২৪ জানুয়ারি, আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে, বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা ও বিএনসিইউ চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. রফিকুল আবরা, যিনি প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার জন্য সরাসরি ও ধারাবাহিক সংলাপের অপরিহার্যতা তুলে ধরেছেন।
ড. আবরা উল্লেখ করেন, সংবেদনশীল প্রশাসন, অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নীতিনির্ধারণের মাধ্যমে বৈষম্য কমানো সম্ভব। তিনি বলেন, নীতি প্রণয়নে জনগণের বাস্তব চাহিদা ও অভিজ্ঞতা অন্তর্ভুক্ত করা হলে সেসব নীতি বাস্তবায়নে বাধা কমে এবং লক্ষ্যভিত্তিক ফলাফল অর্জিত হয়।
শিক্ষা সম্পর্কে তিনি এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন। পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের বাইরে, শিক্ষার লক্ষ্য হওয়া উচিত শিক্ষার্থীর অন্তর্নিহিত প্রতিভা, আগ্রহ এবং মেধার বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা। এ জন্য স্কুল ও কলেজে সংগঠন, ক্লাব এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে সক্রিয় করা জরুরি, যা শিক্ষার্থীদের নাগরিক সচেতনতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
রাষ্ট্রের কাজের মূল উদ্দেশ্য জনগণের কল্যাণে পরিচালিত হওয়া, এবং দেশের বৃহত্তম অংশ গঠন করে তরুণ সমাজ। নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তরুণদের চিন্তা, আকাঙ্ক্ষা এবং অবদান দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অতীতের এমন এক সময়ে, যখন তরুণ প্রজন্ম নাগরিক অধিকার হারানোর ভয় পোষণ করছিল, তখনই তারা পরিবর্তনের পথ দেখিয়ে সমাজে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
ড. আবরা জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধুমাত্র একাডেমিক জ্ঞান প্রদানকারী স্থান হিসেবে নয়, বরং শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা উচিত। শিক্ষার পরিবেশকে সহায়ক করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ সংগ্রহ এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করা অপরিহার্য।
এই আলোচনায় বাংলাদেশ ইউনেস্কো কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সারভীনা মনির সভাপতিত্বে সভা পরিচালিত হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা সচিব ও বিএনসিইউ সেক্রেটারি জেনারেল রেহানা পারভীন, আর ইউনেস্কো বাংলাদেশের হেড অফ অফিস সুজান ভাইজকে সম্মানিত অতিথি হিসেবে স্বাগত জানানো হয়।
সভার আলোচনায় উল্লেখযোগ্য যে, প্রান্তিক গোষ্ঠীর সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে তাদের চাহিদা ও সমস্যার সরাসরি উপলব্ধি করা যায়, যা নীতি প্রণয়নে বাস্তবিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে। ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে গোষ্ঠীর আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং তারা সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখনো আরও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের সুযোগ পায়। ক্লাব, ক্রীড়া, সঙ্গীত ও নাট্য কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর সামাজিক দক্ষতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে, যা ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অন্তে, পাঠকদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ: আপনার আশেপাশের স্কুল বা কলেজে যদি কোনো প্রান্তিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব না থাকে, তবে স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তাবনা দিন। আপনার ছোট উদ্যোগই ভবিষ্যতে বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।



