মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের তৃতীয় রাউন্ডে ইতালিয়ান টেনিস তারকা জ্যাঙ্কি সিন্নার ৪-৬, ৬-৩, ৬-৪, ৬-৪ স্কোরে আমেরিকান খেলোয়াড় ইলিয়ট স্পিজির্রিকে পরাজিত করে অগ্রসর হন। এই ম্যাচটি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে, তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর সময় অনুষ্ঠিত হয়। তীব্র গরমের কারণে টুর্নামেন্টের হিট রুল প্রয়োগ করা হয়, যা সিন্নারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা নিয়ে আসে।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের হিট রুল অনুযায়ী, যখন হিট স্ট্রেস স্কেল সর্বোচ্চ পাঁচে পৌঁছায়, তখন খেলা থামিয়ে দেওয়া হয়। স্কেলটি রেডিয়েন্ট হিট, ছায়ায় তাপমাত্রা, আপেক্ষিক আর্দ্রতা এবং বাতাসের গতি এই চারটি উপাদান বিবেচনা করে গঠিত। এই দিনটি স্কেলের সর্বোচ্চ মানে পৌঁছায়, ফলে রোড লেভার এরেনায় খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।
সিন্নার এবং স্পিজির্রি দুপুর ১২:৩০ টায় কোর্টে মেলে, যখন চেয়ার আরবিটার ফারগাস মারফি খেলোয়াড়দের হিট রুলের প্রোটোকল স্মরণ করিয়ে দেন। প্রথম সেটে সিন্নার ৪-৬ দিয়ে পিছিয়ে থাকলেও, দ্বিতীয় সেটে ৬-৩ করে সমতা রক্ষা করেন। তৃতীয় সেটে গরমের প্রভাবে সিন্নার শারীরিকভাবে ক্লান্তি অনুভব করেন এবং ৩-১ স্কোরে এক ব্রেক পিছিয়ে যান।
তবে তাপের প্রভাবের কারণে রুফের নিচে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে সিন্নার দ্রুত পুনরুদ্ধার করেন এবং তৃতীয় সেটে ৬-৪ দিয়ে জয় নিশ্চিত করেন। চতুর্থ সেটেও একই রকম দৃঢ়তা বজায় রেখে তিনি ৬-৪ স্কোরে ম্যাচটি শেষ করেন। জয়লাভের পর সিন্নার স্বীকার করেন যে হিট রুলের প্রয়োগ তাকে অপ্রত্যাশিতভাবে সুবিধা দিয়েছে।
ম্যাচের সময় প্রায় ৮০,০০০ দর্শককে গরমের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয় এবং তারা যথাযথ হাইড্রেশন ও ছায়া গ্রহণের জন্য নির্দেশনা পায়। টুর্নামেন্টের আয়োজকরা মিস্ট টানেল, পানি সরবরাহকারী মেশিন এবং সান আলমারির ব্যবস্থা করে দর্শকদের শীতলতা প্রদান করেন।
রুফযুক্ত শো কোর্টগুলোতে তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকায় খেলা স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে, তবে রুফবিহীন কোর্টগুলোতে গরমের তীব্রতা বাড়ার ফলে সন্ধ্যা ৭:৩০ (স্থানীয় সময়) পর্যন্ত খেলা পুনরায় শুরু হয়নি। এই সময়ে কোর্টে উপস্থিত খেলোয়াড় ও কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত শীতলীকরণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
বলে কিডস, যাঁরা নেট পোস্টের কাছে কুঁচকে বসে বল সংগ্রহ করেন, তাপের কারণে হাতের ত্বকে পোড়া এড়াতে পা উপর হাত রাখেন। এই ছোট পরিবর্তনটি গরমে কাজ করা কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি উদাহরণ।
অস্ট্রেলিয়ান টেনিসার জেসিকা পেগুলা উল্লেখ করেন যে তারা গরমের সাথে অভ্যস্ত, তবে এই শীতল না হওয়া দিনটি মেলবোর্ন পার্কের কঠোর পরিবেশের স্মারক হিসেবে কাজ করেছে। তার মন্তব্যটি গেমের কঠিন পরিস্থিতি ও খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা তুলে ধরে।
হিট রুলের মূল নীতি হল হিট স্ট্রেস স্কেল যখন পাঁচে পৌঁছায়, তখন খেলা থামিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। স্কেলটি রেডিয়েন্ট হিট, ছায়ায় তাপমাত্রা, আপেক্ষিক আর্দ্রতা এবং বাতাসের গতি এই চারটি উপাদানকে একত্রে মাপা হয়। স্কেলের মান যত বেশি, তত বেশি ঝুঁকি, তাই টুর্নামেন্টের কর্মকর্তারা তীব্র গরমে সতর্কতা অবলম্বন করেন।
ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে চেয়ার আরবিটার ফারগাস মারফি খেলোয়াড়দের হিট রুলের সম্ভাব্য প্রয়োগ সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেন, যাতে তারা প্রয়োজনীয় সময়ে বিরতি নিতে পারে। এই সতর্কতা সিন্নারকে রুফের নিচে শীতল পরিবেশে ফিরে আসতে সহায়তা করে, যা তার শারীরিক পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সিন্নার এই জয় তার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ধারাবাহিক সাফল্যের ধারাকে বজায় রাখে; তিনি ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এই টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছেন। তৃতীয় রাউন্ডে অগ্রসর হওয়ার ফলে তিনি পরবর্তী রাউন্ডে নতুন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবেন, যা টুর্নামেন্টের পরবর্তী দিনগুলোতে নির্ধারিত হবে।
মেলবোর্নের গরমে টেনিসের এই নাটকীয় মুহূর্তটি খেলোয়াড়, দর্শক ও টুর্নামেন্ট কর্মকর্তাদের জন্য একসাথে নিরাপত্তা ও পারফরম্যান্স বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করেছে। হিট রুলের সঠিক প্রয়োগ ও শীতলীকরণ ব্যবস্থা মিলিয়ে, অস্ট্রেলিয়ান ওপেন এই কঠিন পরিবেশে সফলভাবে চলতে সক্ষম হয়েছে।



