28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধশরীয়তপুরে ১১ বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, ৫০০েরও বেশি ককটেল বোমা বিস্ফোরণ

শরীয়তপুরে ১১ বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, ৫০০েরও বেশি ককটেল বোমা বিস্ফোরণ

শরীয়তপুর সদর, শৌলপাড়া ইউনিয়নের চরগয়ঘর গ্রামে শুক্রবার রাত ১১টায় একাধিক বাড়িতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং ককটেল বোমা বিস্ফোরণ ঘটেছে। স্থানীয় পুলিশ ইনচার্জ মো. গোলাম রসুলের মতে, ঘটনাস্থলে দেশীয় অস্ত্র, বোমা এবং পেট্রল ব্যবহার করা হয়েছে।

এই হামলার পটভূমি হিসেবে শৌলপাড়া স্কুল মাঠে ১৭ জানুয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার মিলাদ মাহফিলের পর এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিএনপিতে যোগদানকে কেন্দ্র করে দুইটি বিএনপি গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ তীব্রতর হওয়া উল্লেখ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার এ.কে.এম. নাছির উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও শ্রীয়তপুর‑১ আসনের প্রার্থী সাইদ আহাম্মেদ আসলাম উপস্থিত ছিলেন।

শৌলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও পূর্বে আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল মান্নান খান ভাসানী, তার সঙ্গে ২০‑২৫ জন নেতা ও কর্মীকে নিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। শ্যালক মো. তারেক মিয়া জানান, শৌলপাড়া এলাকায় দুটি মূল গোষ্ঠী রয়েছে; একটি হেলাল উদ্দিন আকনের সমর্থক, অন্যটি স্থানীয় নেতা আতিকুর রহমান খানের সমর্থক। ভাসানী আতিকুর রহমান খানের নেতৃত্বে যোগদান করলে অন্য গোষ্ঠী ক্ষিপ্ত হয়।

তারা উল্লেখ করেন, শুক্রবার রাতের ঘটনায় ভাসানী, মজিবুর রহমান খান, সেলিম খান, শুক্কুর বেপারী, ফজন বেপারী, জসিম বেপারী, সিরাজ খান, আরশেদ বেপারীসহ বেশ কয়েকজনের বাড়িতে গুলি, বোমা এবং পেট্রল দিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। একই সময়ে পাঁচশতাধিক ককটেল বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়, যা আশেপাশের বাড়িগুলিকে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত করে।

বোমা বিস্ফোরণের পর ইউনুস সিকার, আবুল হোসেন খান এবং ইদ্রিস খানের বাড়িতে পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালানো হয়। ভুক্তভোগীরা জানান, হামলার ফলে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ত্রিশ লাখ টাকার সম্পদ লুট পাট করা হয়েছে।

ভাসানীর ভাতিজা মাসুদুর রহমান খান জানান, হেলাল আকনের সমর্থকরা “বৃষ্টির মত বোমা” বর্ষণ করে বাড়ি-ঘর ধ্বংস করেছে এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত চিকন্দি ফাঁড়ির পুলিশও বোমা হামলার ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়। একই সময়ে ভাসানীর ভাতিজি শিক্ষিকা সনিয়া বেগম উল্লেখ করেন, তার চাচা দু’দিন ধরে দুবাইতে ছিলেন, তবে ৫০‑৬০ জন লোক এসে ১২‑১৩টি বাড়ি ধ্বংস করেছে; ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে খাবার-দাবারও সরবরাহ করা হয়নি।

স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। মো. গোলাম রসুলের মতে, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং পেট্রল ব্যবহার করেছে এবং বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে। এছাড়া, ঘটনায় জড়িত গোষ্ঠীর মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধের সম্ভাবনা তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

শরীয়তপুরের শৌলপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসন ভুক্তভোগীদের সহায়তা প্রদান এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি তহবিল গঠনের কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোও মন্তব্য করেছে। দু’পক্ষের নেতারা একে অপরের উপর দায়ারোপ করে, তবে সকলেই শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তদন্তের অগ্রগতি এবং গ্রেফতার সংক্রান্ত তথ্য পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments