কুড়িগ্রাম, ভূরুঙ্গামারী – গত বৃহস্পতিবার পূর্ব ধলডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কিছু ছাত্রদল নেতা শিক্ষার্থীদের সামনে ভোট শপথ করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে যখন উপজেলা ও ওয়ার্ড ছাত্রদলের দুইজন নেতা‑কর্মী বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের শারীরিক শিক্ষা নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। সংক্ষিপ্ত কথোপকথনের পর তারা হঠাৎ করে শিক্ষার্থীদেরকে “যদি বড় হই, ধানের শীষের মত ভোট দেব; যদি ভোটার হই, রানা ভাইকে ভোট দেব” এমন শপথ পাঠ করাতে বলেন।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার রায় জানান, তিনি ওই সময় শিক্ষার্থীদেরকে সমাবেশের জন্য একত্রিত করছিলেন এবং ছাত্রদল নেতারা শারীরিক শিক্ষা নিয়ে কথা বলতে আসা স্বীকার করেন। শপথের বিষয়টি তিনি জানার পর তা গ্রহণে আপত্তি জানিয়ে তৎক্ষণাৎ হুমকি পেয়েছেন। রায় বলেন, “আমি সরকারি চাকরিজীবী এবং এখানে কাজ করতে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে জড়াতে চাই না। বিষয়টি আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জানাতে বাধ্য বোধ করছি।”
উপজেলা ছাত্রদল যুগ্ম আহ্বায়ক মোকাদ্দেস হোসাইন ঘটনাটিকে অজান্তে করা একটি ভুল হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী আইন সম্পর্কে তার যথেষ্ট জ্ঞান না থাকায় তিনি অনিচ্ছাকৃতভাবে এই কাজটি করেছেন এবং এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। হোসাইন একই সঙ্গে সংগঠনের কাছেও ক্ষমা চেয়েছেন।
উপজেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিন্টুও বিষয়টি ব্যক্তিগত ভুল হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি কোনো সংগঠনগত নির্দেশনা নয়। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট নেতা ইতিমধ্যে লিখিতভাবে তার ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন এবং দায়িত্ব নিজের ওপর নেবেন।
উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাৎ হোসেন জানান, ঘটনাটি তাদের নজরে এসেছে এবং ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটিকে লিখিতভাবে জানিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। কমিটি পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই ঘটনার ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। বিএনপি কেন্দ্রিক এলাকায় এই ধরনের ভোট শপথের প্রচেষ্টা নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের শঙ্কা উত্থাপন করেছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করছেন, যদি এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয় তবে স্থানীয় নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে বর্তমানে তদন্তের ফলাফল ও সংশ্লিষ্টদের উপর কী ধরনের শাস্তি আরোপ হবে তা এখনও অনিশ্চিত।
বৈধ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে সকল রাজনৈতিক সংগঠনকে আইন মেনে চলতে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে দূরে রাখতে আহ্বান জানানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করা জরুরি।



