28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধইরান সরকার আইএসের সঙ্গে জড়িত দুইকে বাস বোমা মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে

ইরান সরকার আইএসের সঙ্গে জড়িত দুইকে বাস বোমা মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে

ইরান সরকার শনিবার ঘোষণা করেছে যে তীর্থযাত্রীদের বহনকারী একটি বাসে ২০২৩ সালে সংঘটিত বোমা হামলার সঙ্গে যুক্ত দুই ব্যক্তি আজ মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন। ওই হামলা তেহরান থেকে ইরাক সীমান্তের নিকটবর্তী ইলাম প্রদেশের পথে ঘটেছিল এবং শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে ব্যাপক শক সৃষ্টি করেছিল। সংশ্লিষ্ট দুজনকে সুন্নি জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসের সঙ্গে সংযোগের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত ফাঁসির আদেশ কার্যকর করা হয়।

২০২৩ সালের শেষের দিকে তেহরান থেকে ইলামের দিকে যাত্রা করা বাসে বিস্ফোরক বসিয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। রাস্তায় চলমান এই গাড়ি হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়ে এক শিশুকে প্রাণ হারাতে বাধ্য করে এবং বহু যাত্রীকে আঘাত করে। ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা পৌঁছানোর পর আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তবে সুনির্দিষ্ট আহত সংখ্যা সরকারী সূত্রে প্রকাশ করা হয়নি।

হামলার পরপরই ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী বিস্তৃত তদন্ত শুরু করে এবং বিস্ফোরকের উৎপত্তি ও দায়িত্বশীলদের সনাক্ত করার জন্য তথ্য সংগ্রহ করে। তদন্তে প্রকাশ পায় যে বোমা বসানোর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন আইএসের সঙ্গে যুক্ত কিছু লোকের সমন্বয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে এই ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে বিরল, তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা ও গোষ্ঠীর পারস্পরিক বিরোধের ফলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সহযোগিতা এবং গণহত্যা সংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়। আদালতে উভয়কে আইএসের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়, যার মধ্যে যোগাযোগ রেকর্ড ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিচারকরা এই প্রমাণের ভিত্তিতে উভয়কে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

মৃত্যুদণ্ডের আদেশের পর থেকে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় এবং অভিযুক্তদের আপিলের সুযোগ দেওয়া হয়। তবে আপিল প্রক্রিয়ায় কোনো নতুন প্রমাণ উপস্থাপিত না হওয়ায় উচ্চতর আদালতও মূল রায় বজায় রাখে। শেষ পর্যন্ত, ইরান সরকারের অনুমোদনে আজকের দিনেই ফাঁসির আদেশ কার্যকর করা হয়।

সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, ফাঁসির সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয় এবং কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেনি। ইরান সরকার জোর দিয়ে বলেছে যে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হবে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থা ভবিষ্যতে অনুরূপ হুমকি প্রতিরোধে অতিরিক্ত নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ বাড়াবে।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, ইরানে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার বেশ কঠোর শর্তে সীমাবদ্ধ এবং কেবলমাত্র গুরুতর অপরাধে, বিশেষ করে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে প্রয়োগ করা হয়। এই ক্ষেত্রে, আদালত যুক্তি দিয়েছে যে বোমা হামলা জনসাধারণের নিরাপত্তার প্রতি সরাসরি হুমকি এবং বহু প্রাণহানির কারণ হয়েছে, তাই মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি ন্যায়সঙ্গত।

হামলার পর থেকে ইরানি নিরাপত্তা বিভাগ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে তোলার কথা জানিয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে যে আইএসের মতো গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত কোনো সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সন্ধান ও ধ্বংস করা দেশের নিরাপত্তা নীতির অগ্রাধিকার। ভবিষ্যতে এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা রোধে সীমানা পারাপার নজরদারি ও তথ্য শেয়ারিং বাড়ানো হবে।

এই ঘটনার মাধ্যমে ইরান সরকার সন্ত্রাসী অপরাধের শাস্তি কঠোর করার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনগত কাঠামো শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত, ফাঁসির পরেও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থা ঘটনাস্থল ও আশেপাশের এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখবে, যাতে কোনো পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments