হায়দ্রাবাদ সাইবার ক্রাইম পুলিশ স্টেশনে সৃজনশীল প্রযোজক স্রীনিবাস কুমার নায়ডু (SKN) সম্প্রতি একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের বিষয় হল কিছু সামাজিক মিডিয়া হ্যান্ডেল তার পরিচয় নকল করে ‘The Raja Saab’ চলচ্চিত্র ও তার কাস্টের বিরুদ্ধে অপমানজনক ও বিভ্রান্তিকর বিষয়বস্তু প্রচার করা। এই পদক্ষেপটি চলচ্চিত্রের অনলাইন সমালোচনা তীব্র হওয়ার পর নেওয়া হয়েছে।
‘The Raja Saab’ প্রি-রিলিজের পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার মুখে পড়েছে। প্রভাসের দ্বৈত ভূমিকায় অভিনীত এই চলচ্চিত্রটি বিশাল বাজেট ও উচ্চ প্রত্যাশা নিয়ে মুক্তি পেয়েছে, তবে দর্শকের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ বলে সমালোচক ও দর্শক উভয়ই সমালোচনা প্রকাশ করেছে। টুইটার, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নেতিবাচক মন্তব্য ও ট্রোলিং বাড়তে থাকে।
SKN অভিযোগে উল্লেখ করেছেন যে, নির্দিষ্ট কিছু অ্যাকাউন্ট তার নাম ব্যবহার করে ভুয়া পোস্ট তৈরি করেছে, যা চলচ্চিত্রের সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। তিনি জানান, এই হ্যান্ডেলগুলো তার পরিচয় চুরি করে মিথ্যা তথ্য ও গালিগালাজের পোস্ট শেয়ার করেছে, যা দর্শকের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। ফলে তিনি আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে এই অনিয়ম বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।
প্রযোজকের বিবৃতি অনুযায়ী, এই ধরনের অপমানজনক কাজের মূল উদ্দেশ্য হল গুজব ছড়িয়ে দিয়ে চলচ্চিত্রের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বর্তমান তদন্ত চলমান রয়েছে। এই ঘোষণাটি চলচ্চিত্রের সৃষ্টিকর্তা দলের দৃঢ় অবস্থানকে প্রকাশ করে।
আইনি দিক থেকে, হায়দ্রাবাদ সাইবার ক্রাইম বিভাগে দায়ের করা অভিযোগের ফলে সংশ্লিষ্ট সামাজিক মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলোকে সনাক্ত করে প্রয়োজনীয় শাস্তি আরোপ করা হবে। সাইবার অপরাধের শাস্তি আইনের অধীনে পরিচয় চুরি, মানহানি ও ভুয়া তথ্য প্রচারকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা অপরাধীর বিরুদ্ধে জরিমানা ও কারাদণ্ডের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে।
এটি প্রথমবার নয় যে SKN চলচ্চিত্রের প্রতি অনলাইন আক্রমণকে লক্ষ্যবস্তু করেছেন। জুন মাসে একটি ইভেন্টে তিনি চলচ্চিত্রের বিরুদ্ধে চলমান নেতিবাচক প্রচার সম্পর্কে স্পষ্ট মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “একজন প্রযোজক শুটিং শুরু হওয়ার সময়ই নেতিবাচক ক্যাম্পেইন চালিয়েছিলেন, আর এখন একই প্রযোজক আগামীকাল চলচ্চিত্রের প্রশংসা করবে”। সেই সময়ে তিনি চলচ্চিত্রের শেষমেশ দর্শকের স্বীকৃতি পাবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন।
তেলুগু চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিষদও এই বিষয়ে টুইটারে একটি পোস্ট শেয়ার করে SKN-এর পদক্ষেপকে সমর্থন জানায়। পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রযোজকের পরিচয় নকল করে অপমানজনক মন্তব্য করা একটি গম্ভীর অপরাধ এবং তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই প্রকাশটি শিল্প সংস্থার সমন্বিত অবস্থানকে তুলে ধরে।
‘The Raja Saab’ এখনো বক্স অফিসে প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে পারেনি, তবে প্রযোজক দলের এই আইনি পদক্ষেপটি চলচ্চিত্রের সুনাম রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে সাইবার আইন প্রয়োগের মাধ্যমে তারা ভবিষ্যতে অনুরূপ সমস্যার প্রতিরোধ করতে চায়।
বিনোদন শিল্পের বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ডিজিটাল যুগে সামাজিক মিডিয়ার প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধের ঝুঁকি ও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই চলচ্চিত্রের প্রচার ও সুনাম রক্ষার জন্য সাইবার নিরাপত্তা ও আইনি সচেতনতা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
সারসংক্ষেপে, সৃজনশীল প্রযোজক SKN হায়দ্রাবাদে সাইবার ক্রাইম পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ দায়ের করে অনলাইন হ্যান্ডেলগুলোকে তার পরিচয় চুরি ও অপমানজনক পোস্টের জন্য দায়ী করেছেন। তিনি কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও চলমান তদন্তের কথা উল্লেখ করে চলচ্চিত্রের সুনাম রক্ষার সংকল্প প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনা চলচ্চিত্রের অনলাইন পরিবেশে সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্বকে আবারও উজ্জ্বল করেছে।



