28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাগাজীপুরের যমুনা ডেনিম কারখানায় শ্রমিক বিক্ষোভে পুলিশ-সংঘর্ষ, কারখানা অনির্দিষ্টকাল বন্ধ

গাজীপুরের যমুনা ডেনিম কারখানায় শ্রমিক বিক্ষোভে পুলিশ-সংঘর্ষ, কারখানা অনির্দিষ্টকাল বন্ধ

গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় যমুনা ডেনিম গার্মেন্টস অ্যান্ড ওয়াশিং লিমিটেডের শ্রমিকরা শনিবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত প্রতিবাদে অংশ নেয়। কর্মীরা সড়ক অবরোধের মাধ্যমে তাদের দাবি প্রকাশ করে, ফলে পুলিশ ও কর্মীদের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

প্রতিবাদের মূল কারণ ছিল পূর্বে উপস্থাপিত দাবিগুলোর পূর্ণতা না হওয়া, যদিও কোম্পানি কিছু দাবি মেনে নিয়েছিল। তবে কর্মীরা নতুন কিছু দাবি নিয়ে আবার আন্দোলন শুরু করে, যা পরিস্থিতিকে তীব্র করে দেয়।

সকাল ৯টার দিকে কর্মীরা কারখানার প্রবেশদ্বার থেকে বেরিয়ে আসার পর আবার সড়কে অবস্থান নেয়। এই সময়ে কিছু কর্মী ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে, যার ফলে পুলিশকে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল ব্যবহার করতে বাধ্য হয়।

পুলিশের মতে, বিক্ষোভকারীরা ইট-পাটকেল ছুঁড়ে মারার পরই তারা গ্যাস ও শব্দগ্রেনেড ব্যবহার করে। এই পদক্ষেপে কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে কারখানার সামনের কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড ও আশেপাশের ফিডার রোডে ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষের সময় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের কনস্টেবল মোহাম্মদ আরিফ হোসেন ইটের আঘাতে আহত হন। তবে অন্যান্য শ্রমিকদের আঘাতের তথ্য পুলিশ থেকে পাওয়া যায়নি।

অবস্থার অবনতি লক্ষ্য করে কারখানা কর্তৃপক্ষ সকাল ১০টার দিকে প্রধান ফটকে নোটিশ জারি করে, এবং অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দেয়। এরপর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

কোনাবাড়ি থানার ওসি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন মাহমুদ জানান, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বজায় আছে এবং শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা চলমান। তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখার কথা পুনরায় জোর দেন।

এই ঘটনার ফলে গার্মেন্টস সেক্টরের উৎপাদন শৃঙ্খলে অস্থায়ী ব্যাঘাত ঘটেছে। যমুনা ডেনিমের মতো মাঝারি আকারের কারখানা বন্ধ হলে অর্ডার পূরণে দেরি হতে পারে, যা রপ্তানি সময়সূচি ও গ্রাহক সন্তুষ্টিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

স্থানীয় অর্থনীতিতে শ্রমিকদের আয় বন্ধ হওয়ায় ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। পাশাপাশি, সরবরাহকারী ও লজিস্টিক পার্টনারদের জন্যও অস্থায়ী শূন্যতা সৃষ্টি হতে পারে, যা নগদ প্রবাহে চাপ বাড়াতে পারে।

রপ্তানি-নির্ভর গার্মেন্টস শিল্পের জন্য এই ধরনের শ্রমিক-প্রশাসনিক সংঘাতের পুনরাবৃত্তি ঝুঁকি বাড়ায়। আন্তর্জাতিক ক্রেতারা সময়মতো ডেলিভারির নিশ্চয়তা চাইতে পারে, ফলে অতিরিক্ত গুণগত নিয়ন্ত্রণ বা বিকল্প সরবরাহকারী খোঁজার প্রয়োজন হতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদে শ্রমিকদের দাবি মেটাতে কার্যকর সমঝোতা প্রক্রিয়া গড়ে তোলা শিল্পের স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান পরিস্থিতি দেখায় যে, শ্রমিক-প্রশাসন সম্পর্কের স্বচ্ছতা ও দ্রুত সমাধান না হলে উৎপাদন বন্ধের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা বাজারের বিশ্বাসযোগ্যতা ও বিনিয়োগের পরিবেশকে প্রভাবিত করবে।

সারসংক্ষেপে, গাজীপুরের যমুনা ডেনিম কারখানায় শ্রমিক বিক্ষোভ ও পুলিশের হস্তক্ষেপের পর উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা গার্মেন্টস শিল্পের সরবরাহ শৃঙ্খল, কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি বাজারে সম্ভাব্য প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়, এবং শ্রমিক-প্রশাসন সংলাপের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments