ইলেকশন কমিশন (ইসি) শনিবার একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে যে, পোস্টাল ব্যালটের শেষ গণনা সময়সীমা ১২ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে চারটায় নির্ধারিত হয়েছে। এই সময়সীমার পরে কোনো ব্যালট গৃহীত হলে তা ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করা ভোটারদেরকে ব্যালট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত ভোটদান সম্পন্ন করে নিকটস্থ পোস্ট অফিস বা ডাকবাক্সে হলুদ খামের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। রিটার্নিং অফিসারকে ব্যালট পৌঁছাতে হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে চারটার মধ্যে, তখনই তা গণনায় অংশ নেবে।
ইসি সতর্ক করেছে যে, যদি পোস্টাল ব্যালট ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত পোস্ট না করা হয়, তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্নিং অফিসারের কাছে তা পৌঁছাতে ব্যর্থ হতে পারে। ফলে, পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানকারী প্রবাসী ভোটারদেরকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে তাদের ভোট সম্পন্ন করে নিকটস্থ পোস্ট অফিসে পাঠাতে হবে।
দেশের অভ্যন্তরে তিনটি শ্রেণির নাগরিক—সরকারি চাকরিজীবী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং কারাগারভুক্ত কায়েদীরা—এবার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে। এছাড়া, ১২০টির বেশি দেশের মধ্যে বসবাসকারী প্রবাসী ভোটাররাও একই পদ্ধতিতে অংশ নিতে পারবেন।
ইলেকশন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি নিবন্ধিত ভোটারের ভোট গ্রহণ করা হবে এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গণভোট সম্পন্ন হবে। এই সময়সূচি অনুসরণে পোস্টাল ব্যালটের সময়মত প্রেরণ ও গ্রহণ নিশ্চিত করা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সময়মত সমাপ্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থাপনা ও সময়সীমা নির্ধারণের পেছনে মূল লক্ষ্য হল ভোটারদের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং দূরবর্তী অঞ্চলের নাগরিকদের অংশগ্রহণ সহজতর করা। তবে, সময়সীমা মেনে না চললে ব্যালটের অগ্রাহ্য হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা ভোটারদের জন্য অনিচ্ছাকৃতভাবে ভোট হারানোর কারণ হতে পারে।
ইলেকশন কমিশন এই নির্দেশনা দিয়ে ভোটারদেরকে সময়মত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে, যাতে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদান প্রক্রিয়া কোনো ধরণের বিলম্ব ছাড়াই সম্পন্ন হয়। ভবিষ্যতে এই ধরনের সময়সীমা মেনে চলা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নির্ভরযোগ্যতা ও বৈধতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।



