শরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশি বামহাতি পেসার, শুক্রবার রাতের পোস্ট‑ম্যাচ প্রেস কনফারেন্সে তার পারফরম্যান্সের ওপর জোর দিয়ে টি২০ বিশ্বকাপের সম্ভাব্য প্রত্যাহার নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিলেন। তিনি বললেন, বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে বিসিবির হাতে।
শরিফুল এই মৌসুমে চট্টগ্রাম রয়্যালসের হয়ে ২৬টি উইকেট নিয়ে বিপিএলের সেরা খেলোয়াড়ের উপাধি অর্জন করেন। তার ধারাবাহিক গতি ও সঠিক লাইন তাকে টুর্নামেন্টের অন্যতম উজ্জ্বল পারফরম্যান্সকারী করে তুলেছে।
চূড়ান্ত ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ৬৩ রানের পার্থক্যে জয়লাভ করে। শিরোপা জয় না করলেও, শারিফুল শেষ ওভারে দুইটি উইকেট নেয়, তবে দলকে পরাজয় থেকে রক্ষা করতে পারেননি।
বিশ্বকাপের অংশগ্রহণ নিয়ে ধারাবাহিক প্রশ্নের মুখে শারিফুল স্পষ্ট করে জানান, “বিশ্বকাপে আমরা যাবো কি না, তা সম্পূর্ণভাবে বিসিবির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।” তিনি যোগ করেন, খেলোয়াড়দের কাজ হল নিজেদের পারফরম্যান্স উন্নত করা।
শারিফুলের মতে, “প্রতিটি খেলোয়াড় তার নিজস্ব অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে, আর আমি তেমনই চেষ্টা করছি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, খেলোয়াড়দের দায়িত্ব হল মাঠে ভাল পারফরম্যান্স দেখানো, না যে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে জড়িয়ে পড়া।
বিশ্বকাপের সম্ভাব্য অনুপস্থিতি নিয়ে তিনি স্বীকার করেন, বড় ইভেন্টের আগে ফর্মে থাকা স্বাভাবিকভাবে মিশ্র অনুভূতি তৈরি করে, তবে তিনি কোনো রকম হতাশা প্রকাশ না করে বিষয়টি সংযতভাবে তুলে ধরেছেন।
শারিফুল আরও যোগ করেন, “বিশ্বকাপে যাওয়া বা না যাওয়া আমাদের হাতে নয়। আমাদের ক্রিকেটের রক্ষকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এবং আমরা তা সম্মান করি।” তিনি অতিরিক্ত আলোচনা করার কোনো প্রয়োজন নেই বলে উল্লেখ করেন।
প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকরা জিজ্ঞাসা করেন, খেলোয়াড়রা কি একে অপরের সঙ্গে বিশ্বকাপ মিস করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে এবং তা মানসিকভাবে প্রভাব ফেলেছে কিনা। শারিফুল আবার শান্ত স্বরে বলেন, অনুমান ও গুজব কেবল ক্রিকেট থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেয়।
তিনি বলেন, “আমরা পরের কী হবে তা জানি না, তাই তা নিয়ে ভাবার চেয়ে আমাদের খেলা নিয়ে মনোযোগ দেওয়া ভাল।” শারিফুলের এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, অজানা বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা না করে বর্তমানের পারফরম্যান্সে মনোযোগ দেওয়াই সর্বোত্তম।
শারিফুলের মন্তব্যে দেখা যায়, তিনি দলীয় লক্ষ্য ও ব্যক্তিগত উন্নতির ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত দায়িত্বের বাইরে রাখছেন। তার এই দৃষ্টিভঙ্গি তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য একটি উদাহরণস্বরূপ মডেল হতে পারে।
বিপিএল শেষের পর শারিফুলের এই বক্তব্য ক্রিকেট প্রেমিকদের কাছে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেয় যে, খেলোয়াড়দের প্রধান কাজ হল মাঠে নিজেদের সেরা প্রদর্শন করা, আর সিদ্ধান্তের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে বিসিবির ওপর।



