কানাডার নিউ ব্রান্সউইক প্রদেশের স্বাস্থ্য বিভাগ সম্প্রতি একটি তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করেছে, যেখানে মস্তিষ্কের অজানা রোগের কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই তদন্তের লক্ষ্য ছিল বহু রোগীর স্নায়বিক উপসর্গের পেছনের কারণ নির্ণয় করা।
গত কয়েক মাসে নিউ ব্রান্সউইক ও পার্শ্ববর্তী প্রদেশে স্নায়বিক সমস্যার অভিযোগ বাড়ার ফলে কিছু চিকিৎসক একটি নতুন রোগের অস্তিত্বের দাবি উত্থাপন করেন। এই দাবিগুলি জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল।
নিউরোলজিস্ট ডা. আলিয়ার মার্রেরো প্রায় ৫০০ রোগীকে অজানা স্নায়বিক উপসর্গের সঙ্গে যুক্ত করে তালিকাভুক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে এই উপসর্গগুলো প্রচলিত রোগের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা কঠিন।
প্রদেশের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. ইভস লেগেরের নেতৃত্বে একটি দল এই রোগীদের ওপর বিশদ পরীক্ষা চালায়। দলটি রোগীর ক্লিনিক্যাল রেকর্ড, ল্যাবরেটরি ফলাফল এবং পরিবেশগত তথ্য বিশ্লেষণ করে।
পরীক্ষার ফলাফল দেখায় যে রোগীদের মধ্যে হার্বিসাইডের মাত্রা সাধারণ জনসংখ্যার সমতুল্য। পূর্বে মার্রেরো যে উচ্চ হার্বিসাইডের স্তর উল্লেখ করেছিলেন, তা এই ডেটার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
কিছু রোগীর রক্তে ভারী ধাতুর পরিমাণ সামান্য বেশি দেখা গেল, তবে এই পার্থক্যটি পরিসংখ্যানগতভাবে স্পষ্ট না হওয়ায় নিশ্চিত করা কঠিন। গবেষকরা উল্লেখ করেন যে নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতিতে কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল।
ডা. ইভস লেগের বলেন, তদন্তের ফলাফল যাই হোক না কেন, বাস্তবে কিছু রোগী গুরুতর অসুস্থ এবং তাদের সহায়তা প্রয়োজন। তিনি স্বাস্থ্য সেবা ও মানসিক সমর্থনের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিবিসি পূর্বে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই রোগী গোষ্ঠীর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় এবং সম্ভাব্যভাবে রোগীদের পরিচিত স্নায়বিক রোগে ভুল নির্ণয় করা হয়েছে বলে ইঙ্গিত দেয়।
সেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে কমপক্ষে এক রোগী চিকিৎসা সহায়তায় মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নেন, যেখানে মৃত্যুর সনদে অজানা রোগের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আরেকজন রোগীও একই প্রক্রিয়া বিবেচনা করছেন।
প্রাদেশিক গবেষণায় মোট ২২২ রোগীর ডেটা বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যাদের মার্রেরো পূর্বে ক্লাস্টার রোগী হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। এই রোগীদের ওপর ব্যাপক রক্তপরীক্ষা ও টক্সিকোলজি বিশ্লেষণ করা হয়।
আটলান্টিক কানাডা অঞ্চলের সাধারণ জনগণের সঙ্গে তুলনা করে দেখা যায়, ক্লাস্টার রোগীদের হার্বিসাইড স্তর গড়ের সমান, ফলে পরিবেশগত বিষাক্ততার সঙ্গে সরাসরি সংযোগের সম্ভাবনা কম।
সামগ্রিকভাবে, তদন্তটি অজানা মস্তিষ্ক রোগের ধারণাকে সমর্থন করে না, তবে রোগীর উপসর্গের প্রকৃত কারণ এখনও সম্পূর্ণভাবে স্পষ্ট নয়। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ রোগীদের চলমান চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
তদন্তে ব্যবহৃত ল্যাবগুলো স্বতন্ত্রভাবে মান্যতা পেয়েছে, এবং ফলাফলগুলো স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের দ্বারা পর্যালোচনা করা হয়েছে।
স্থানীয় রোগী সমিতি তদন্তের ফলাফলে আশ্বস্ত হলেও, তারা রোগীর অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপের দাবি জানায়।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে রোগীদের স্নায়বিক উপসর্গের জন্য মানক নিউরোলজিক্যাল পরীক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদী ফলো-আপ প্রোগ্রাম চালু করা উচিত।



