সাম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক পিএলসি-র উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আগামীকাল নির্ধারিত থাকলেও, বাংলাদেশ ব্যাংক আজই জানিয়ে দিয়েছে যে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা-তে সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, তবে অনির্ধারিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তা বাতিল করা হয়েছে।
এই নতুন শারিয়া ব্যাংকটি পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামিক ব্যাংকের সংযুক্তি থেকে গঠিত, যার মধ্যে প্রথম সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক অন্তর্ভুক্ত। সংযুক্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ব্যাংকটি এই মাসের শেষের দিকে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্তরের কিছু জমাকারী ও ব্যাংক কর্মচারী অনুষ্ঠানস্থলে অবরোধের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ আহ্বান ছড়িয়ে পড়ার ফলে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়ে। এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে, আর্থিক উপদেষ্টা সেলাহুদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ. মানসুরের উপস্থিতি নিশ্চিত থাকা সত্ত্বেও, অনুষ্ঠানটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র অনুযায়ী, সাম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক এখনো কার্যক্রম শুরু করার পথে রয়েছে, তবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছাড়া অনলাইন মাধ্যমে ব্যাংকটি চালু হতে পারে। পূর্বে ব্যাংকগুলোকে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে জমার উপর মুনাফা প্রদান থেকে বাধা দেওয়ার সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা সঞ্চয়কারীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষের কারণ ছিল।
নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যে, ১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত মুদারবা সঞ্চয় ও টার্ম ডিপোজিট অ্যাকাউন্টে বার্ষিক ৪ শতাংশের প্রাথমিক মুনাফা প্রদান করা হবে। এই নির্দেশনা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত জমাকারীদের জন্য প্রযোজ্য, যা পাঁচটি ব্যাংকের প্রত্যেকের কাছে পৃথক চিঠি মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
সাম্মিলিত ইসলামি ব্যাংকের উদ্বোধন স্থগিতের ফলে আর্থিক বাজারে কিছু অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। শেয়ার বাজারে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর শেয়ার মূল্যে সাময়িক পরিবর্তন হতে পারে, যদিও ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা এখনও বজায় রয়েছে। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে অনলাইন প্রতিবাদ ও সামাজিক মিডিয়ার প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, ব্যাংকগুলোকে জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, শারিয়া ব্যাংকের সংযুক্তি দেশের ইসলামী ব্যাংকিং সেক্টরের কাঠামোকে শক্তিশালী করতে পারে, তবে নিরাপত্তা ও জনমত সংক্রান্ত বিষয়গুলো সমাধান না হলে নতুন প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি ও গ্রাহক আকর্ষণে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। ভবিষ্যতে, যদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা যায়, তবে সাম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক তার লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হবে এবং ইসলামী আর্থিক সেবার বিস্তারে অবদান রাখতে পারবে।
সংযুক্তি প্রক্রিয়ায় জড়িত পাঁচটি ব্যাংকের মধ্যে এক্সিম ব্যাংক (এক্সিম ব্যাংক) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ এটি দেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর একটি। সংযুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর, এই ব্যাংকগুলো একত্রে বৃহত্তর মূলধন ও গ্রাহক ভিত্তি গড়ে তুলবে, যা আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে সহায়ক হবে।
সাম্মিলিত ইসলামি ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হওয়ার সময়সূচি এখনও নিশ্চিত করা হয়নি, তবে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে যে, ব্যাংকটি এই মাসের শেষের দিকে সেবা প্রদান শুরু করবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান না হলেও, ব্যাংকের সিস্টেম ও সেবা চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকরা নতুন শারিয়া পণ্য ও সেবা পেতে সক্ষম হবে।
এই ঘটনার পর, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ দূর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যাংকগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন, যাতে আর্থিক বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং সঞ্চয়কারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার হয়।



