ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ শাসনকে “ফ্যাসিবাদমুক্ত” বলে উল্লেখ করে, তবে কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনই জনগণের ভাগ্য বদলাবে না, তা তিনি স্পষ্ট করেন। তিনি একটি অর্থবহ পরিবর্তনের আহ্বান জানান, যা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জুলাই বিপ্লবের জনআকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে।
লেবার পার্টি জামায়াত-এ-ইসলামির সঙ্গে দুই দশকের বেশি সময় কাজ করেছে এবং কোনো স্বার্থপর বা সুবিধাভোগীর সামনে মাথা নত করেনি, এ কথাও ইরান জোর দিয়ে বলেন। তিনি অতীতের মিত্রদের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর যাদের সঙ্গে আমরা সংগ্রাম করেছি, তাদের আচরণে ধীরে ধীরে ফ্যাসিবাদের ছাপ দেখা যাচ্ছে”।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত-এ-ইসলামির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা এটিএম মা’ছুম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য আব্দুর রব, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আব্দুল জলিল ও আলতাফ হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এবং এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আকরাম হোসেন। এছাড়া জোটের অন্যান্য পার্টির নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
ইরানের মন্তব্য অনুসারে, এই জোটের গঠন দেশের রাজনৈতিক সমতা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি উল্লেখ করেন, “এই সময়ে আমরা এমন একটি মুহূর্তে আছি, যখন জাতির উজ্জীবিত শক্তি নতুন দিকনির্দেশনা খুঁজছে”।
লেবার পার্টি এবং জামায়াত-এ-ইসলামির এই ঐক্য, বিশেষ করে নির্বাচনী কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের মনোভাব পরিবর্তন করতে পারে। ইরান বিশ্বাস করেন, জোটের সমন্বিত প্রচার ও সংগঠন ক্ষমতা ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে।
অধিকন্তু, ইরান জোর দিয়ে বলেন, জোটের লক্ষ্য শুধুমাত্র আসন সংগ্রহ নয়, বরং দেশের শাসনব্যবস্থায় ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। তিনি ভবিষ্যতে এই জোটের কার্যক্রমকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কার ও সামাজিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখতে চান।
এই ঘোষণার পর, বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে জামায়াত-এ-ইসলামির নেতৃত্বে গঠিত জোট, ঐতিহাসিকভাবে বিরোধপূর্ণ দলগুলোর মধ্যে নতুন সমন্বয় তৈরি করতে পারে, যা নির্বাচনী গতি পরিবর্তনে সহায়ক হবে। ইরানের বক্তব্যের ভিত্তিতে, জোটের কার্যকরী পরিকল্পনা এবং সমন্বিত প্রচারণা আগামী মাসগুলোতে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন রেখা আঁকবে।
সারসংক্ষেপে, লেবার পার্টি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াত-এ-ইসলামির নেতৃত্বে ১০ দলীয় জোটে যোগদানের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন সমন্বয় ঘটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি মানবিক নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার এবং অর্থবহ পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য জোটের প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরেছেন।



