ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য ঢাকা‑৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাসনিম জারা তার নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছেন। তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শনিবার বিকেলে ভোটারদের উদ্দেশ্য করে লিখেছেন যে, “ঢাকা‑৯-কে অবহেলার দিন শেষ” এবং আসন্ন নির্বাচনে “ফুটবল মার্কা” ভোটের আহ্বান জানিয়েছেন।
তাসনিম জারা, যিনি জুলাই ২০২৩-এ জাতীয় নাগরিক দল (জাতীয় নাগরিক দল) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, চিকিৎসক পেশা থেকে রাজনীতিতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে নিজের প্রতীক হিসেবে ফুটবল চিহ্ন ব্যবহার করবেন।
ইশতেহারে তিনি ঢাকা‑৯ আসনের ছয়টি প্রধান সমস্যাকে চিহ্নিত করে প্রতিটি সমস্যার জন্য নির্দিষ্ট সমাধানের পথ উল্লেখ করেছেন। প্রথমটি গ্যাস, রাস্তা ও জলাবদ্ধতা সংক্রান্ত, যেখানে তিনি বাসযোগ্য পরিবেশের দাবি করেছেন। দ্বিতীয়টি স্বাস্থ্যসেবা, যেখানে চিকিৎসা অবহেলা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তৃতীয়টি নিরাপত্তা, যেখানে মাদক সিন্দুকের কার্যক্রম দমন করে রাস্তা নিরাপদ করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। চতুর্থটি শিক্ষা, যেখানে সন্তানদের ওপর অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধের দাবি করা হয়েছে। পঞ্চমটি অর্থনীতি ও জীবিকা, যেখানে মেধা ও সুযোগের সমতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
ষষ্ঠটি এমপির জবাবদিহিতা, যেখানে তিনি নিজেকে “অতিথি পাখি” না বলে ভোটারদের ঘরের মেয়ে হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা জোর দিয়েছেন। প্রতিটি সমস্যার নিচে তিনি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানকে ভিত্তি করে বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপের রূপরেখা দিয়েছেন।
ইশতেহারে তাসনিম জারা ঢাকা‑৯ এলাকার কিছু বাসিন্দা যে ধরনের বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন তা উল্লেখ করে ফেসবুকে অভিযোগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমরা গুলশান‑বনানীর সমান কর দিই, সমান বিল দিই, কিন্তু সেবা পাই তৃতীয় শ্রেণির” এবং ভোটের সময় নেতারা এসে ভোট নেন, পরে অদৃশ্য হয়ে যান।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “রাষ্ট্র আমাদের এটিএম মেশিনের মতো দেখে, টাকা নেওয়ার সময় আছে, সেবা দেওয়ার সময় নেই” এবং নিজেকে পেশাদার রাজনীতিবিদ না বলে জোর দিয়ে বলেন, “আমি এই এলাকার মেয়ে, আমার কথা পরিষ্কার, ঢাকা‑৯-কে অবহেলার দিন শেষ”।
তাসনিম জারা দাবি করেন, “আমরা সমান কর দিই, আমাদের অধিকারও সমান, ন্যায্য পাওনা এবার আমরা বুঝে নেব” এবং ভোটারদের সঙ্গে একটি চুক্তি গড়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি ইশতেহারের শেষে বলেন, “আমি যা লিখেছি, তা কীভাবে বাস্তবায়ন করব, সেই পরিকল্পনা করেই”।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাসনিম জারার স্বতন্ত্র প্রার্থিতা এবং তার ইশতেহার এখনো অন্যান্য প্রধান রাজনৈতিক দল থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পায়নি। তবে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতি নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় নতুন গতিবিধি আনতে পারে।
জাতীয় নাগরিক দল (জাতীয় নাগরিক দল) থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তাসনিম জারা তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, “জুলাই গণ‑অভ্যুত্থানের পর স্বচ্ছভাবে রাজনীতি করার ও দেশ গড়ার একটা সুযোগ এসেছে” এবং তিনি এই সুযোগে নেমে এসেছেন।
ইশতেহারে উল্লেখিত সমাধানগুলোতে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়, অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবার মানোন্নয়ন, মাদক দমন অভিযান এবং জনসাধারণের তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
আসন্ন নির্বাচনে তাসনিম জারার ফুটবল চিহ্নের ব্যবহার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থিতার মাধ্যমে তিনি ভোটারদের নতুন বিকল্প উপস্থাপন করতে চেয়েছেন। তার ইশতেহার ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে সামাজিক মিডিয়া ও স্থানীয় সভা-আলোচনা ব্যবহার করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এই ইশতেহার প্রকাশের পর ঢাকা‑৯ এলাকার ভোটারদের মধ্যে তাসনিম জারার নীতি ও পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কিছু ভোটার তার স্বচ্ছতা ও সমস্যার নির্দিষ্ট সমাধানের দিকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছেন, অন্যদিকে কিছু ভোটার এখনও তার স্বতন্ত্র প্রার্থিতার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
সংক্ষেপে, তাসনিম জারার স্বতন্ত্র প্রার্থিতা, তার ছয়টি সমস্যার তালিকা এবং প্রতিটি সমস্যার জন্য নির্দিষ্ট সমাধান পরিকল্পনা ঢাকা‑৯ আসনের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিক যোগ করেছে। নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে গড়ে উঠবে তা সময়ই বলবে।



