ব্রুকলিনের চলচ্চিত্র নির্মাতা অ্যাডাম মিক্সের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য নাটক ‘ইউনিয়ন কাউন্টি’ স্যান্ড্যান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পার্ক সিটিতে চূড়ান্ত নির্বাচনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই চলচ্চিত্রটি ওহাইওর গ্রামীণ এলাকায় ড্রাগ কোর্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে ওপিওইড সংকটের মুখোমুখি এক তরুণের পুনর্বাসন যাত্রা চিত্রিত করে। শিরোনামের নায়ক কোডি পার্সন্সের চরিত্রে উইল পল্টার অভিনয় করেছেন, আর নোয়া সেন্টিনেও সহ-অভিনয়ে উপস্থিত।
অ্যাডাম মিক্স, যিনি নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির টিশ স্কুল অফ দ্য আর্টসের স্নাতক, দীর্ঘদিনের স্বপ্নের স্যান্ড্যান্স অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তিনি পূর্বে বর্লিনে তার স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ইউনিয়ন কাউন্টি’ প্রদর্শন করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। একই নামের এই স্বল্পদৈর্ঘ্য কাজের ভিত্তিতে তিনি পূর্ণদৈর্ঘ্য সংস্করণটি তৈরি করেন, যা এখন স্যান্ড্যান্সের মূল তালিকায় স্থান পেয়েছে।
‘ইউনিয়ন কাউন্টি’ মূলত ওহাইওর একটি কোর্টের বাস্তব প্রোগ্রামকে ভিত্তি করে নির্মিত। ড্রাগ কোর্টের অংশগ্রহণকারী ও বিচারকসহ বাস্তব মানুষদের ক্যামেরায় দেখা যায়, যা ছবিটিকে নথিগত স্বর প্রদান করে। মিক্সের মতে, এই পদ্ধতি দর্শকদেরকে সংকটের বাস্তবতা সরাসরি অনুভব করাতে সহায়তা করে। ফলে চলচ্চিত্রটি শুধুমাত্র কল্পনায় নয়, বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
কাহিনীর কেন্দ্রে রয়েছে কোডি পার্সন্স, যিনি ওপিওইড আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে কোর্টের নির্দেশিত পুনর্বাসন প্রোগ্রামে অংশ নেন। তার যাত্রা ধীরে ধীরে উন্মোচিত হয়, যেখানে তিনি আইনগত বাধা, পারিবারিক চাপ এবং ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের মুখোমুখি হন। ছবিটি তার পুনরুদ্ধারের পথে গড়ে ওঠা জটিল সম্পর্ক ও সামাজিক বাধাগুলোকে সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরে।
চিত্রনাট্যটি বাস্তব ড্রাগ কোর্টের অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি দিয়ে সমৃদ্ধ হয়েছে। বিচারকসহ অন্যান্য অংশগ্রহণকারী সরাসরি স্ক্রিনে উপস্থিত হয়ে চলচ্চিত্রের সত্যিকারের পরিবেশ গড়ে তুলেছেন। এই পদ্ধতি পূর্বের অনেক ওপিওইড-সংক্রান্ত চলচ্চিত্রের তুলনায় নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করে, যেখানে প্রায়শই কল্পিত চরিত্রই প্রধান ভূমিকা পালন করত।
উইল পল্টার, যিনি হুলু (হুলু)-এর সমালোচনামূলকভাবে প্রশংসিত সিরিজ ‘ডোপসিক’‑এ বড় ফার্মা এক্সিকিউটিভের ভূমিকায় পরিচিত, এবার কোডি পার্সন্সের চরিত্রে অভিনয় করছেন। ‘ডোপসিক’‑এ তিনি বড় কোম্পানির দায়িত্বশীল চরিত্রে ছিলেন, আর ‘ইউনিয়ন কাউন্টি’‑তে তিনি পুনর্বাসনের পথে সংগ্রামী এক সাধারণ মানুষকে উপস্থাপন করছেন। এই পরিবর্তন তার অভিনয় পরিসরের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে এবং দর্শকদের নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করে।
নোয়া সেন্টিনেও, যিনি তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় অভিনেতা, সহ-অভিনয়ে অংশ নিয়েছেন। তাদের পাশাপাশি বেশ কিছু প্রথমবারের মতো ক্যামেরার সামনে আসা অ-অভিনেতা ও স্থানীয় বাসিন্দা ছবিতে উপস্থিত হয়েছেন। এই মিশ্রণটি চলচ্চিত্রকে স্বাভাবিক ও বাস্তবধর্মী রঙ দেয়, যা দর্শকের সঙ্গে গভীর সংযোগ স্থাপন করে।
চিত্রগ্রহণের সময় মিক্স ও পল্টার ড্রাগ কোর্টের প্রোগ্রামে নিজে নিজে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। তারা কোর্টের দৈনন্দিন কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এই অভিজ্ঞতা তাদেরকে চরিত্রের মানসিক অবস্থা ও পরিবেশকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে সহায়তা করেছে।
সাক্ষাৎকারে মিক্স ও পল্টার উভয়েই উল্লেখ করেছেন যে, বাস্তব মানুষদের সঙ্গে কাজ করার সময় তারা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। বিশেষ করে প্রশংসা গ্রহণে তারা স্বাভাবিকভাবেই লজ্জা পেয়েছেন, তবে প্রকল্পের গভীরতা ও সামাজিক প্রভাব তাদেরকে প্রেরণা দিয়েছে। তাদের মতে, এই চলচ্চিত্রটি ওপিওইড সংকটের মানবিক দিককে আলোকিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
‘ইউনিয়ন কাউন্টি’ স্যান্ড্যান্সে বিশ্বপ্রদর্শনী লাভের পর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিক্সের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য কাজটি এখন পর্যন্ত তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। চলচ্চিত্রটি ওপিওইড সংকটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে, যা সমাজের সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চলচ্চিত্রের প্রকাশের পর দর্শকদেরকে এই বাস্তবধর্মী গল্পটি দেখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা আধুনিক সমাজে মাদক সমস্যার প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করতে পারেন। এই ধরনের প্রকল্প ভবিষ্যতে আরও বেশি বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে চলচ্চিত্র নির্মাণে অনুপ্রেরণা জোগাবে।



