খাইবার পাখতুনখোয়া, কেবি (KPK) প্রদেশে শুক্রবার রাতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় সাতজনের মৃত্যু এবং বহু আহত হয়। ঘটনাস্থল ছিল কুরেশি মোরের নিকটবর্তী শান্তি কমিটির সদস্য নূর আলম মেহসুদের বাসভবন, যেখানে দম্পতি ও তাদের পরিবার একত্রিত হয়েছিল।
বিস্ফোরণটি স্থানীয় সময় রাতের শেষ ভাগে ঘটেছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ঘরের ছাদ উড়ে গিয়ে কাঠামোকে ধ্বংস করে দেয়। ধ্বংসাবশেষের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধার কাজ কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে উদ্ধারকর্মীরা সীমিত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের তাড়াতাড়ি চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে ব্যস্ত ছিল।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সাতজনের মধ্যে বেশিরভাগই বিয়ের অনুষ্ঠানের অংশগ্রহণকারী ছিলেন, আর আহতদের সংখ্যা এখনও বাড়তে পারে। আহতদের মধ্যে বয়সের পরিসর বিস্তৃত, কিছুজন গুরুতর আঘাতের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, অন্যরা হালকা আঘাত পেয়ে পর্যবেক্ষণাধীন রয়েছে।
স্থানীয় জেলা পুলিশ অফিসার ডেরা ইসমাইল খান ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিস্ফোরণের প্রকৃতি আত্মঘাতী বলে নিশ্চিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বোমাটি সরাসরি ঘরের ভিতরে ফাঁদে বসিয়ে ফেলা হয়েছিল, ফলে তা ঘরের কাঠামোকে ধ্বংস করে দেয় এবং আশেপাশের মানুষকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে।
খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি ঘটনাটিকে তীব্র নিন্দা জানিয়ে কেপি পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন চেয়েছেন। তিনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের সনাক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং নিশ্চিত করেছেন যে, অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে।
কেপি পুলিশ মহাপরিদর্শক তদন্তের জন্য ফরেনসিক দল এবং গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছেন। টাস্কফোর্সের কাজের মধ্যে রয়েছে বিস্ফোরণের ধরণ বিশ্লেষণ, বোমার উপাদান শনাক্তকরণ এবং সম্ভাব্য সহায়তাকারী বা পরিকল্পনাকারীকে চিহ্নিত করা।
প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে, নিরাপত্তা বিভাগ ঘটনাস্থলে উপস্থিত সন্দেহভাজনদের তালিকা তৈরি করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র গ্রেফতার অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আদালতকে মামলার ফাইল শীঘ্রই উপস্থাপন করা হবে, যাতে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, আত্মঘাতী বোমা হামলা পাকিস্তানের দণ্ডবিধির ধারা ৩৩১(১) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ, যা মৃত্যুদণ্ড বা আজীবন কারাদণ্ডের আওতায় পড়ে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এই ধারা প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।
অধিকন্তু, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ বেঁচে থাকা আহতদের জন্য অতিরিক্ত চিকিৎসা সুবিধা এবং মানসিক সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জনগণকে অনুরোধ করা হচ্ছে যে, এমন সংবেদনশীল সময়ে শোকের পরিবেশ বজায় রাখে এবং কোনো গুজব বা অপ্রমাণিত তথ্য ছড়িয়ে না দেয়।



