নরসিংদী বিভাগের নারায়ণগঞ্জে শিমরাইল এলাকার তল্লাশি চৌকিতে র্যাব-১১ দল শনি দুপুরে একটি গাড়ি অনুসন্ধান করে, যেখানে নির্বাচনের সময় অস্ত্র ও গুলির আলোচনা করা একটি দলকে আটক করেছে। গ্রেপ্তারের মূল ব্যক্তি হলেন বিএনপি নেতা বজলুর রহমান, যাকে স্থানীয়ভাবে ‘ডন বজলু’ নামে চেনা যায়, এবং তার সঙ্গে তিনজন সহযোদ্ধা।
র্যাবের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাঈম উল হক অনুসারে, দলটি গাড়ির সিটের নিচে লুকিয়ে রাখা একটি পিস্তল এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। গুলি ও অস্ত্রের উপস্থিতি তদন্তকারীদের মতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত অবৈধ পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়।
অটকৃত সহযোদ্ধারা হলেন একই এলাকার সাইদুল (বয়স ৩৪), আব্দুল জব্বার (বয়স ৪৩) এবং নাজমুল হকের পুত্র ইউনুস বাঁধন (বয়স ২০)। সবই বজলুরের অনুগামী হিসেবে পরিচিত। তাদের নাম মূল সংবাদে যেমন উল্লেখ আছে তেমনই ব্যবহার করা হয়েছে।
বজলুর রহমান নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সহসভাপতি এবং তার বাড়ি কাঁচপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর এলাকায় অবস্থিত। তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং নির্বাচনী সময়ে অস্ত্রমজুদ নিয়ে আলোচনা করার অভিযোগে র্যাবের নজরে আসেন।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, বজলুরকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার সন্দেহ রয়েছে এবং এই সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে ‘ডন বজলু’ নামে বেশি পরিচিত করা হয়। তার এই উপাধি স্থানীয় মিডিয়ায় প্রচলিত এবং নিরাপত্তা সংস্থার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বজলুরের নাম পূর্বে একটি পৃথক ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিল। বন্দর উপজেলার সাবেক পরিষদ চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান মুকুলের ওপর হামলার সময় বজলুরের নির্দেশে তার অনুগামীদের আক্রমণ চালানোর অভিযোগ উঠে। ঐ ঘটনার পরেও তিনি রাজনৈতিক মঞ্চে সক্রিয় ছিলেন।
আটকের পর, নারায়ণগঞ্জের উপজেলা বিএনপি বজলুরকে দলের থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এই বহিষ্কারের অনুমোদন না পাওয়ায়, উপজেলা সভাপতি মোশারফ হোসেন জানান বহিষ্কার কার্যকর হয়নি। তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এই বিষয়টি নিয়ে সংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোশারফ হোসেনের মতে, দল ইতিমধ্যে অস্ত্র ও গুলির ঘটনা সম্পর্কে জানে এবং সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট শাস্তি বা পদক্ষেপের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।
বজলুর ও তার সহযোদ্ধাদের গ্রেপ্তারি পরবর্তী প্রক্রিয়া অনুযায়ী, তারা র্যাবের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং আগামীকাল আদালতে হাজির হবে। র্যাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসাররা জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে গুলির ধরন ও উৎপত্তি নির্ণয়ের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হবে।
আইনি দিক থেকে, র্যাবের দল তাদের বিরুদ্ধে ‘অস্ত্রধারী অপরাধ’ এবং ‘নির্বাচন সংক্রান্ত অবৈধ কার্যকলাপ’ সংক্রান্ত আইনের অধীনে অভিযোগ দায়ের করেছে। সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে গ্রেফতার শর্তাবলী ও জামিনের সম্ভাবনা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অধিকন্তু, র্যাবের তদন্তকারী দল স্থানীয় তথ্য সংগ্রহ, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন রেকর্ড এবং ফোন রেকর্ডের মাধ্যমে অতিরিক্ত প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাবে। এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মী বা সংগঠনের সঙ্গে কোনো সংযোগ আছে কিনা তা নির্ণয় করা হবে।
এই ঘটনার ফলে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থা এখন পর্যন্ত কোনো অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেয়নি, তবে ভবিষ্যতে নির্বাচনী সময়ে অনুরূপ ঘটনা রোধের জন্য কঠোর নজরদারি বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে।



