আজ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা পরিষদের শেষ সভার পর প্রকাশিত একটি ঘোষণায় সাকিব আল হাসানকে পুনরায় জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে। বোর্ডের সিদ্ধান্তের ভিত্তি হল খেলোয়াড়ের বর্তমান ফিটনেস, উপলব্ধতা এবং ম্যাচের ভেন্যুতে উপস্থিতি।
বিসিবি পরিচালক আমজাদ হোসেন সভার শেষে সাংবাদিকদের সামনে বলেন, সাকিবের বিষয়টি বোর্ডে ব্যাপকভাবে আলোচনা হয়েছে এবং সকল সদস্যের একমত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি সাকিবের শারীরিক অবস্থা, ফিটনেস এবং ভেন্যুতে উপস্থিত হওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত হয়, তবে নির্বাচক প্যানেল তাকে পরবর্তী নির্বাচনের জন্য বিবেচনা করবে।
বিবেচনার শর্তে তিনটি মূল বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে: প্রথমত, সাকিবের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ফিটনেস; দ্বিতীয়ত, তার সময়সূচি এবং ভ্রমণযোগ্যতা; তৃতীয়ত, ম্যাচের স্থানীয় ভেন্যুতে উপস্থিত হওয়ার সক্ষমতা। এই শর্ত পূরণ হলে, সাকিবকে দলের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সাকিবের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকবে না বলে বোর্ড স্পষ্ট করে জানায়। তিনি অন্যান্য বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবেন এবং প্রয়োজন অনুসারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) প্রদান করা হবে। এই নীতি সাকিবকে বিদেশি লিগে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করবে।
সাকিব আল হাসান শেষবার ৫ আগস্ট ২০২৪-এ ছাত্র-জনতা আন্দোলনের পর দেশে ফিরে আসেননি। ঐ দিনটি দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে তার ফিরে আসা বাধাগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে তিনি বিদেশে অবস্থিত এবং বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছেন।
সাকিবের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এবং দুর্নীতির মামলা দায়ের হয়েছে। এই আইনি চ্যালেঞ্জগুলো তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে প্রভাবিত করেছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত রায় প্রকাশিত হয়নি। আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সত্ত্বেও, বোর্ডের নতুন সিদ্ধান্তে তার খেলাধুলার সম্ভাবনা পুনরায় উন্মুক্ত হয়েছে।
মিরপুরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচের পর সাকিব অবসর নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। যদিও তিনি সেই সময়ে দল থেকে নাম বাদ দেননি, তবে তার অবসর ঘোষণার পরেও দলীয় তালিকায় তার নাম দেখা গিয়েছিল। তবে দেশের অভ্যন্তরে ব্যাপক প্রতিবাদ এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে তিনি দেশে ফিরে আসতে পারেননি।
সেই সময়ে সাকিবের নাম দলীয় ঘোষণায় অন্তর্ভুক্ত হলেও, জনমত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যার মুখে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরে আসতে পারেননি। এখন, বিসিবি মিডিয়া বিভাগের প্রধানের মতে, সাকিবের নাম হোম ও অ্যাওয়ে সিরিজের জন্য নির্বাচক প্যানেলে পুনরায় বিবেচনা করা হবে।
মিডিয়া বিভাগের প্রধান আরও জানান, “সকল হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে সিরিজের জন্যই তার নাম নির্বাচক প্যানেলে বিবেচনা করা হবে।” এই ঘোষণার মাধ্যমে বোর্ড স্পষ্ট করে দিয়েছে যে সাকিবের উপস্থিতি কেবল একক টুর্নামেন্টের জন্য নয়, পুরো সিরিজের জন্যই সম্ভাব্য।
বিসিবি পরিচালকের সঙ্গে অতীতের কোনো সমান সিদ্ধান্তের তুলনা করা হলে, তিনি স্বীকার করেন যে পূর্বে এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক বিবেচনা ছিল কিনা তিনি জানেন না। আজকের মিটিংয়ে গৃহীত সিদ্ধান্তই তিনি প্রকাশ করেছেন এবং তা ভবিষ্যতে সাকিবের নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে।
বোর্ডের সভাপতি আমিনুল হককে সাকিবের জাতীয় দলে ফিরে আসা সংক্রান্ত বিষয়টি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমিনুলের ব্যক্তিগত সমস্যাগুলো সরকারী অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল, তবে বোর্ডের দৃষ্টিকোণ থেকে সাকিবকে আবার দলে অন্তর্ভুক্ত করার ইচ্ছা স্পষ্ট।
সরকারের ভূমিকা সম্পর্কে বলা হয়, সাকিবের ব্যক্তিগত আইনি সমস্যাগুলো সরকার কীভাবে সমাধান করবে তা আলাদা বিষয়। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে সাকিবকে দলে ফিরিয়ে আনার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
একই সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) জানিয়েছে যে বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে পরিবর্তে স্কটল্যান্ডের দলকে স্থান দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের আন্তর্জাতিক সূচি পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন হতে পারে, তবে সাকিবের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিষয়টি এখনো আলাদা আলোচনার অধীনে রয়েছে।



