বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০ বছর পর চট্টগ্রামে ফিরে এসেছেন। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তিনি ঢাকা থেকে বিমানে করে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। লাল‑সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসে করে তিনি নগরের স্টেডিয়াম এলাকায় অবস্থিত হোটেল রেডিসন ব্লু বে‑ভিউ‑এর দিকে রওনা দেন, যেখানে আগামীকাল একটি দলীয় সমাবেশের আয়োজন রয়েছে।
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তিনি ইতিমধ্যে উপস্থিত দর্শনার্থী ও দলীয় কর্মীদের সঙ্গে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বাসের বাহিরে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানটি বড় অক্ষরে লেখা ছিল, যা ভিড়ের মাঝে উচ্চস্বরে উচ্চারিত হয়। তারেকের গাড়িবহর পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড়ের সদস্যরা স্লোগান গাইতে থাকে এবং তিনি বাসের সামনের দিক থেকে হাত নেড়ে প্রতিক্রিয়া জানান।
বিমানবন্দরে তারেকের স্বাগত জানাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং অন্যান্য স্থানীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তা দিক থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর তদারকি ছিল, গাড়িবহরকে ঘিরে নিরাপত্তা রক্ষী দল স্থাপন করা হয়েছিল।
মেয়র রাত্রে জানালেন, তারেক রহমান বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে শহীদ ওয়াসিম আকরাম এক্সপ্রেস রুটে লালখান বাজারে গিয়ে রেডিসন ব্লু বে‑ভিউ‑এ পৌঁছেছেন। রাস্তায় উপস্থিত লোকজন তাঁকে হাত নেড়ে স্বাগত জানায়, যা শহরের বাসিন্দাদের উচ্ছ্বাসকে প্রকাশ করে।
লাল‑সবুজ বাসে করে হোটেলে পৌঁছানোর পর তারেককে হোটেল কর্মী ও স্থানীয় সমর্থকরা স্বাগত জানিয়ে গ্রীষ্মের বাতাসে একত্রে ছবি তোলেন। হোটেল রেডিসনের লবিতে তিনি কিছু সময় বসে উপস্থিতদের সঙ্গে আলাপ করেন, যদিও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি।
আগামীকাল রোববার দুপুর সাড়ে ১১টায় নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে দলীয় সমাবেশের প্রধান অতিথি হিসেবে তারেকের নাম রয়েছে। সমাবেশে তিনি উপস্থিত হয়ে দলের পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন, তবে এ মুহূর্তে কোনো বিবরণ প্রকাশিত হয়নি।
পলোগ্রাউন্ডে সমাবেশের পর বিকেলে তিনি ফেনী জেলার ফেনী পাইলট স্কুলের মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় অংশ নেবেন। এই সভা বিকেল চারটায় শুরু হবে এবং সেখানে স্থানীয় সমর্থক ও দলের কর্মীরা উপস্থিত থাকবে।
ফেনী সভার পর তারেককে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠে বিকেল পাঁচটা ত্রিশ মিনিটে আরেকটি জনসভায় অংশ নিতে দেখা যাবে। কুমিল্লায় মোট তিনটি সভা নির্ধারিত, যার মধ্যে একটি সন্ধ্যা সাতটায় সুয়াগাজী ডিগবাজির মাঠে এবং অন্যটি সন্ধ্যা সাতটা ত্রিশ মিনিটে দাউদকান্দির কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।
কুমিল্লা থেকে ঢাকা ফেরার পথে তিনি নারায়ণগঞ্জে একটি শেষ জনসভায় অংশ নেবেন, যা তার সফরের সমাপ্তি চিহ্নিত করবে। নারায়ণগঞ্জে অনুষ্ঠিত সভা স্থানীয় নেতাদের সমর্থনে অনুষ্ঠিত হবে এবং উপস্থিতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই সফর তারেকের জন্য ২০ বছরের পর চট্টগ্রলে প্রথম উপস্থিতি, যা স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের সঞ্চার করেছে। সফরের সময়সূচি ও রুটের মাধ্যমে তিনি চারটি জেলায় সমানভাবে উপস্থিত হয়ে দলের ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্য রাখছেন।
বিএনপি নেতৃত্বের মতে, এই সফর পার্টির সংগঠন পুনর্গঠন ও নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরিকল্পিত। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচনী ঘোষণা বা কৌশলগত বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি।
সার্বিকভাবে, তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর দলীয় সমাবেশ, জনসভা এবং স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিবিধি তৈরি করেছে। সফরের পরবর্তী ধাপগুলো পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নির্বাচনী কৌশলে কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা সময়ই বলবে।



