লাহোরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি টি‑২০ বিশ্বকাপের আয়োজন নিয়ে বাংলাদেশকে অন্যায়ের শিকার বলে অভিযোগ করেন। তিনি জানিয়ে দেন, আইসিসি কর্তৃক নির্ধারিত ভারতীয় ভেন্যুতে বাংলাদেশকে খেলতে না দিলে পাকিস্তান দল টুর্নামেন্ট থেকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সরকারকে পরামর্শ দেবেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ৪ জানুয়ারি নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে আইসিসি থেকে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায়। তবে ২১ জানুয়ারি আইসিসি জানায়, পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশকে ভারতেই খেলতে হবে। এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে পিসিবি চেয়ারম্যান নাকভি লাহোরে মিডিয়ার সামনে তার মতামত প্রকাশ করেন।
নাকভি উল্লেখ করেন, অতীতে ভারত ও পাকিস্তানকে যে সুবিধা প্রদান করা হয়েছে, তা বাংলাদেশকেও দেওয়া উচিত। তিনি আইসিসি বোর্ড মিটিংয়ে একই বিষয় তুলে ধরেছেন এবং দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করা যায় না বলে সতর্ক করেন। “এক দেশ যখন ইচ্ছা মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে, আর অন্য দেশের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিপরীত আচরণ করা হয়,” তিনি বলেন।
ক্রিকইনফোর সূত্রে জানা যায়, আইসিসি সম্প্রতি বাংলাদেশকে স্কটল্যান্ডকে তার স্থানে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা জানিয়েছে, তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। নাকভি এই তথ্যের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা উচিত, কারণ তারা ক্রিকেটের বড় অংশীদার।
এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এএসিসি) এর প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে নাকভি জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে এবং তাদের কোনো অবস্থাতেই বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দেওয়া উচিত।” তিনি দেশের প্রতি এই অবিচারকে নিন্দা করেন এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ন্যায়বিচার বজায় রাখার আহ্বান জানান।
পাকিস্তানের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। নাকভি স্পষ্ট করেন, টুর্নামেন্ট বর্জনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাকিস্তান সরকারের হাতে, এবং প্রধানমন্ত্রী বিদেশে থাকায় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
তিনি যোগ করেন, “প্রধানমন্ত্রী ফিরে এলে আমরা সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী চূড়ান্ত পদক্ষেপ জানাব।” নাকভি জোর দিয়ে বলেন, পিসিবি সরকারী নির্দেশে কাজ করে, আইসিসির নয়, তাই কোনো সিদ্ধান্ত সরকারের অনুমোদন ছাড়া নেওয়া হবে না।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসি থেকে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুমতি না পেয়ে চাপের মুখে রয়েছে। নাকভি উল্লেখ করেন, যদি বাংলাদেশকে টি‑২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়া হয়, তবে পাকিস্তান দলও টুর্নামেন্ট থেকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সরকারকে জানাবে।
আইসিসি এখনও স্কটল্যান্ডকে বাংলাদেশীয় স্লটের বিকল্প হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি। নাকভি এই অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “বিশ্বকাপের ন্যায্যতা নিশ্চিত করা সকলের দায়িত্ব।” তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে সমানভাবে আচরণ করার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে নাকভি উল্লেখ করেন, পাকিস্তান সরকার টি‑২০ বিশ্বকাপের বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করবে এবং সরকারের সিদ্ধান্তের পরই কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে। তিনি বলেন, “আমরা সরকারের অধীনে কাজ করছি, আইসিসির নয়,” এবং ভবিষ্যতে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।



