বাংলাদেশের টি-টেনি বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ শেষ হয়ে গেছে, স্কটল্যান্ডকে পরিবর্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ভারতীয় শেডিউল মেনে না চলার ফলে আইসিসি এই সিদ্ধান্ত নেয়। আইসিসি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি, তবে পরিবর্তনটি কার্যকর হয়েছে।
বাংলাদেশের দল ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় নির্ধারিত ম্যাচগুলো খেলতে অস্বীকার করে। শেডিউল পরিবর্তনের ইচ্ছা প্রকাশের পরই স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো টি-টেনি বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারছে না।
আইসিসি এই পরিবর্তনকে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত না করলেও, টুর্নামেন্টের আয়োজনিক দিক থেকে স্কটল্যান্ডের অংশগ্রহণ ইতিমধ্যেই স্বীকৃত। আইসিসি এখনও আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রকাশ করেনি, তবে টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী স্কটল্যান্ডের উপস্থিতি নিশ্চিত।
স্কটল্যান্ড ইউরোপীয় বাছাই পর্যায়ে পাঁচ দলের মধ্যে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছিল। আইসিসি টি-টেনি র্যাঙ্কিংয়ে স্কটল্যান্ডের অবস্থান চৌদ্দতম। নেদারল্যান্ডস ও ইতালি প্রথম দুই স্থানে থেকে সরাসরি চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করে, আর জার্সি তৃতীয় স্থানে শেষ হয়।
গ্রুপ ‘সি’তে স্কটল্যান্ডের সঙ্গে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি রয়েছে। এই গ্রুপে স্কটল্যান্ডের প্রতিপক্ষদের সঙ্গে কঠিন প্রতিযোগিতা প্রত্যাশিত। গ্রুপের ম্যাচগুলো টুর্নামেন্টের মূল পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশের এই বাদ পড়া টি-টেনি বিশ্বকাপে প্রথমবারের ঘটনা। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারিত দুইটি সিরিজে না খেলায় ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টে সরাসরি অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কমে গেছে।
এই পরিস্থিতি পরবর্তী বিশ্বকাপে বাংলাদেশের স্বাভাবিক র্যাঙ্কিং ও যোগ্যতা প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। টুর্নামেন্টের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে পরবর্তী বিশ্বকাপে সরাসরি প্রবেশের সুযোগ হ্রাস পেতে পারে।
বিরোধের সূত্রপাত হয় কিছু রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতার দাবিতে, যারা আইপিএল দলের কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিতে চেয়েছিলেন। এই দাবি বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনকে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলেছিল।
বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়ায় আইপিএল সম্প্রচার দেশজুড়ে বন্ধ করা হয়। নিরাপত্তা ও ন্যায্যতা সংক্রান্ত উদ্বেগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ম্যাচগুলোকে শ্রীলঙ্কা থেকে ভারতীয় মঞ্চে স্থানান্তর করার দাবি জানায়। এই দাবি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচি ও নিরাপত্তা নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা নিয়ে আলোচনা চালু হয়।
বহু টানাপোড়েনের পর আইসিসি ভুটানে অনুষ্ঠিত সভায় বাংলাদেশ ১৪-২ ভোটে পরাজিত হয়। ভোটের ফলাফল স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তকে দৃঢ় করে।
পিটিআইর তথ্য অনুযায়ী, আইসিসির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটিতে বাংলাদেশ পুনরায় ব্যর্থ হয়। কমিটিতে উপস্থাপিত যুক্তিগুলো গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় দলটি টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে।
সারসংক্ষেপে, স্কটল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তি এবং বাংলাদেশের বাদ পড়া আইসিসি টি-টেনি বিশ্বকাপের সূচি ও গঠনকে পুনর্গঠন করেছে। ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের জন্য এখন নতুন পথ অনুসন্ধান করতে হবে।



