জাতীয় নাগরিক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনুভা জাবীন ফেসবুকের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন যে, গণ-অভ্যুত্থানের নেতা হওয়ার কথা যাঁরা, ওবায়দুল কাদের ও শওকত ওসমান হয়ে গেছেন। তিনি এই মন্তব্যকে এক পোস্টে প্রকাশ করে রাজনৈতিক পরিবেশের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সতর্কতা জানিয়েছেন।
তাজনুভা জাবীন উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে যারা রাজনৈতিক ধান্দায় প্রবেশ করছে, তারা দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে সবচেয়ে বড় প্রতারক ও ধোঁকাবাজ হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন প্রার্থীরা ধান্দা চালিয়ে জনগণের বিশ্বাসকে শোষণ করছে।
তিনি আরও জানান, দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে বহু মানুষের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে কিছু ব্যক্তি অহংকার ও দাম্ভিকতা প্রদর্শন করছে। তাজনুভা জাবীন এই আচরণকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
তাজনুভা জাবীন উল্লেখ করেন, জুলাই ২০২৩-এ গৃহীত গণ-অভ্যুত্থানের গর্ভ থেকে উদ্ভূত নতুন মুখগুলো এখন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছে। তিনি বলেন, এই নতুন মুখগুলো রাজনৈতিক মঞ্চে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদেরকে অগ্রগণ্য হিসেবে উপস্থাপন করছে, যদিও তাদের কাজের পদ্ধতি প্রশ্নবিদ্ধ।
তিনি এই নতুন রাজনীতিবিদদের দৈনন্দিন আচরণ ও মানুষের প্রতি অবস্থানকে স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন। তাজনুভা জাবীন বলেন, তাদের অহংকার ও স্বকীয়তা দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য ক্ষতিকারক।
তাজনুভা জাবীন নিজের অভিজ্ঞতা থেকে উল্লেখ করেন, যদিও অনেকের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি রয়েছে, তবু নীতি, শিক্ষা, মূল্যবোধ ও আদর্শে ঘাটতি রয়েছে। তিনি বলেন, এই ঘাটতি তাদেরকে অযোগ্য ও অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, এই নতুন ধনবাদীরা দেড় বছরে দ্রুত রাজনৈতিক শীর্ষে পৌঁছেছে। তাজনুভা জাবীন উল্লেখ করেন, এই দ্রুত অগ্রগতি দেশের রাজনৈতিক কাঠামোর স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করেছে।
তাজনুভা জাবীন স্পষ্টভাবে বলেন, পুরনো চাঁদাবাজ ও ধর্ম ব্যবসায়ী নয়, বরং নতুন ধান্দাবাজই সবচেয়ে বড় প্রতারক। তিনি এই নতুন ধনবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, এই নতুন ধনবাদীরা মানুষের ঘৃণা বাড়াচ্ছে এবং রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির করছে। তাজনুভা জাবীন বলেন, এই প্রবণতা দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
পোস্টে তাজনুভা জাবীন রাজনৈতিক সততা, আদর্শ ও নৈতিকতার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং ভবিষ্যতে এই ধরণের ধোঁকাবাজদের বিরুদ্ধে সতর্কতা ও প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে সঠিক পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য সকল রাজনৈতিক দলকে নৈতিক মানদণ্ড মেনে চলতে বলছেন।
এই মন্তব্যের পর, জাতীয় নাগরিক দলের অভ্যন্তরে কিছু আলোচনা শুরু হয়েছে, তবে তাজনুভা জাবীন কোনো নির্দিষ্ট পদক্ষেপের ঘোষণা দেননি। তিনি রাজনৈতিক সংস্কার ও নৈতিক নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে দেশের রাজনৈতিক সংস্কারকে ত্বরান্বিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।



