বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রাম থেকে শনিবার সন্ধ্যায় গৃহবধূ কানিজ সুবর্ণা (২২) এবং তার ৯ মাসের পুত্র সেজাদ হাসানের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। দুজনের দেহে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। একই দিনে কানিজের পিতা রুহুল আমিন হাওলাদার মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
কানিজ সুবর্ণা বাগেরহাট সদর ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসানের স্ত্রী, যিনি বর্তমানে যশোর জেলা কারাগারে বন্দি। জুয়েল হাসান তার শাসনকালে বিভিন্ন মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন এবং সন্তান জন্মের পূর্বেই জেলায় ছিলেন। পরিবারের মতে, কানিজের আত্মহত্যা সন্দেহের বিষয়, তবে ময়নাতদন্তের ফলাফল না আসা পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
পুলিশের মতে, লাশ উদ্ধার করার পর ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া না পর্যন্ত মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদেরই অভিযুক্ত করা হয়েছে। অফিসার মো. মাসুম খান জানান, ময়নাতদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে তদন্তের দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হবে।
রুহুল আমিন হাওলাদার গৃহবধূ ও শিশুর মৃত্যুর পরপরই সাদা-সাদা কাগজে মামলা দায়ের করেন এবং অভিযোগে উল্লেখ করেন যে দুজনের মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধমূলক কাজের ইঙ্গিত রয়েছে। তিনি দাবি করেন যে তদন্তে স্বচ্ছতা বজায় রাখা উচিত এবং সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্ব স্পষ্ট করা দরকার।
ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ দুজনের পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়। পরে লাশবাহী গাড়িতে লাশগুলো যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়, যাতে জুয়েল হাসানকে তার স্ত্রীর ও শিশুর দেহ দেখার সুযোগ দেয়া যায়। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে পুলিশ জানায়।
লাশগুলো পুনরায় বাগেরহাটে নিয়ে এসে সন্ধ্যাবেলা রুহুলের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। দাফন কাজ রাত ১১ টায় শেষ হয় এবং পরিবারের সদস্যরা শোক প্রকাশের জন্য একত্রিত হন।
কানিজ ও জুয়েল কয়েক বছর আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সন্তান জন্মের পূর্বে জুয়েলকে বিভিন্ন অপরাধের জন্য গ্রেফতার করা হয় এবং তিনি গোপালগঞ্জ থেকে ৫ এপ্রিল গত বছর গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন মামলায় জেলায় রয়েছেন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আত্মগোপনে ছিলেন বলে পরিবার জানায়।
কানিজের বড় ভাই মো. শুভ জানান, স্বামীর দীর্ঘমেয়াদী কারাবাসের ফলে কানিজ মানসিকভাবে ভেঙে গেছেন। তিনি বলেন, স্বামীর অনুপস্থিতি ও অপরাধের চাপের ফলে কানিজের মানসিক অবস্থা দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। তবে তিনি অতিরিক্ত কোনো কারণ বাদ না দিয়ে তদন্তের দাবি করেন।
পরিবারের মতে, জুয়েল হাসান শেষবারের মতো তার পুত্রকে কোলে নিতে পারেননি, তাই সন্তানকে একবারও দেখা না পেয়ে তাকে নিয়ে গিয়েছিলেন। এই ঘটনা পরিবারের জন্য অতিরিক্ত কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অধিক তদন্তের জন্য ময়নাতদন্তের ফলাফল এবং পুলিশি তদন্তের অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ বলে কর্মকর্তারা জোর দেন। বর্তমানে মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদেরই অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া মাত্রই আদালতে চূড়ান্ত রায় দেওয়া হবে।



