স্কটল্যান্ডের ক্রিকেট দল ২০২৬ টি২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য ICC নির্ধারিত কোয়ালিফায়ার টুর্নামেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। টুর্নামেন্টের হোস্ট দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ নির্বাচিত হয়েছে এবং মোট ২০টি দল অংশ নেবে। স্কটল্যান্ডের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্যতা প্রাপ্ত দলগুলোর (যেমন ইংল্যান্ড, ভারত এ, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা) বাইরে থেকে কোয়ালিফায়ার পার হতে হবে।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (ICC) মতে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্যতা প্রাপ্ত দলগুলো হোস্ট দেশ এবং টেস্ট ফরম্যাটে শীর্ষ আটটি দল। বাকি স্থানগুলো কোয়ালিফায়ার থেকে নির্ধারিত হবে, যেখানে স্কটল্যান্ডের মতো সহযোগী সদস্য দেশগুলোকে গ্রুপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। কোয়ালিফায়ার সাধারণত বিশ্বকাপের এক বছর আগে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে আট থেকে দশটি দল অংশ নেয়।
স্কটল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ডের মতে, দলটি ২০২২ টি২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা নিয়ে কোয়ালিফায়ারের পথে অগ্রসর হচ্ছে। ২০২২ সালে দলটি গ্রুপ পর্যায়ে একটি জয় অর্জন করে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। এই অভিজ্ঞতা নতুন টুর্নামেন্টে প্রস্তুতির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
বর্তমানে স্কটল্যান্ডের দলটি একাধিক প্রশিক্ষণ শিবির এবং দেশীয় লিগের মাধ্যমে ফর্মে ফিরে আসছে। গৃহস্থালি টুর্নামেন্টে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখানো খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্যাপ্টেন রিচি বেরিংটন, অল-রাউন্ডার ড্যানিয়েল রোডস এবং স্পিনার ড্যানি রোডসের নাম উল্লেখযোগ্য। কোচিং স্টাফ দলকে শারীরিক ও মানসিকভাবে টুর্নামেন্টের চাহিদা মেটাতে প্রস্তুত করছে।
দলীয় কোচ জেমস রোডসের মন্তব্যে দেখা যায়, “আমরা কোয়ালিফায়ারে সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়ে বিশ্বকাপে আমাদের স্থান নিশ্চিত করতে চাই। আমাদের খেলোয়াড়রা ইতিমধ্যে প্রস্তুত, এবং আমরা প্রতিটি ম্যাচকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করছি।” এই বক্তব্যে কোয়ালিফায়ার ম্যাচের গুরুত্ব এবং প্রস্তুতির স্তর স্পষ্ট হয়েছে।
কোয়ালিফায়ারের গঠন সম্পর্কে ICC জানিয়েছে যে, দলগুলো দুইটি গ্রুপে ভাগ হবে এবং গ্রুপের শীর্ষ দুইটি দল সরাসরি বিশ্বকাপে অগ্রসর হবে। বাকি দলগুলো প্লে‑অফের মাধ্যমে অতিরিক্ত দুইটি স্থান অর্জনের সুযোগ পাবে। স্কটল্যান্ডের লক্ষ্য গ্রুপে শীর্ষ দুইতে পৌঁছিয়ে সরাসরি বিশ্বকাপে যাওয়া, অথবা প্লে‑অফে সফল হয়ে শেষ দুইটি স্থানের মধ্যে স্থান দখল করা।
অন্যান্য সহযোগী সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আয়ারল্যান্ড, ইউএই এবং নেপালও কোয়ালিফায়ারে অংশ নেবে। এই দলগুলোও স্কটল্যান্ডের মতোই একই সুযোগের জন্য লড়াই করবে, ফলে গ্রুপের প্রতিযোগিতা তীব্র হবে। স্কটল্যান্ডের অভিজ্ঞতা এবং পূর্বের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স তাকে এই প্রতিযোগিতায় একটি সুবিধা দিতে পারে।
কোয়ালিফায়ার টুর্নামেন্টের সুনির্দিষ্ট তারিখ ও স্থান এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে ICC জানিয়েছে যে এটি ২০২৫ সালের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত হবে। স্কটল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ড ইতিমধ্যে লজিস্টিক্স এবং ভ্রমণ পরিকল্পনা শুরু করেছে, যাতে দলটি সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারে।
স্কটল্যান্ডের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়বে। এছাড়া, স্কটল্যান্ডের সফলতা অন্যান্য সহযোগী সদস্য দেশকে উৎসাহিত করবে।
ফ্যানদের দৃষ্টিতে স্কটল্যান্ডের কোয়ালিফায়ার যাত্রা উত্তেজনাপূর্ণ এবং আশাব্যঞ্জক। সামাজিক মিডিয়ায় এবং স্থানীয় মিডিয়ায় দলকে সমর্থন জানিয়ে উত্সাহের স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে। স্কটল্যান্ডের ক্রিকেট সম্প্রদায় আশা করে যে দলটি কোয়ালিফায়ার পার হয়ে ২০২৬ টি২০ বিশ্বকাপে তার উপস্থিতি নিশ্চিত করবে।
সারসংক্ষেপে, স্কটল্যান্ডের টি২০ বিশ্বকাপের স্বপ্ন এখনো কোয়ালিফায়ার পর্যায়ে নির্ভরশীল। দলটি প্রস্তুতি, অভিজ্ঞতা এবং কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। কোয়ালিফায়ারের ফলাফলই নির্ধারণ করবে স্কটল্যান্ডের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পথ এবং ২০২৬ টি২০ বিশ্বকাপে তার উপস্থিতি।



