28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিঅন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা গুজব রোধে মূলধারার গণমাধ্যমের শক্তিশালী ভূমিকা দাবি

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা গুজব রোধে মূলধারার গণমাধ্যমের শক্তিশালী ভূমিকা দাবি

শনি­বার দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাবের নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের খাদ্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের প্রভাব কমাতে মূলধারার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর করার আহ্বান জানান।

উপদেষ্টা মজুমদার উল্লেখ করেন, তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির যুগে প্রিন্ট ও টেলিভিশনসহ ঐতিহ্যবাহী মিডিয়া বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। বিশেষ করে ফেসবুক, টুইটার ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে প্রায়শই অপরীক্ষিত, অসম্পাদিত তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা জনমনে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে।

তিনি বলেন, সামাজিক নেটওয়ার্কে তথ্যের কোনো জবাবদিহিতা নেই; তাই সাধারণ মানুষকে সঠিক ও যাচাই‑কৃত সংবাদ সরবরাহে মূলধারার মিডিয়ার ডিজিটাল উপস্থিতি শক্তিশালী করা জরুরি। যখন কেউ ব্রেকিং নিউজ দেখে, তখন তা মূলধারার পোর্টালে গিয়ে সত্যতা যাচাই করতে পারবে—এমন বিশ্বাসযোগ্যতা গড়ে তোলাই এখনের প্রধান লক্ষ্য।

মিডিয়া নীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, মজুমদারের এই আহ্বান সরকারী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মিডিয়া সংস্কারের সম্ভাবনা নির্দেশ করে। যদিও সামাজিক মিডিয়া আজকের দিনে তথ্যের প্রধান উৎস, তবুও তার অযাচিত বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আইনগত ও নৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, সাংবাদিকতার মান ও নৈতিকতার অবনতি অন্যান্য খাতের মতোই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তিনি সতর্ক করেন, যদি মূলধারার মিডিয়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দৃঢ় উপস্থিতি না বজায় রাখে, তবে গুজবের শিকড় গভীর হয়ে সমাজে বিভাজন বাড়তে পারে।

মিডিয়া সংস্থার প্রতিনিধিরা মজুমদারের বক্তব্যে সমর্থন জানিয়ে বলেন, বর্তমান সময়ে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে দ্রুত তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে হবে। তারা যুক্তি দেন, এধরনের পদক্ষেপ গুজবের বিস্তার রোধে এবং জনসাধারণের বিশ্বাস পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।

অন্যদিকে, সামাজিক মিডিয়া ব্যবহারকারীরা প্রায়শই ত্বরিত তথ্য শেয়ার করার প্রবণতা দেখায়, যা কখনো কখনো ভুল তথ্যের দ্রুত বিস্তার ঘটায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, ব্যবহারকারীর সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্ল্যাটফর্মের স্বয়ংক্রিয় ফিল্টারিং সিস্টেমের উন্নয়নও গুজব মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মজুমদার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেন, সরকার মূলধারার মিডিয়ার ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং নীতি সমর্থন প্রদান করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সাংবাদিকতা পুনরায় স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার স্তরে পৌঁছাবে।

বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি সরকার এই দিকনির্দেশে পদক্ষেপ নেয়, তবে মিডিয়া ক্ষেত্রে নতুন নিয়মাবলী ও স্বয়ংক্রিয় তদারকি ব্যবস্থা প্রবর্তন হতে পারে, যা গুজবের দ্রুত বিস্তার রোধে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে, মিডিয়া সংস্থাগুলোকে ডিজিটাল যুগে প্রতিযোগিতামূলক থাকতে কন্টেন্টের গুণগত মান বাড়াতে হবে।

সিলেট প্রেসক্লাবের নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানটি মূলধারার মিডিয়ার ভূমিকা ও দায়িত্বের পুনর্বিবেচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপদেষ্টা মজুমদারের আহ্বান সরকারী নীতি, মিডিয়া সংস্থা এবং সাধারণ নাগরিকের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে গুজবমুক্ত সমাজ গঠনে সহায়তা করবে বলে আশা করা যায়।

এই প্রেক্ষাপটে, অন্তর্বর্তী সরকারের মিডিয়া নীতি সংশোধন ও ডিজিটাল মিডিয়ার শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা দেশের তথ্য পরিবেশকে স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments