গত সপ্তাহে টটেনহ্যাম বার্নলির গ্রাউন্ডে এক অনন্য ম্যাচের সাক্ষী হয়। দু’দলই গেমের শুরুর মুহূর্তেই সক্রিয় হয়ে উঠে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্কোর ১-১ সমান হয়ে থাকে, যেখানে টটেনহ্যামের ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো অতিরিক্ত সময়ে সমতা রক্ষা করেন।
খেলাটির শুরুতে টটেনহ্যাম প্রায় ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে আক্রমণ চালায়। ডজেড স্পেন্সের পাসে কাইল ওয়াকার শেষ মুহূর্তে শট মিস করেন, ফলে উভয় দলের সমর্থকই উত্তেজনা অনুভব করেন। এই দ্রুত আক্রমণ দু’দলকে একে অপরের ওপর চাপ বাড়াতে সহায়তা করে।
মিকি ভ্যান ডি ভেনের শিরোনামীয় হেডার টটেনহ্যামের প্রথম গোল হয়ে ওঠে। কোণার কিক থেকে ভ্যান ডি ভেনের মাথায় আঘাত বার্নলির গোলরক্ষক মার্টিন ডুব্রাভকাকে তিনবার চ্যালেঞ্জ করে, যার মধ্যে দু’টি শট ওডোবার্ট এবং কনর গ্যালাহার থেকে আসে। ভ্যান ডি ভেনের গোলের পর টটেনহ্যাম এক মুহূর্তের জন্য নেতৃত্বে থাকে।
বার্নলি দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায়। অ্যাক্সেল টুয়ানজেবে এবং লাইলে ফস্টার মাঝখানে চাপ বাড়িয়ে টটেনহ্যামের রক্ষণকে কঠিন করে তোলে। তাদের আক্রমণ টটেনহ্যামের ডিফেন্সকে প্রায়ই অস্থির করে, তবে কোনো গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারে না।
গোলরক্ষক মার্টিন ডুব্রাভকা এই সময়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন। প্রথমে তিনি ওডোবার্টের শটকে চমৎকারভাবে আটকে রাখেন, এরপর গ্যালাহারের কাছাকাছি শটকে প্রতিহত করেন, এবং শেষ পর্যন্ত একটি দ্রুত আক্রমণকে থামিয়ে দেন। তার এই পারফরম্যান্স ম্যাচের গতি পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বার্নলির পেড্রো পোর্রো দুইবার ফ্রি-কিকের মাধ্যমে গোলের চেষ্টা করেন, তবে উভয় শটই টটেনহ্যামের রক্ষণে আটকে যায়। উন্মুক্ত মাঠে উভয় দলের আক্রমণ তেমন কার্যকর না হলেও, পোর্রোর ফ্রি-কিকগুলো কিছুটা উত্তেজনা যোগ করে।
বার্নলির আক্রমণকারী লুকাস পিরেসের হেডারটি অফসাইড অবস্থায় গৃহীত হয়, ফলে টটেনহ্যামের জন্য কোনো গোলের সুযোগ না থাকে। এই মুহূর্তে টটেনহ্যামের ডিফেন্সের দৃঢ়তা আবার প্রকাশ পায়, এবং তারা একাধিকবার বার্নলির শটকে প্রত্যাখ্যান করে।
গেমের শেষের দিকে টটেনহ্যাম আবারও চাপ বাড়ায়, কিন্তু বার্নলি সমানভাবে প্রতিরোধ করে। অতিরিক্ত সময়ে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো একটি গুরুত্বপূর্ণ শট মারেন, যা গোললাইনে গিয়ে টটেনহ্যামের জন্য সমতা নিশ্চিত করে। এই গোলটি টটেনহ্যামের পয়েন্ট রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রোমেরোর গোলের পর টটেনহ্যামের ভক্তরা “We are staying up” চিৎকার করে, যদিও এই চিৎকারটি ইংরেজিতে হলেও স্টেডিয়ামের পরিবেশকে উজ্জীবিত করে। ভক্তদের এই উচ্ছ্বাস টটেনহ্যামের জন্য মানসিক সমর্থন হিসেবে কাজ করে।
টটেনহ্যামের কোচ থমাস ফ্র্যাঙ্কের অবস্থান এখনো অনিশ্চিত। দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে সমর্থকদের কাছ থেকে কোচের পদত্যাগের দাবি শোনা যাচ্ছে, এবং এই ম্যাচের ফলাফল তার ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও প্রশ্ন তুলেছে।
প্রিমিয়ার লিগে টটেনহ্যাম এখন পর্যন্ত ১৪টি ম্যাচে মাত্র দুইটি জয় অর্জন করেছে, যা দলকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে। এই পরিসংখ্যানের আলোকে রোমেরোর সমতা গোলটি দলকে অল্প কিছু সান্ত্বনা দেয়।
বার্নলির জন্যও এই ড্রটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা হোম গ্রাউন্ডে পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পেরেছে। যদিও তারা জয় অর্জন করতে পারেনি, তবে টটেনহ্যামের সমতা গোলের পরেও তারা দৃঢ় রক্ষণ বজায় রেখেছে।
সারসংক্ষেপে, টটেনহ্যাম এবং বার্নলি উভয়ই আক্রমণ ও রক্ষণে সমানভাবে লড়াই করেছে, এবং শেষ পর্যন্ত স্কোর ১-১ সমান হয়েছে। রোমেরোর শেষ মুহূর্তের গোল টটেনহ্যামের জন্য পয়েন্ট রক্ষার মূল চাবিকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর ভ্যান ডি ভেনের শিরোনামীয় হেডার ম্যাচের প্রথম গোল হিসেবে স্মরণীয় থাকবে।



