গুলশানের শাহাবুদ্দিন পার্কে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত জাতীয় রিলস মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে একান্ত আলোচনায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বাড়াতে বিশেষ বাজেট বরাদ্দ করা উচিত, যাতে শিশুরা শৈশব থেকেই সঠিক জ্ঞান ও নৈতিকতা অর্জন করতে পারে।
প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন কেবল নতুন স্কুল ভবন বা উচ্চতর কাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়। বরং, বর্তমান শিক্ষকদের অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ প্রদানই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ শিক্ষার গুণগত মান নির্ধারণে শিক্ষক প্রশিক্ষণই সবচেয়ে কার্যকরী উপায়।
শিক্ষক প্রশিক্ষণের পরিকল্পনায় একাডেমিক দক্ষতার পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তারেক রহমানের মতে, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি নৈতিক দিকনির্দেশনা প্রদান করলে তারা সমাজে সঠিক ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে। এই প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামটি শিক্ষকদের আধুনিক পদ্ধতি ও শিক্ষণ কৌশল শিখিয়ে, ক্লাসরুমে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করার দিকে লক্ষ্য রাখবে।
নতুন স্কুল ভবন, চারতলা বা পাঁচতলা নির্মাণের বদলে, তিনি ব্যাখ্যা করেন, বাজেটের একটি বড় অংশ শিক্ষকদের অতিরিক্ত কোর্স, কর্মশালা এবং সেমিনার আয়োজনের জন্য ব্যবহার করা হবে। এতে শিক্ষকরা শিক্ষণ পদ্ধতি, মূল্যবোধ শিক্ষা এবং ডিজিটাল টুলসের ব্যবহার সম্পর্কে আপডেটেড জ্ঞান অর্জন করবেন।
আলোচনার সময় তারেকের সঙ্গে তার মেয়ে, ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। তিনি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ক তারেকের দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থন করেন। উপস্থিত সবাই এই উদ্যোগকে শিক্ষাক্ষেত্রে একটি নতুন দিক হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
সাইবার বুলিং সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বলেন, শিশুরা যদি ছোটবেলা থেকেই সঠিক ও ভুল, ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য শিখে নেয়, তবে ভবিষ্যতে অনলাইন হুমকি ও মানসিক চাপ মোকাবেলায় তারা আরও সক্ষম হবে। তার মতে, নৈতিক শিক্ষা ও ডিজিটাল সচেতনতা একসাথে গড়ে তোলা দরকার, যাতে শিশুরা নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে।
বিএনপি ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় রিলস মেকিং প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছে। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তরুণ সৃষ্টিকর্তাদের সৃজনশীলতা ও দেশপ্রেমের প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিজয়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই একান্ত আলোচনায় শিক্ষার উন্নয়ন, সামাজিক মূল্যবোধ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
প্রতিযোগিতার নাম ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট উইথ তারেক রহমান’ ছিল, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি তারেকের সঙ্গে মতবিনিময় করতে পেরেছেন। তিনি উপস্থিতদেরকে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের জন্য সক্রিয় ভূমিকা নিতে উৎসাহিত করেন এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দিতে আহ্বান জানান।
শিক্ষা ক্ষেত্রে এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নের জন্য সরকারী ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বয় প্রয়োজন। তারেকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামটি প্রথমে ঢাকা ও প্রধান শহরগুলোতে চালু হবে, পরে গ্রামীণ এলাকায় বিস্তৃত করা হবে। এতে প্রত্যেক শিক্ষকের কাছে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারক ও অভিভাবকদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ হিসেবে, শিশুরা যখন বাড়িতে বা স্কুলে নতুন জ্ঞান অর্জন করে, তখন তাদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করা এবং নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, অনলাইন কার্যকলাপের সময় পিতামাতার নজরদারি ও গাইডলাইন প্রদান করলে সাইবার বুলিংয়ের ঝুঁকি কমে যায়।
প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত উন্নয়নকে কেন্দ্র করে এই নতুন উদ্যোগটি যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, নৈতিক শিক্ষা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা একত্রে সমন্বয় করলে শিক্ষার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ ও নিরাপদ হবে।



