বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, যিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ঢাকা কাকরাইলে ওয়াইএমসিএ ভবনে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মুক্ত আলোচনায় দেশপ্রেমের প্রকৃত অর্থ নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশপ্রেম কেবল স্লোগান বা আবেগের সীমাবদ্ধতা নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের নিজস্ব অবস্থান থেকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করা।
হোসেন জিল্লুরের বক্তব্যের মূল বিষয় হল, রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা দৈনন্দিন কাজের মাধ্যমে প্রকাশ পায়, বড় বড় দাবি তোলার বদলে নিজের কাজের মান উন্নত করা জরুরি। তিনি বলেন, দায়িত্বে অবহেলা করে দেশপ্রেমের দাবি করা আত্মপ্রবঞ্চনা, যা বাস্তব উন্নয়নে কোনো অবদান রাখে না।
বক্তা উল্লেখ করেন, প্রায়শই দেশপ্রেমকে আবেগময় বক্তব্য, প্রতীকী আচরণ বা অন্যকে দোষারোপের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করা হয়। তবে শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, পুলিশ, প্রশাসক অথবা সাধারণ নাগরিক যাই হোন না কেন, প্রত্যেকের কাজের সততা ও দক্ষতা রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় অবদান।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, কোনো কাজ কেন হচ্ছে না বা হয় না—এ ধরনের নেতিবাচক আলোচনায় সময় নষ্ট না করে, নিজের উদ্যোগে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করা উচিত। কাজটি নিজে করে দেখিয়ে পেশাগত জীবনে উদ্ভাবনী মনোভাব গড়ে তোলা সমাজের অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি।
হোসেন জিল্লুরের মতে, ব্যক্তির চরিত্র ও অভ্যাসের পরিবর্তন ছাড়া টেকসই সামাজিক পরিবর্তন সম্ভব নয়। আত্মপলব্ধি, আত্মশুদ্ধি এবং আত্মসমালোচনার মাধ্যমে দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে ওঠে, যা দীর্ঘমেয়াদে সমাজের কাঠামোকে শক্তিশালী করে।
অনুষ্ঠানের শেষে বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তারও মতামত শেয়ার করেন। তিনি বলেন, সুস্থ সমাজ ও শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনে ব্যক্তিগত শৃঙ্খলা ও পেশাগত নৈতিকতা অপরিহার্য।
আক্তার জোর দেন, প্রত্যেক ব্যক্তি যদি নিজের দায়িত্বের ক্ষেত্র থেকে সঠিক কাজ করে এবং নিজেকে ফাঁকি না দেয়, তবে সমষ্টিগতভাবে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তিনি এই দৃষ্টিকোণকে হোসেন জিল্লুরের বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
উক্ত আলোচনার আয়োজনকারী কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন, মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের মতামত শেয়ার করার সুযোগ তৈরি করেছে। এই ধরনের প্ল্যাটফর্মে নাগরিকদের দায়িত্ববোধ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
হোসেন জিল্লুরের বক্তব্যের পর অংশগ্রহণকারীরা প্রশ্নোত্তর সেশনে তার দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে আরও বিশদ জানতে চেয়েছেন। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, দেশপ্রেমের বাস্তব রূপ হল প্রতিদিনের কাজের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য বিশ্লেষক ও নীতিনির্ধারকও একই দৃষ্টিকোণ থেকে মন্তব্য করেন যে, নীতি ও পরিকল্পনা শুধুমাত্র কাগজে নয়, বাস্তবায়নে নাগরিকের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
এই আলোচনার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্বশীলতা ও নৈতিকতার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সরকারী ও বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের জন্য এটি একটি নির্দেশক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হবে।
সারসংক্ষেপে, হোসেন জিল্লুর এবং ডা. সায়েবা আক্তার উভয়েই একমত যে, দেশপ্রেমের প্রকৃত মর্ম হল প্রতিটি ব্যক্তির নিজের কাজের মাধ্যমে দেশের কল্যাণে অবদান রাখা, যা সমাজের সামগ্রিক অগ্রগতির ভিত্তি গড়ে তুলবে।



