রাশিয়া রাতারাতি চালানো এক সিরিজ বোমা হামলায় এক ব্যক্তি নিহত এবং ২৩ জন আহত হয়েছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের ত্রিপাক্ষিক আলোচনার দ্বিতীয় দিনে ঘটেছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী অ্যান্ড্রি সিবিহা উল্লেখ করেন, এই “নৃশংস” আক্রমণ কেবল নাগরিকদের নয়, শান্তি আলোচনার টেবিলকেও আঘাত করেছে।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো টেলিগ্রাম মাধ্যমে জানিয়েছেন, শহরের এক জন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে, আর চারজন আহত হয়েছে, যার মধ্যে তিনজন বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি। তদুপরি, বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগে প্রায় ৬,০০০ বাড়ি হিটিং ছাড়া রয়েছে, যা শীতল শূন্য তাপমাত্রার মধ্যে জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে।
খারকিভের মেয়র ইহোর তেরেখভের মতে, শহরে প্রাতঃকালীন সময়ে ধারাবাহিক বোমা হামলায় ১৯ জন আহত হয়েছে। আক্রমণের ফলে একটি মাতৃ হাসপাতাল ও স্থানান্তরিত শরণার্থীদের জন্য ব্যবহৃত একটি হোস্টেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা মানবিক সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সিবিহা এই আক্রমণকে “বর্বর” হিসেবে বর্ণনা করে, এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অবস্থানকে “শান্তি বোর্ডে নয়, বিশেষ ট্রাইব্যুনালের ডকে” সীমাবদ্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাশিয়ার এই ধরনের কৌশলিক আক্রমণ শান্তি প্রক্রিয়ার কোনো অংশ নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
আবু ধাবিতে অনুষ্ঠিত ত্রিপাক্ষিক আলোচনায় রাশিয়া, ইউক্রেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ২০২২ সালের পূর্ণাঙ্গ আক্রমণের পর প্রথমবারের মতো একসাথে মিলিত হয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে ভূখণ্ড সংক্রান্ত মূল বিষয় এখনও সমাধান হয়নি, যা ভবিষ্যৎ আলোচনার মূল চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে উল্লেখ করেন, রাশিয়ার নেতা ভ্লাদিমির পুতিন তার “শান্তি বোর্ড”ে যোগদানের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। তবে ভ্লাদিমির পুতিনের পক্ষ থেকে এই আমন্ত্রণের স্বীকৃতি এখনও প্রকাশিত হয়নি, ফলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই ঘোষণার বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
কিয়েভের মেয়র আরও জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা স্থিতিশীল, এবং হাসপাতালের চিকিৎসা সুবিধা দ্রুত পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে। তাপ সরবরাহের ক্ষতি মোকাবিলায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জরুরি তাপ সরবরাহের ব্যবস্থা চালু করেছে, তবে শীতের তীব্রতা ও বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে বহু পরিবার এখনও তাপের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, রাশিয়ার সাম্প্রতিক আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাশিয়া যদি শক্তি সরবরাহকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়ে যায়, তবে মানবিক সংকট আরও বাড়বে এবং শীতল আবহাওয়ায় নাগরিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে।
বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় ২০% এলাকা, যার মধ্যে ডনবাসের কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত, দখল করে আছে। ক্রেমলিনের দাবি অনুযায়ী, ইউক্রেনকে বৃহৎ পরিমাণে ভূখণ্ড হস্তান্তর করতে হবে, যা শান্তি আলোচনার মূল বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ সত্ত্বেও, এই দাবি এখনও আলোচনার টেবিলে অমীমাংসিত রয়ে গেছে, এবং পরবর্তী মাইলস্টোন হিসেবে ভূখণ্ড সংক্রান্ত সমঝোতা নির্ধারণ করা হবে।



