ঢাকা‑৮ আসনের জাতীয় নাগরিক দলের (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শনিবার (২৪ জানুয়ারি) শান্তিনগর এলাকায় নির্বাচনী সফরে ফ্যামিলি কার্ডের নামে ভুয়া কার্ড বিতরণে লোকজনকে ধোঁকা দেওয়ার অভিযোগ জানিয়ে তোলেন। একই দিনে তিনি আমিনবাগ ও চামিলিবাগ এলাকায় গণসংযোগের মাধ্যমে তার দাবি পুনরায় তুলে ধরেন।
প্রচারাভিযানের তৃতীয় দিনে শান্তিনগরে ভিড়ের মাঝে পাটওয়ারী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন, তবে কয়েক ঘন্টার বিশ্রামের পর শাপলা কলির পক্ষে ভোট চেয়ে আবার মঞ্চে ফিরে আসেন। তার পুনরায় উপস্থিতি সত্ত্বেও তিনি পুনরায় ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, “ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। তারা যেসব কার্ড দিচ্ছে সেগুলো ভুয়া কার্ড।”
পাটওয়ারী আরও জানান, “একদল ভিতু হয়ে ময়লা পানি আর ডিম ছুড়ে মারছে। তবে কেউ উসকানি দিলেও তাতে পা না দিয়ে ধৈর্য ধরতে হবে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন এবং নির্বাচনের পরেও সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য যথাযথ নীতি গড়ে তোলা হবে।
প্রতিবাদী দল ও স্থানীয় সংগঠনগুলো পাটওয়ারীর এই অভিযোগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন যে, ফ্যামিলি কার্ডের নামে গৃহীত কোনো অনিয়মের তথ্য আগে থেকেই জানা থাকলেও যথাযথ তদন্তের অভাব রয়ে গেছে। তবে তারা একই সঙ্গে উল্লেখ করেছে যে, নির্বাচনী প্রচারণার সময়ে এমন অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহ করা কঠিন হতে পারে।
জাতীয় নাগরিক দলের (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে পাটওয়ারীর ভূমিকা এখনো স্পষ্ট। তিনি নির্বাচনী তালিকায় নিজের অবস্থানকে দৃঢ় করতে এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন এবং ভোটারদের কাছে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, ফ্যামিলি কার্ডের নামে ভুয়া কার্ডের বিতরণ যদি সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে এটি ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তারা এই অভিযোগের পেছনে কোনো রাজনৈতিক চালচলন আছে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পাটওয়ারী নির্বাচনী প্রচারণার সময়ে উল্লেখ করেন যে, তিনি নির্বাচনের পর দোকান-পাট, বাজার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের অনিয়ম দূর করার পরিকল্পনা করেছেন। তিনি আশ্বাস দেন যে, তার দল নির্বাচিত হলে এইসব সমস্যার সমাধানে সক্রিয়ভাবে কাজ করবে।
স্থানীয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত পাটওয়ারীর অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের কথা প্রকাশ করেনি। তবে তিনি দাবি করেন যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ভুয়া কার্ডের বিতরণ বন্ধ করবে এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করবে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, পাটওয়ারী এবং তার দল নির্বাচনী রেজিস্ট্রেশন ও ভোটার তালিকা পর্যালোচনা করে সম্ভাব্য জালিয়াতি রোধের জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভোটারদের সঠিক তথ্য প্রদান এবং তাদের অধিকার রক্ষার জন্য স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে।
অবশেষে, পাটওয়ারীর এই অভিযোগের ফলে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ফ্যামিলি কার্ডের মতো সামাজিক কল্যাণমূলক স্কিমের অপব্যবহার রোধে জনসাধারণের মনোযোগ বাড়ছে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, ভোটারদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষাই তার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।



