আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) শনিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অংশগ্রহণকারী হিসেবে চূড়ান্ত তালিকায় যুক্ত করার সিদ্ধান্ত জানায়। এই ঘোষণা ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে এবং টুর্নামেন্টের সূচনা ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে হবে।
বছরের শেষের দিকে আইসিসি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়ে তাদের অংশগ্রহণের শর্তাবলী স্পষ্ট করতে বলেছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক কোনো উত্তর না পাওয়ায় আইসিসি কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়। ফলে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্টের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে নতুন দল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
স্কটল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তি টুর্নামেন্টের গ্রুপ ‘সি’ তে নির্ধারিত হয়েছে। গ্রুপ পর্যায়ে স্কটল্যান্ড প্রথম ম্যাচে ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে। এরপর ৯ ফেব্রুয়ারি একই শহরে ইতালির বিরুদ্ধে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলা হবে।
এই তিনটি ম্যাচের সবগুলোই কলকাতার ইন্ডিয়ান ওয়েস্ট কোস্ট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। গ্রুপ পর্যায়ের শেষ ম্যাচের পর, স্কটল্যান্ডকে ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের সঙ্গে মুখোমুখি হতে হবে। টুর্নামেন্টের মোট ছয়টি ম্যাচে স্কটল্যান্ডের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে।
স্কটল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ট্রুডি লিন্ডব্লাডের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তৎক্ষণাত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। তবে দুবাইয়ে আইসিসি ও এডিনবরার ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের মধ্যে পূর্বে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে বলে জানা যায়। এই যোগাযোগের মাধ্যমে স্কটল্যান্ডের অংশগ্রহণের শর্তাবলী চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপের রাজনৈতিক দিককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। দল পরিবর্তনের ফলে টুর্নামেন্টের প্রতিযোগিতামূলক কাঠামোতে পরিবর্তন আসবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
আইসিসি এই পদক্ষেপের মাধ্যমে টুর্নামেন্টের সময়সূচি ও গ্রুপ গঠন পুনর্বিন্যাস করেছে। স্কটল্যান্ডের যোগদানের ফলে গ্রুপ ‘সি’ তে এখন তিনটি ঐতিহ্যবাহী দল এবং একটি নতুন দল রয়েছে, যা ম্যাচের গতি ও দর্শক আকর্ষণে প্রভাব ফেলবে।
টুর্নামেন্টের অন্যান্য দলগুলোও স্কটল্যান্ডের অংশগ্রহণের বিষয়ে মন্তব্য করেছে, তবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি। আইসিসি নিশ্চিত করেছে যে সকল ম্যাচের সময়সূচি ও ভেন্যু পূর্বনির্ধারিত থাকবে এবং কোনো পরিবর্তন হবে না।
এই পরিবর্তনটি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির কঠোর নীতি ও সময়সীমা মানার গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ পরিস্থিতিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
স্কটল্যান্ডের অংশগ্রহণের ফলে টুর্নামেন্টের দর্শকসংখ্যা ও মিডিয়া কাভারেজে সম্ভাব্য বৃদ্ধি প্রত্যাশিত। ইউরোপীয় দর্শকরা এখন এই টুর্নামেন্টে আরও বেশি মনোযোগ দেবার সম্ভাবনা রয়েছে।
সারসংক্ষেপে, আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অন্তর্ভুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা টুর্নামেন্টের গঠন ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে।



