খাগড়াছড়ি জেলার সদর উপজেলায় ১৪ জানুয়ারি বিকেলে জমি মালিকানার বিবাদে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মারামারির পর ৫০ বছর বয়সী বিমল ত্রিপুরা মারা গেছেন। ঘটনাটি কমলছড়ি ইউনিয়নের ভূয়াছড়ি গ্রাম থেকে শুরু হয়, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে ভূমি নিয়ে বিরোধ চলছিল।
স্থানীয় পুলিশ অতিরিক্ত সুপারভাইজার শাহাদাত হোসেনের মতে, এই সংঘর্ষটি জমি মালিকানার ওপর দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের ফল, এবং কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই ধরনের ঘটনা যেন কোনো দলীয় এজেন্ডা হিসেবে ব্যবহার না হয়।
বিবাদের মূল বিষয়টি ছিল রাজশাহী টিলার একটী জমি, যার মালিকানা নিয়ে মংশিতু মার্মা (৪০) ও মো. আব্দুল বসিরের (৫৭) পরিবারে মতবিরোধ ছিল। উভয় পক্ষই দাবি করছিল যে জমিটি তাদের নিজস্ব, ফলে পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়ে।
১৪ জানুয়ারি বিকালে উভয় গোষ্ঠীর সদস্যরা ঐ জমিতে আগুন জ্বালিয়ে দৌড়ে গিয়ে মারামারি শুরু করে। গুলির গর্জন ও অগ্নিকাণ্ডের ফলে কয়েকজন আহত হন, যার মধ্যে বিমল ত্রিপুরা, মিলন চাকমা এবং থৈহলা অং অন্তর্ভুক্ত। তারা সকলেই স্থানীয় জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়।
আবদুল বসিরের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগে একই হাসপাতালে ভর্তি হন। পরবর্তীতে, আহতদের অবস্থা খারাপ হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল হসপিটালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
চিকিৎসা চলাকালীন, বিমল ত্রিপুরার স্বাস্থ্যের অবনতি দ্রুত ঘটায় এবং শুক্রবার রাতেই তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল হসপিটালে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর পরিবার ও স্থানীয় মানুষ শোক প্রকাশ করে।
মংশিতু মার্মা ঘটনাস্থলে খাগড়াছড়ি সদর থানায় একটি অপরাধমূলক মামলা দায়ের করেন, যেখানে তিনি হামলা ও আঘাতের অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মোসাম্মদ খাদিজা নামের এক নারীও একই সময়ে পাল্টা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মংশিতুর মামলায় চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা থেকে দুইজন সন্দেহভাজন, মো. আবদুর রশিদ ও মো. আল আমিন, পূর্বে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে, খাদিজার মামলায় অভিযুক্তরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে এবং জামিন পেয়ে গেছেন।
বিচারিক প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা অনুসারে, মংশিতুর মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ শীঘ্রই নির্ধারিত হবে। খাদিজার মামলায় জামিনের শর্তে রিলিজ করা হয়েছে, তবে মামলাটি এখনও চলমান।
পুলিশ সুপারভাইজার শাহাদাত হোসেন অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, এই ধরনের জমি বিরোধে কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে হস্তক্ষেপ করতে না দেওয়া জরুরি, যাতে বিষয়টি সামাজিক অশান্তি না বাড়ে। তিনি সকলকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
বর্তমানে, স্থানীয় পুলিশ দল ঘটনাস্থল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘর্ষ রোধে পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।



