23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাপঞ্চগড়ে শিক্ষক, ইমাম ও শিক্ষানুরাগীদের জন্য একদিনের কর্মশালা অনুষ্ঠিত

পঞ্চগড়ে শিক্ষক, ইমাম ও শিক্ষানুরাগীদের জন্য একদিনের কর্মশালা অনুষ্ঠিত

পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়ামে শনিবার একটি দিনব্যাপী কর্মশালা আয়োজন করা হয়। এই কর্মশালার আয়োজন বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তত্ত্বাবধানে করা হয়। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষানুরাগী এবং মসজিদ ইমাম।

কর্মশালার মূল থিম ছিল ‘কারিগরি শিক্ষা গ্রহণে বিশ্বব্যাপী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা’। অংশগ্রহণকারীদের লক্ষ্য ছিল দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা। এই ধারণা কর্মশালার পুরো আলোচনার ভিত্তি গঠন করে।

বৈঠকটি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে পরিচালিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। তার বক্তব্যে শিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

অন্যান্য উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন বোর্ডের পরিচালক (কারিকুলাম) প্রকৌশলী আনোয়ারুল আলম এবং রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক খন্দকার মো. নাহিদ হাসান। তারা সংক্ষিপ্ত মন্তব্যের মাধ্যমে কর্মশালার লক্ষ্যকে সমর্থন করেন। তাদের বক্তব্যে স্থানীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভূমিকা উল্লেখ করা হয়।

কর্মশালায় মোট পাঁচ শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন। এদের মধ্যে বিভিন্ন জেলার কারিগরি, মাদরাসা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষানুরাগী এবং মসজিদের ইমাম অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও চাহিদা ভাগ করে নেন।

সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম কর্মশালায় কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, আগামী বছরগুলোতে কারিগরি শিক্ষাকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ কর্মশক্তিতে রূপান্তর করা জরুরি। এই লক্ষ্য অর্জনে নীতি ও প্রশিক্ষণ কাঠামোর উন্নয়ন অপরিহার্য।

তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় মাদরাসা, সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষা সমন্বিত, তবে অধিকাংশ মানুষ কারিগরি শিক্ষার মূল্য বুঝতে পারেন না। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত পাঠ্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

সচিবের মতে, কারিগরি শিক্ষা শেষে সার্টিফিকেট প্রদান করলে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বাড়বে। বিশেষ করে যুবক-যুবতীকে দক্ষতা ভিত্তিক চাকরির পথে পরিচালিত করা সম্ভব হবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশিক্ষণ কোর্সের মানোন্নয়ন পরিকল্পনা করা হয়েছে।

কর্মশালায় কিছু বাস্তব উদাহরণও উপস্থাপিত হয়। স্থানীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সফলতা, মাদরাসায় প্রযুক্তি সংযোজনের প্রাথমিক পদক্ষেপ এবং শিক্ষানুরাগীদের জন্য নতুন প্রশিক্ষণ মডিউল আলোচনা করা হয়। এসব উদাহরণ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জাগায়।

অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে অনুরূপ প্রশিক্ষণ ও সেমিনার আয়োজনের আহ্বান জানায়। তারা প্রত্যাশা করেন, শিক্ষাব্যবস্থার সব স্তরে কারিগরি দক্ষতা সমন্বিত হবে। এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা প্রকাশ করা হয়।

সমাপনী সেশনে সচিব উপস্থিতদের প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি শিল্পখাতের সঙ্গে সমন্বয়, প্রশিক্ষণ কোর্সের মানোন্নয়ন এবং সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেন। প্রশ্নোত্তর সেশনে অংশগ্রহণকারীরা স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পেয়ে যান।

কর্মশালার সমাপ্তি ঘোষণার সঙ্গে অংশগ্রহণকারীরা প্রত্যেকের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে শিখিত ধারণা প্রয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন। তারা ভবিষ্যতে দক্ষতা বিকাশ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে অবদান রাখার লক্ষ্য প্রকাশ করেন। এই প্রতিশ্রুতি কর্মশালার মূল উদ্দেশ্যকে শক্তিশালী করে।

পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক টিপস: কারিগরি কোর্সে ভর্তি হতে আগ্রহী হলে স্থানীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য সংগ্রহ করুন। মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযুক্তি-ভিত্তিক ক্লাসে অংশগ্রহণের সুযোগ অনুসন্ধান করুন। সরকারী স্কলারশিপ ও সনদপত্রের সুবিধা কাজে লাগিয়ে দক্ষতা অর্জনের পথ সুগম করুন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments