বরিশাল বিভাগের উজিরপুর জেলায় শনিবার ভোরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পরিকল্পিত অভিযানে গাঁজা, ইয়াবা এবং ধারালো অস্ত্রসহ এক সন্দেহভাজন আটক করা হয়েছে। অভিযানের লক্ষ্য ছিল মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহ চেইন ভাঙা এবং স্থানীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
অভিযানটি উজিরপুরের সানুহার গ্রাম থেকে শুরু হয় এবং রাত্রিকালীন সময়ে সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় পুলিশও সমন্বয় করে কাজ করে।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি মাসুদ হাওলাদার, বয়স চল্লিশ বছর, সানুহার গ্রামবাসী। তার পরিচয় যাচাই করার পর তাকে অবিলম্বে আটক করা হয়।
উজিরপুর মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম জানান, অভিযানে এক সন্ত্রাসী ধরা পড়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অভিযানের সময় কোনো রোধবোধ হয়নি এবং সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে।
তদন্তে মোট ২৯২ পিস ইয়াবা, দুইটি ধারালো চাকু এবং গাঁজা গাছের শাখা-প্রশাখা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ স্থানীয় মাদক সমস্যার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
পুলিশ মাদক আইনের অধীনে মামলা দায়ের করেছে এবং মাসুদ হাওলাদারকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংশ্লিষ্ট অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
আদালতে উপস্থিতি নিশ্চিত করার পর, মাসুদকে জেলখানায় পাঠানোর আদেশ জারি করা হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে তাকে অতিরিক্ত শাস্তি দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় মানুষদের মতে, মাসুদ দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা এবং চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পূর্বে বহুবার স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন এবং সরাসরি সেনা ক্যাম্পে অভিযোগ উপস্থাপন করেছেন।
অভিযানের পর এলাকার মানুষজন নিরাপত্তা নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছে। তারা আশা করছেন, এই ধরনের পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা থাকলে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের প্রবাহ কমে যাবে।
অভিযানটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সম্প্রতি চালু করা নিরাপত্তা উদ্যোগের অংশ, যা গ্রামীণ এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনকে লক্ষ্য করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে একই ধরনের অভিযান চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে।
মাসুদ হাওলাদারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে চলমান এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ আদালত থেকে জানানো হবে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলখানায় রাখা হবে।
এই ঘটনার পর, উজিরপুরে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয় বাড়ানো হবে। জনগণকে অবৈধ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ না করার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, উজিরপুরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সফল অভিযান স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



