ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে শহীদ ইমরানের বাবা, ছোয়াব মিয়া, রোড দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর পর শোক প্রকাশের জন্য বিএনপি নেতা ও কর্মীরা গৃহপরিদর্শনে গিয়েছেন। শনিবার দুপুরে দলীয় সভাপতি তারেক রহমানের নির্দেশে দলীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নৌকা ব্যবহার করে পরিবারের বাড়িতে পৌঁছান এবং সমবেদনা জানান।
ছোয়াব মিয়া, যিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শহীদ ইমরানের পিতা হিসেবে পরিচিত, রোড দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ায় পরিবার গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে। তার মৃত্যু সংবাদ শোনার পর, বিএনপি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে শোকের মুহূর্তে পরিবারকে সমর্থন জানাতে উদ্যোগ নেয়।
বিএনপি দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক, জেলা বিএনপি সভাপতি, এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলসহ একাধিক উচ্চপদস্থ নেতা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলা সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন, নাসিরনগর উপজেলা সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের প্রার্থী এম এ হান্নান, সহ-সভাপতি এডভোকেট আনিসুর রহমান মঞ্জু, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আলী আজ্জম, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান শাহীন, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ মাহিন এবং জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিম মাহমুদ সহ আরও কয়েকজন নেতা এই শোকযাত্রায় অংশ নেন।
দলীয় নেতারা প্রথমে শহীদ ইমরান ও তার বাবার কবরস্থানে গিয়ে রুহের মাগফিরাতের জন্য প্রার্থনা করেন। এরপর তারা পরিবারের বাড়িতে প্রবেশ করে শহীদ ইমরানের মা, দাদা এবং ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তারা শোকের কথা জানিয়ে, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল উল্লেখ করেন যে, দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশে তারা শহীদ পরিবারের বাড়িতে গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং শোকের মুহূর্তে পরিবারকে সমর্থন জানিয়েছে। তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে বিএনপি শহীদ পরিবারের পাশে সব সময় থেকে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তাদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকবে। শোকযাত্রার কারণ ছিল ছোয়াব মিয়া দলের জনসভায় অংশ নিতে যাচ্ছিলেন, যা দলের চেয়ারম্যানের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
বিএনপি এই শোকযাত্রা মাধ্যমে দলীয় সংহতি ও শহীদ পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ পুনর্ব্যক্ত করেছে। দলীয় নেতারা উল্লেখ করেছেন, শহীদ পরিবারের সমস্যাগুলো সমাধানে আর্থিক সহায়তা ও সামাজিক সমর্থন প্রদান করা দলের নীতি। শোকের সময় ধর্মীয় প্রার্থনা ও কবরস্থানে মাগফিরাতের জন্য দোয়া করা হয়, যা পরিবারকে মানসিক সান্ত্বনা দেয়।
শহীদ ইমরানের পরিবারকে এই সমর্থন ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে কী প্রভাব ফেলবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে বিএনপি এই ধরনের শোকযাত্রা ও সমর্থনকে তার সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যে সংহতি বাড়ানোর একটি উপায় হিসেবে ব্যবহার করছে। দলটি উল্লেখ করেছে, শহীদ পরিবারের প্রতি এই ধারাবাহিক সমর্থন তার রাজনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে ভোটারদের কাছে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করবে।
বিএনপি নেতাদের এই শোকযাত্রা এবং আর্থিক সহায়তা শহীদ পরিবারের প্রতি দলের দায়িত্ববোধের প্রতিফলন এবং রাজনৈতিক মঞ্চে দলের মানবিক দিকটি তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে।



