কুতুবদিয়া জেলায় নৌপরিবহনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। রবিবার সকাল ১১টায় পেকুয়া উপজেলার মগনামা জেটিঘাটে ‘এস টি ভাষা শহীদ জব্বার’ নামের সি‑ট্রাকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। একবারে প্রায় দুইশত পঞ্চাশজন পর্যন্ত যাত্রী বহন করার ক্ষমতা থাকা এই নৌযানটি, দীর্ঘদিনের নৌপথে যাতায়াতের অস্বস্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. সাখাওয়াত হোসেন উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি সি‑ট্রাকের চালু হওয়ার ঘোষণা দেন। মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ‑পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সলিম উল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সপ্তাহের আগে, একই জেটিঘাটে সি‑ট্রাকটি স্থানান্তর করা হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বড় আগ্রহের সাড়া দেখা যায়। ভিড়ের মধ্যে একনজরে নৌযানটি পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে, মানুষজনের মুখে আনন্দের ছাপ স্পষ্ট ছিল। উদ্বোধনের উপলক্ষে কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ জেটিঘাটে সাজসজ্জা করা হয়, যা স্থানীয় ব্যবসায়িক কার্যক্রমে সাময়িকভাবে উচ্ছ্বাস যোগায়।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই সি‑ট্রাকের চালু হওয়া নৌপরিবহনের বাজারে নতুন প্রতিযোগিতা আনবে। পূর্বে প্রধানত ফেরি ও ছোট নৌকা দ্বারা সেবা প্রদানকারী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বড় ক্ষমতাসম্পন্ন নৌযানের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। প্রায় ২৫০ যাত্রীর ক্ষমতা থাকায়, পিক সময়ে টিকিটের চাহিদা বাড়তে পারে, যা টিকিট মূল্যের গঠন ও আয় বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে, পণ্য পরিবহনের জন্যও অতিরিক্ত স্থান থাকা সত্ত্বেও, স্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো এই সেবা ব্যবহার করে সরবরাহ শৃঙ্খলকে দ্রুততর করতে পারবে।
অর্থনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে, সি‑ট্রাকের চালু হওয়া স্থানীয় কর্মসংস্থানেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। নৌযানের পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও টিকিট বিক্রয়ের জন্য অতিরিক্ত কর্মী প্রয়োজন হবে, যা সরাসরি চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করবে। তাছাড়া, জেটিঘাটের আশেপাশে খাবার, পানীয় ও ছোটখাটো পণ্যের বিক্রয় বাড়বে, ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়িকদের আয় বৃদ্ধি পাবে।
তবে, নতুন নৌযানের সফলতা নির্ভর করবে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা মানদণ্ডের অনুসরণ এবং সময়মতো সেবা প্রদান করার ওপর। স্থানীয় বাসিন্দারা ইতিমধ্যে নিরাপদ ও সহজ যাতায়াতের জন্য ফেরি সেবার পুনরায় চালু হওয়ার দাবি জানিয়েছেন। যদি এই চাহিদা পূরণ না হয়, তবে সি‑ট্রাকের ব্যবহার সীমিত হতে পারে এবং বিনিয়োগের রিটার্ন কমে যেতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, সি‑ট্রাকের চালু হওয়া নৌপরিবহনের মূলধন ব্যয়ের পুনরুদ্ধারকে ত্বরান্বিত করতে পারে, তবে তা অর্জনের জন্য টিকিটের মূল্য ও সেবার গুণমানের মধ্যে সঠিক সমন্বয় বজায় রাখতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে, যদি নিয়মিত যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের চাহিদা স্থিতিশীল থাকে, তবে সি‑ট্রাকের পরিচালনা লাভজনক হতে পারে এবং ভবিষ্যতে অতিরিক্ত নৌযান যোগ করার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সারসংক্ষেপে, কুতুবদিয়ার নৌপথে ‘এস টি ভাষা শহীদ জব্বার’ সি‑ট্রাকের উদ্বোধন স্থানীয় পরিবহন অবকাঠামোর উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি যাত্রী ও পণ্যের চলাচলকে সহজতর করবে, স্থানীয় ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করবে এবং কর্মসংস্থান বাড়াবে। তবে, সেবা ধারাবাহিকতা, নিরাপত্তা ও অতিরিক্ত ফেরি সেবার সমন্বয় না হলে বাজারের গ্রহণযোগ্যতা সীমিত হতে পারে। সুতরাং, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য এই দিকগুলোতে সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করা জরুরি, যাতে নৌপরিবহন খাতের টেকসই বৃদ্ধি নিশ্চিত করা যায়।



