কায়রো আন্তর্জাতিক বইমেলা ৫৭তম সংস্করণে ২১ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মিশরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই মেলায় বাংলাদেশি লেখক খতিব মুফতি আবদুল মালেকের আরবি গ্রন্থ আন্তর্জাতিক পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মেলার মূল থিম “যে এক ঘণ্টার জন্য বই পড়া বন্ধ করে দেয়, সে শতাব্দীকালের জন্য পিছিয়ে পড়ে” স্লোগানকে ভিত্তি করে বইয়ের গুরুত্বকে তুলে ধরা হয়েছে।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বইমেলা হিসেবে ফ্রাঙ্কফুর্টের পরেই এই মেলা গর্বের সঙ্গে ৮৩টি দেশের অংশগ্রহণে গৃহীত হয়েছে। মেলার হলগুলো বিষয়ভিত্তিকভাবে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক প্রকাশনা, ধর্মীয় গ্রন্থ এবং শিশুদের জন্য বিশেষ কর্নার রয়েছে। মেলায় মোট ১,৪৫৭টি প্রকাশনী ও ৬,৬৩৭ জন প্রদর্শক অংশগ্রহণ করেছে এবং প্রায় ৪০০টি সাংস্কৃতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের বিশিষ্ট স্কলার এবং বাইতুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব, মুফতি আব্দুল মালেকের রচিত আরবি গ্রন্থগুলো এই মেলায় বিশেষ মনোযোগ পেয়েছে। তার গবেষণামূলক গ্রন্থগুলো আন্তর্জাতিক পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং মেলার বেস্টসেলার তালিকায় স্থান পেয়েছে।
মুফতি আব্দুল মালেকের হাফি. এর বিখ্যাত আরবি গ্রন্থ “আল-মাদখাল ইলা উলুমিল হাদিসিশ শরিফ” ২০২১ সালে বেস্টসেলারে স্থান পায় এবং ২০২৬ সালের এই সংস্করণেও একই মর্যাদা বজায় রেখেছে। এই গ্রন্থটি হাদিসের বিজ্ঞানসম্মত বিশ্লেষণ ও গবেষণার জন্য পরিচিত এবং আন্তর্জাতিক পণ্ডিতদের কাছেও প্রশংসিত।
বইমেলায় তার নতুন গবেষণামূলক গ্রন্থগুলোও উচ্চ প্রশংসা পেয়েছে, যা ইসলামী ঐতিহ্য ও আধুনিক গবেষণার সংযোগ স্থাপন করে। এই গ্রন্থগুলোতে প্রাচীন হাদিসের সূত্র বিশ্লেষণ এবং সমসাময়িক প্রয়োগের আলোচনা রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক একাডেমিক সম্প্রদায়ের আগ্রহ জাগিয়ে তুলেছে।
মেলাটি জেনারেল ইজিপশিয়ান বুক অর্গানাইজেশন (GEBO)-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। ১ নম্বর হল আয়োজক সংস্থা ও কালচারাল প্যালেস অথরিটি, ২ ও ৩ নম্বর হল বিদেশি প্রকাশনা ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশনা সংস্থা, এবং ৪ নম্বর হল ধর্মীয় প্রকাশনা ও আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় প্যাভিলিয়ন। এখানে ফতুয়া কর্নার এবং বিনামূল্যে উপহারের ব্যবস্থা রয়েছে।
ধর্মীয় প্রকাশনা হলের পাশাপাশি আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় প্যাভিলিয়নে আরবি ভাষার দুষ্প্রাপ্য কিতাবের সংগ্রহ প্রদর্শিত হয়েছে, যা গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য মূল্যবান সম্পদ হিসেবে কাজ করছে। ফতুয়া কর্নারে ধর্মীয় প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হয় এবং দর্শকদের জন্য বিনামূল্যে উপহার বিতরণ করা হয়।
৫ নম্বর হলটি শিশুদের জন্য বিশেষভাবে সাজানো হয়েছে; এখানে নামমাত্র মূল্যে বই ও বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। শিশুদের পাঠ্যাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন ইন্টারেক্টিভ কার্যক্রম ও গল্পের সময়সূচি চালু করা হয়েছে।
মেলার সময়সূচিতে ৪০০টিরও বেশি সাংস্কৃতিক কর্মশালা অন্তর্ভুক্ত, যেখানে লেখক সেশন, অনুবাদ কর্মশালা এবং প্রকাশনা শিল্পের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই কর্মশালাগুলো স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীদের জন্য জ্ঞানবিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।
এই বছরের মেলায় ব্যক্তিত্বের পুরস্কার নোবেলজয়ী মিশরীয় সাহিত্যিক নাগিব মাহফুজকে প্রদান করা হয়েছে। মেলায় সব প্রকাশনায় ৩০% ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা পাঠকদের বই কেনার উৎসাহ বাড়িয়ে তুলেছে। এছাড়া মিশর সরকারের “A Library for Every Home” প্রকল্পের আওতায় বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারে একটি বইয়ের সংগ্রহ নিশ্চিত করা হবে।
বাংলাদেশের পাঠক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এই মেলাটি আন্তর্জাতিক প্রকাশনা বাজারের প্রবণতা সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেয়। যদি আপনি আপনার লাইব্রেরি সমৃদ্ধ করতে চান, তবে মেলার শেষ দিন ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অংশগ্রহণ করে বেস্টসেলার গ্রন্থগুলো ও নতুন গবেষণামূলক কাজগুলো সংগ্রহ করা একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে।



