সিঙ্গাপুর সরকার আগামী দশকে, অর্থাৎ ২০৩০ সাল পর্যন্ত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্ষেত্রে পাবলিক গবেষণায় এক বিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার (প্রায় ৭৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) এর বেশি তহবিল বরাদ্দের পরিকল্পনা জানিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি শনিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এআই রিসার্চ উইকের গালা ডিনারে ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট ও ইনফরমেশন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জোসেফিন টেওর উপস্থাপনা থেকে প্রকাশিত হয়। তহবিলের মূল লক্ষ্য হল দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অগ্রগতি অর্জন করা।
বিনিয়োগের মূল অংশটি নতুন গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন, এআই ভিত্তিক শিল্পপ্রয়োগের জন্য অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং বিদেশি গবেষক ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ প্রকল্পের মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়নে ব্যবহৃত হবে। সরকার এই তহবিলের মাধ্যমে বিশ্বমানের গবেষণা পরিবেশ তৈরি করে স্থানীয় বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে চায়। তদুপরি, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জ্ঞান ও প্রযুক্তি স্থানান্তরকে ত্বরান্বিত করা হবে।
নতুন গবেষণা কেন্দ্রগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী ও জটিল সমস্যার সমাধানে কেন্দ্রীভূত করা হবে, যা সরাসরি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এসব কেন্দ্রের কাজের ক্ষেত্রের মধ্যে এআই অ্যালগরিদমের মৌলিক গবেষণা, ডেটা নিরাপত্তা, স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম এবং মানব-কম্পিউটার ইন্টারঅ্যাকশন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সরকার উল্লেখ করেছে যে, এই ধরনের গবেষণা দেশের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি নীতি ও শিল্প নকশায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
স্থানীয় স্টার্টআপ, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের সঙ্গে সক্রিয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে, যাতে গবেষণার ফলাফল দ্রুত বাজারে পৌঁছায়। তদুপরি, গবেষকদের উন্মুক্তভাবে তাদের আবিষ্কার শেয়ার করতে উৎসাহিত করা হবে, যাতে বৈশ্বিক জ্ঞানভাণ্ডারে অবদান রাখা যায়। আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে সিঙ্গাপুরের এআই গবেষণা গ্লোবাল ইকোসিস্টেমের অংশ হয়ে উঠবে। এই নীতি দেশের বৈজ্ঞানিক স্বচ্ছতা ও সহযোগিতার সংস্কৃতি শক্তিশালী করবে।
সিঙ্গাপুরের আয়তন ছোট এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত হওয়ায়, প্রযুক্তি ব্যবহার করে শ্রম ঘাটতি ও অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা তার দীর্ঘমেয়াদী কৌশল। এআই প্রযুক্তি বিশেষ করে উৎপাদন, লজিস্টিক্স ও সেবা খাতে দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা ও স্মার্ট সিটি প্রকল্পে এআই সংযোজনের মাধ্যমে এই দিকটি শক্তিশালী করছে। তাই, এই নতুন তহবিল দেশের প্রযুক্তি-নির্ভর উন্নয়নের ধারাকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, গবেষণা কার্যক্রম এআই ক্ষেত্রে দেশের গভীর প্রযুক্তিগত দক্ষতা গড়ে তোলার মূল চালিকাশক্তি। তহবিলের মাধ্যমে গৃহীত উদ্যোগগুলো সিঙ্গাপুরকে এআই উদ্ভাবনের শীর্ষে রাখবে, যা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও প্রতিভা আকর্ষণে সহায়ক হবে। এছাড়া, গবেষণা ফলাফলকে উন্মুক্ত করে বৈশ্বিক জ্ঞানভান্ডারে যোগদান করা দেশের বৈজ্ঞানিক মর্যাদা বাড়াবে। এভাবে, সিঙ্গাপুরের এআই কৌশল দীর্ঘমেয়াদে টেকসই অর্থনৈতিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।
এই এআই তহবিলের ঘোষণাটি সরকারের পূর্ববর্তী এআই বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা, যা ইতিমধ্যে বিভিন্ন শিল্পে ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করেছে। অতীতের উদ্যোগগুলোর মধ্যে এআই দক্ষতা প্রশিক্ষণ, ডেটা সেন্টার উন্নয়ন এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের সমর্থন অন্তর্ভুক্ত। নতুন তহবিলের মাধ্যমে এই প্রচেষ্টা আরও বিস্তৃত হবে এবং গবেষণা ও শিল্পের মধ্যে সেতু গড়ে তুলবে। ফলে, সিঙ্গাপুরের এআই ইকোসিস্টেম আরও সমন্বিত ও প্রতিযোগিতামূলক হবে।
দীর্ঘমেয়াদে, এই বিনিয়োগের ফলে সিঙ্গাপুরের কর্মসংস্থান বাজারে নতুন এআই-সম্পর্কিত পেশা সৃষ্টি হবে এবং উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন কর্মশক্তির চাহিদা পূরণ হবে। তদুপরি, এআই গবেষণার ফলাফল স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক সেবা এবং পরিবহনসহ বিভিন্ন সেক্টরে উদ্ভাবনী সমাধান প্রদান করবে। আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের গবেষণা ফলাফল বিশ্বব্যাপী শেয়ার করা হলে, দেশটি বৈশ্বিক এআই নীতি ও মানদণ্ড গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারবে। শেষ পর্যন্ত, এই তহবিল সিঙ্গাপুরকে এআই ক্ষেত্রে একটি জ্ঞানভিত্তিক হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করবে।



