গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় উজানী ইউনিয়নের পশ্চিম উজান কান্দনীপাড়া গ্রামে রাতের আঁধারে একটি সরস্বতী মূর্তি ধ্বংস করা হয়েছে। ঘটনাটি শুক্রবার সন্ধ্যায় সরস্বতী পূজা শেষ হওয়ার পর ঘটেছে এবং মূর্তির ঘাড় ও মাথা ভেঙে ঝুলিয়ে রাখা অবস্থায় পাওয়া যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা সকালবেলায় ধ্বংসাবশেষ লক্ষ্য করে মুকসুদপুর থানায় জানায়।
থানার ওয়াকিং অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, পূজা শেষের পর রাত ১২টার দিকে পূজারীরা মন্দির ত্যাগ করে এবং অল্প সময়ের মধ্যে কেউ মূর্তির নকশা নষ্ট করে। মূর্তির গলায় গাঁট কেটে মাথা আলাদা করে ঝুলিয়ে রাখা অবস্থায় পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের জানাতে পারার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মুকসুদপুরের অতিরিক্ত সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (ASP) নাফিজুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আবু হাছন এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিও现场 পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনের সময় জানা যায়, ধ্বংসের আগে সিসিটিভি ক্যামেরা সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, ফলে কোনো ভিডিও রেকর্ড পাওয়া যায়নি। ক্যামেরা অপসারণের ফলে সন্দেহভাজন চিহ্নিত করা বর্তমানে কঠিন।
অফিসাররা জানান, ধ্বংসের পরপরই তারা মাঠে নেমে সম্ভাব্য অপরাধীদের সন্ধান শুরু করেছে। মন্দির কমিটির সদস্যদেরকে অভিযোগ দায়ের করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।
ওসি মামুন উল্লেখ করেন, “পুলিশ এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে মাঠে নেমেছে। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে অভিযোগ দিলে আমরা দ্রুত মামলা দায়ের করব।” তিনি আরও বলেন, অভিযোগ দায়েরের পর তদন্তের পরিধি বাড়িয়ে অপরাধীদের আইনি দায়িত্ব নিশ্চিত করা হবে।
আইনি দিক থেকে, সরস্বতী মূর্তির ধ্বংস অপরাধবিধির ধারা ৩৪১(১) অনুসারে সম্পত্তি ধ্বংসের অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তি আরোপের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ মামলাটি আদালতে দাখিল করবে।
এই ধরনের ধর্মীয় প্রতিমা ধ্বংসের ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়কে উদ্বিগ্ন করেছে এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, যথাযথ তদন্ত এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।



