ঢাকা-৮ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং এনসিপিআই নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শনিবার (২৪ জানুয়ারি) শান্তিনগর বাজারে অনুষ্ঠিত গণসংযোগে তীব্র ভাষণে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত দাবি ও হুমকি জানিয়ে তোলেন। তিনি উপস্থিত ভক্ত ও সমর্থকদের সামনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন যে তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো আপস করবেন না। এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তীব্র মন্তব্য করেন।
রালি শান্তিনগর বাজারের প্রধান চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রায় দুই হাজার সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। পাটওয়ারী মঞ্চে উঠে তার বক্তব্য শুরু করেন এবং উপস্থিতদের উচ্ছ্বাসে ভরা পরিবেশ দেখা যায়। তিনি সমাবেশের সময় তার মূল লক্ষ্যগুলো তুলে ধরেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এনসিপিআই-র জাতীয় নেতা এবং ঢাকা-৮ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি পূর্বে পার্টির সংগঠন ও কৌশলগত পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার এই রালি তার নির্বাচনী কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পাটওয়ারী বলেন, যদি কেউ তাকে গুলি করে তবে তার হাফপ্যান্ট খুলে যাবে, কারণ পূর্বে তাদের দল শেখ হাসিনার হাফপ্যান্ট খুলে দিল এবং তা দিল্লিতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তিনি এই উদাহরণটি ব্যবহার করে নিজের নিরাপত্তা সম্পর্কে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন। এই মন্তব্যে তিনি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতি সতর্কতা জানিয়ে দেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে তার সঙ্গে কোনো হাঙ্কি‑পাঙ্কি করা যাবে না এবং যদি কেউ তা করার চেষ্টা করে তবে যথাযথ প্রতিক্রিয়া পাবেন। পাটওয়ারী বলেন, তিনি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো শক্তির ভয় পান না। এই বক্তব্যে তিনি ধর্মীয় আস্থা ও ব্যক্তিগত দৃঢ়তা তুলে ধরেছেন।
রালিতে তিনি উপস্থিতদেরকে লক্ষ্য করেন যে কিছু লোকের হাতে প্রচুর টাকা আছে, তবে তারা গাড়িতে হকিস্টিক ও স্ট্যাম্প নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি গুলিস্তানে স্ট্যাম্প ও হকিস্টিকের ঘাটতি উল্লেখ করে বলেন, সবই বিক্রি হয়ে গেছে। পাটওয়ারী এ নিয়ে একটি চ্যালেঞ্জ উত্থাপন করেন, ‘খেলা হবে, দেখুন কীভাবে আপনি মোকাবিলা করবেন’।
তারপর তিনি এক হাদি মারা গিয়েছে, তবে লক্ষ হাদি এই আসনে দাঁড়াবে এমন দাবি করেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে ৮টি আসন তারা ছাড়বে না। পাটওয়ারী এই রকম হুমকি দিয়ে প্রতিপক্ষকে সতর্ক করেন যে তারা তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিলে কঠোর শাস্তি পাবে। তিনি নিজের দলের দৃঢ়তা ও নির্বাচনী সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেন।
পাটওয়ারী জানান, তারা ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করবে এবং এরপর প্রতিটি চাঁদাবাজকে প্রশাসনের হাতে তুলে দেবে। তিনি সব দুর্নীতিবাজ, এবং তার ভাইয়ের ওপর আক্রমণকারী সন্ত্রাসীদেরও একইভাবে হস্তান্তর করার কথা বলেন। এই ঘোষণায় তিনি প্রশাসনের ভূমিকা ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন।
তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে তারা কোনো ভয় পাবে না এবং রাজনৈতিক ‘খেলা’ অব্যাহত থাকবে। পাটওয়ারী দাবি করেন, বাংলাদেশে ১০ দলীয় ঐক্যের জয় হবে এবং শাপলা কলির জয় নিশ্চিত হবে। এই মন্তব্যগুলো তার নির্বাচনী কৌশল ও জোটের লক্ষ্যকে তুলে ধরে।
প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক এই ধরনের রালির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেন যে উগ্র ভাষা ভোটারদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়াতে বাধ্য করতে পারে। তবে এই বিশ্লেষণগুলো এখনও প্রকাশিত কোনো সূত্রের উপর ভিত্তি করে নয়।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই রালির পরিণতি নির্বাচনী পরিবেশে কী রকম প্রভাব ফেলবে তা এখনো অনিশ্চিত। যদি তার দাবিগুলো বাস্তবায়িত হয়, তবে জোটের অভ্যন্তরীণ সংহতি ও বিরোধী দলের কৌশল পরিবর্তিত হতে পারে। অন্যদিকে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়লে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ বাড়তে পারে, যা ভোটারদের আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর শান্তিনগর বাজারে অনুষ্ঠিত রালি রাজনৈতিক রেটোরিক, নিরাপত্তা হুমকি এবং নির্বাচনী পরিকল্পনা একসাথে উপস্থাপন করেছে। তার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো কীভাবে সাড়া দেবে তা আগামী সপ্তাহে স্পষ্ট হবে। এই বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ একটি মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



