বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামীকাল চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় পর্যায়ের সূচনা করবেন, যা সিলেট থেকে শুরু হওয়া প্রথম পর্যায়ের পরবর্তী ধাপ। দলটি গুলশানের সদর দফতরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জানায়, আজ সন্ধ্যা ৭:৩৫টায় তিনি ঢাকায় থেকে বিমান দ্বারা চট্টগ্রাম যাত্রা করবেন এবং রাত্রিকালীন অবস্থান সেখানে হবে।
বিএনপি নির্বাচনী স্টিয়ারিং কমিটির মুখপাত্র মাহদি আমিনের মতে, চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর তারেক রহমানের প্রথম কার্যক্রম হবে একটি “যুব নীতি আলোচনা”। এই সভা শহরের একটি হোটেলে সকাল ৯:৩০টায় অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রায় ৩০০ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সভার মূল উদ্দেশ্য হল বিএনপি কর্তৃক গৃহীত নীতি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা। তারেক রহমান শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কৃষি, স্বাস্থ্য, নারী ক্ষমতায়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করবেন বলে জানা গেছে।
বিএনপি দল এই নীতি আলোচনাকে দেশের যুবসমাজের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেছে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের সমর্থন অর্জনের কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছে।
দলীয় কর্মীরা জানান, চট্টগ্রাম থেকে ক্যাম্পেইনের পরবর্তী গন্তব্যে তিনি অন্যান্য জেলা ও শহরে সফর করবেন, যা সমগ্র দেশের বিভিন্ন স্তরে বিএনপির নীতি ও কর্মসূচি প্রচারের অংশ।
বিএনপি গুলশান অফিসে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে, দলের অন্যান্য কর্মকর্তাও ক্যাম্পেইনের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন। তারা উল্লেখ করেন, সিলেট পর্যায়ে সংগৃহীত প্রতিক্রিয়া ও মতামত নতুন পর্যায়ের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিপক্ষের দিক থেকে, আওয়ামী লীগ থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, সরকারী সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনী সময়ে সকল দলকে শান্তিপূর্ণ ও আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে কাজ করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম শহরের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, এই পর্যায়ের ক্যাম্পেইন বিএনপির জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শহরটি দেশের বাণিজ্যিক ও শিল্পকেন্দ্র এবং ভোটার গঠন বৈচিত্র্যময়।
বিএনপি দল আশা করে, যুব নীতি আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও তরুণ কর্মী গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংযোগ গড়ে তুলে, তাদের উদ্বেগ ও প্রত্যাশা সরাসরি শোনা যাবে।
ক্যাম্পেইনের সময়সূচি অনুযায়ী, তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফরের পর তিনি সিলেট, রাজশাহী ও খুলনা সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জেলা পরিদর্শন করবেন, যেখানে স্থানীয় স্তরে দলীয় নীতি ও কর্মসূচি উপস্থাপন করা হবে।
বিএনপি দল উল্লেখ করেছে, ক্যাম্পেইনের পুরো সময়কালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে বজায় রাখা হবে এবং অংশগ্রহণকারী সকলের জন্য স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
এই ক্যাম্পেইন পর্যায়ের সমাপ্তি হলে, দলটি নির্বাচনী প্রস্তাবনা সংকলন করে জাতীয় পর্যায়ে উপস্থাপন করবে, যা ভোটারদের কাছে পার্টির দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করবে এবং নির্বাচনী প্রতিযোগিতার ভিত্তি গড়ে তুলবে।



